ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দাবি, তার সরকার দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। দেশের উন্নয়ন করা এটাতো খুব ভাল কথা। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলব, আপনি যেহেতু দেশের এতো উন্নয়ন করেছেন তাহলে তো জনগণ আপনাকেই ভোট দিবে! ক্ষতি কি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে?

দেশের উন্নয়ন হয়েছে, এটা ভুয়া কথা। যদি আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়ন করতো তাহলে আওয়ামী লীগ অবশ্যই দেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে প্রস্তুত থাকতো।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দাবি, তার দল আওয়ামী লীগ এবং এর প্রত্যেকটা নেতাই নাকি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। এটাও ভুয়া কথা। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন নেতা বা মন্ত্রী কখনো দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করতে পারেনা। দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করতে মানুষকে উৎসাহিত করে বলতে পারেনা, শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নেয়ার পরামর্শ দিতে পারেনা। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ অনিচ্ছা সত্ত্বেও সত্য কথাটা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নয়, তার সরকারের মন্ত্রীরাও দুর্নীতি করে। আর এজন্যেই ৯৫% দুর্নীতিবাজ এমপি-মন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, ঘুষ না নিতে বলার সাহস হারিয়ে ফেলে, সবাইকে সহনীয় মাত্রায় ঘুষ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের এই বর্ষীয়ান মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রীর অসৎ উপদেশে দেশের আওয়ামী তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতারা অবিরামভাবে দূর্নীতি ও স্বজন-প্রীতির প্রতি ঝোঁকে পড়েছেন। উদাহরণস্বরূপ বলছি, সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার একজন আওয়ামী নেতা মহিম মিয়ার কথা। এই আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তার দুই মেয়ে প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষকতা পেয়েছে। এক ছেলে সেনাবাহিনীতে চাকরী পেয়েছে। তার বাড়িতে রাস্তা হয়েছে। যে আওয়ামী লীগ নেতা মহিম মিয়া ১৫ বছর আগে ভাত খেতে পায়নি। সে আজ আওয়ামী রাজনীতির বদৌলতে কোটি কোটি টাকার মালিক!

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দেয়া তথ্যমতে, দেশে কোন উন্নয়ন হয় নাই। যা হয়েছে, তার সবই দুর্নীতি। কাজেই আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চায়না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার নয়, বরং জোরতান্ত্রিক একদলীয় বাকশালী সরকার বিদ্যমান রয়েছে। কোনভাবে একবার ক্ষমতায় যেতে পারলেই, জনগণের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে। ছলে-বলে-কৌশলে ক্ষমতাকে কিভাবে আজীবন টিকিয়ে রাখা যায়, সেই চেষ্টাতেই ব্যস্ত হয় ক্ষমতাসীন দল।

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে একদলীয় বাকশাল চলছে। নামে মাত্র একটা গৃহপালিত বিরোধী দল রয়েছে তাদের। দেশে একদলীয় বাকশাল দূর করতে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সরকার বিরোধী আন্দোলনকে সফল করতে হবে।