ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মন্ত্রীসভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি আইসিটি আইনের ৫৭ ধারার চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে বলে আমি মনে করি। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপি-মন্ত্রীদের দুর্নীতি যাতে কেউ জানতে না পারে বা সংবাদপত্রে এমপি-মন্ত্রীদের দুর্নীতির খবর যাতে কোন সাংবাদিক প্রকাশ করতে না পারেন, সেজন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে আমার ধারণা।

এই ডিজিটাল আইন কার্যকর হলে, সংবাদপত্র তার স্বাধীনতা হারাবে। সচেতন মানুষ তাদের বাক স্বাধীনতা হারাবেন এবং দেশ আগাবে একদলীয় বাকশালের দিকে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হলে সাংবাদিকরা হয়রানির শিকার হবেন। মুক্তচিন্তার মানুষগুলো প্রস্তাবিত ওই আইনে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত হবেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ‘একটি কালো আইন’। এই আইন এমপি-মন্ত্রীদের দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ, হত্যা ও গুমের আলামত লুকোনোর চেষ্টা চলছে। এই আইন কার্যকর হলে ক্ষমতাসীন সরকারের এমপি-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কিছু বললেই, সেটা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

উল্লেখ্য যে, সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য-প্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো অনেক বড় আকারে যুক্ত করে ২৯ জানুয়ারি সোমবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইতিমধ্যেই সাংবাদিকদের বলে দিয়েছেন, “আপনারা (সাংবাদিকরা) গণমাধ্যমে যেভাবে এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে রিপোর্ট করেন তাতে তাদের মান-ইজ্জত থাকেনা। তাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়। তারা তো জনপ্রতিনিধি। তাই এগুলো ঠেকাতেই এ আইন করা হয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদকে বলব, আপনার সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা মান-ইজ্জত থাকার মত কাজ করলে, কেউ সমালোচনা করে তাদের মান-ইজ্জত মারতে পারবেনা। আর আপনার সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা যদি মান-ইজ্জত মারার মত কাজ করে, তাহলে শত শত আইন তৈরি করেও তাদের মান-ইজ্জত ঠিকিয়ে রাখতে পারবেন না।

কয়েকদিন আগের একটি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা:

একজন আইন প্রণেতা হয়েও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীর সাথে একই মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। থানা পুলিশ ও এক উপমন্ত্রীর উপস্থিতিতে থানা চত্বরে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামীকে মঞ্চে নিয়ে এমপি রতন সমাবেশ করেছেন। একজন আইন প্রণেতা হয়েও পলাতক আসামীকে নিয়ে তিনি কিভাবে সমাবেশ করেছেন তা নিয়ে আমি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা করেছি। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি কার্যকর হলে এমপি সাহেবের সমালোচনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়ে যাবো। সুতরাং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি সচেতন মানুষের বাক স্বাধীনতায় আঘাত হানবে।

আইন প্রণয়ন করা উচিত ছিল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। কিন্তু সরকার উল্টো আইন করেছে দুর্নীতিবাজদের রক্ষার জন্য। সচেতন প্রত্যেকটা মানুষ সরকারকে এই আইন সংসদে পাস করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।

বাক স্বাধীনতা হননের ষড়যন্ত্র নিপাত যাক,
সকল মানুষের বাক স্বাধীনতা মুক্তি পাক।
একদলীয় বাকশাল নিপাত যাক,
বহুদলীয় গণতন্ত্র মুক্তি পাক।

—এই প্রত্যাশাই রইলো।