ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ছাত্রী নিপীড়নে জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিষ্কারের দাবিতে যারা আন্দোলন করেছিলেন, সেই আন্দোলনকারীদের পশুর মত পিটিয়ে চারদিন বাদে ২৭ জানুয়ারী শনিবার এক সংবাদ সম্মলনে আসে ‘সন্ত্রাসী’ ছাত্রলীগ। উপাচার্যের কার্যালয় অবরুদ্ধকারীদের বহিষ্কার চেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে একটি সংবাদ সম্মেলন হয়েছে, যাতে গাঁজা সেবনের অভিযোগে আটক এক ছাত্রলীগ নেতাও উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যানারের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক, ফলিত রাসায়ন বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্র আবদুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বেনজীর আহমেদ, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সাদিকুল ইসলাম ও মাহমুদুল হাসান, ভূতত্ব বিভাগের গাজী আরিফুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন।

বেনজীর সূর্যসেন হল ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা ও রক্তদান-বিষয়ক সম্পাদক। তিনি ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় গাঁজা সেবনের সময় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন। তেজগাঁও থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হলে পরে জামিনে মুক্তি পান তিনি। (সূত্র: বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম, তারিখ ২৭ জানুয়ারী ২০১৮)

উল্লেখ্য যে, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও মিডিয়াকর্মীদের পিটানোর পরও গত ২৪ জানুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদে, নির্লজ্জের মত মিছিল, মানববন্ধন আর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল ছাত্রলীগ ‘সন্ত্রাসীরা’। উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে প্রায় দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছোড়ে দিয়ে বলেছিলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে গাঁজা খায় কারা?” তখন উপস্থিত ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছ থেকে সমস্বরে উত্তর এসেছিল- ‘বামেরা’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সের উদ্দেশ্যে বলছি, গাঁজা খাওয়া ছাত্রলীগের অভ্যাস। বামদের নয়। শিক্ষাঙ্গানের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ছাত্রলীগের অভ্যাস, বামদের নয়। আর এসবের চাক্ষুস প্রমাণ হল দেশের জনগণ ও মিডিয়া।

ছাত্রলীগ নেতা বেনজীরকে ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার কারওয়ান বাজার এলাকায় গাঁজা সেবনের সময় পুলিশ হাতেনাতে ধরেছিল। প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুল সিলেট এমসি কলেজে নির্মমভাবে কুপিয়ে আহত করেছিল খাদিজাকে। মোতাহার হোসেন প্রিন্স, আপনাদের লজ্জা বলতে কিছু নেই??

আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পিটানোর পর ছাত্রলীগ সেক্রেটারী জাকির তার ফেসবুক পেইজে এই মেয়ের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “হামলার শিকার অামার অসহায় বোনেরা বিচার পাবেতো?” ছবিতে জাকিরের কথিত অসহায় বোনদের এ্যাকশান দেশের মানুষ দেখেছে। জাকির সাহেব, আপনারা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের পিটালেন। আবার আপনারাই মেডিকেলে চিকিৎসা নিলেন। বাহ জাকির সাহেব বাহ! নোংরা রাজনীতি আপনারাই ভাল জানেন। জাকির সাহেব, আপনারা সত্যি করে বলেন তো, বিচার আসলে কার পাওয়া উচিত? আসলে ভণ্ড জাকিরদের প্রধান অস্ত্রই হচ্ছে মিথ্যাচার। দয়াকরে দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভেবে এসব নোংরা রাজনীতি বন্ধ করুন।