ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে চারদিকে সাজ সাজ ভাব মনে হচ্ছে। সময়ের হিসাবে একটি বছর শেষ হয়ে নতুন আরেকটি বছর শুরু হতে যাচ্ছে। নববর্ষ মানেই নতুন বছর। সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

নববর্ষ নতুন ভাবনায়, নতুন সাধনায় সামনে এগিয়ে চলার পথনির্দেশ করে। অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি ও অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সকল অন্ধকারকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে হবে আলোকিত ভবিষ্যতের দিকে। অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তির চুলচেরা বিশ্লেষণ ও কঠোর আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়বদ্ধতা স্বীকার করে ভবিষ্যতে চলার পথকে প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাসহ সব মানবতাবিরোধী চিন্তা-চেতনা পরিহার করা প্রয়োজন। যা কিছু অন্যায় ও অমঙ্গলকর, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বলা বাহুল্য যে, বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কথাগুলো বলা যতটা সহজ, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেয়াটা ততটাই কঠিন।

যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান। তাই মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার জন্য একটি বিশেষ মহল ইসলামের নামে অসংখ্য সন্ত্রাসী সংগঠনকে তৈরি করেছে। ২০১৭ সালে বিচারাঙ্গানকে নিয়ে বিতর্ক ও জঙ্গিবাদকে নিয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের সমস্যা অতিক্রম করেছে। ২০১৮ সালে বিচারাঙ্গনকে নিয়ে বিতর্ক ও জঙ্গিবাদের তৎপরতা যেন নতুন করে সংকটের সৃষ্টি না করতে পারে সেই প্রত্যাশা সবার।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ একটি বড় সমস্যা। জঙ্গিবাদের বিষয়টি আমাদের সমাজে যেভাবে ঘৃণিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল বাস্তবে আমরা জঙ্গীবাদকে সেভাবে ঘৃণা করতে পারিনি। যারা ধর্মের নামে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে, তারা নন্দিত নয়, বরং তারা ঘৃণিত। মানুষ তাদের অন্তর থেকে ঘৃণা করে। বাংলাদেশের অর্জন নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে জঙ্গিবাদের উগ্র প্রভাবের কারণে। বিশেষত আমাদের মেধাবী তরুণদের এই অন্ধ বিশ্বাসের চোরাগলি থেকে উদ্ধার করে আনতে হবে। তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল কাজে, যেখানে জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে তারা যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারবে।

নতুন বছরে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ ২০১৮ সালে আরো বেশি সাফল্য নিয়ে পদার্পণ করতে পারবে।

২০১৮ সালটি সবার জন্য সুসংবাদ বয়ে আনুক। সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।