ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

“খালেদা জিয়া এসেছে, রাজপথ কেঁপেছে। আমার নেত্রী আমার মা, বন্দী হতে দিবো না”- এই ধ্বন্নিতে মুখরিত হযরত শাহজালাল (রঃ) ও হযরত শাহ পরান (রঃ) এর পুণ্যভূমি সিলেট শহর। পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যেও বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে এক নজর দেখার জন্য সিলেট শহরের রাস্তাগুলো ছিল লোকে লোকারণ্য। মিছিলে মিছিলে উত্তাল ছিল সারা শহর। নেতাকর্মীরা ‘সিলেটে আপনাকে স্বাগতম হে দেশবাসীর প্রিয় নেত্রী’ লেখা ব্যানার নিয়ে খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানান।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে খালেদা জিয়া সড়ক পথে সিলেটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। খালেদা জিয়ার যাত্রাপথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যেন কারফিউ জারি করেছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সাজোয়া যান নিয়ে অবস্থান করেছিল রাস্তার দুই পাশে। উদ্দেশ্য খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে আসা বিএনপির নেতা-কর্মীদের কাউকে রাস্তায় দাঁড়াতে না দেওয়া। পরিস্থিতি যেন এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যাতে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে বেড়াতে পারেন যে, বেগম জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে কেউ আসেনি! বেগম জিয়ার জনপ্রিয়তা নাই।

 

 

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাস্তার দুই পাশে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাঁড়াতে দেয়নি। কিন্তু নরসিংদীতে বেগম জিয়ার গাড়ীবহরে আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের আক্রমণ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী! নরসিংদীদে বাধার মুখে পড়েছিল বেগম জিয়ার গাড়িবহর। সেখানে ‘নৌকা’ স্লোগান দিয়ে বেগম জিয়ার গাড়ীবহরে জুতা প্রদর্শন করে শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ ‘সন্ত্রাসী’ সাইফুল ইসলাম বীরুর সমর্থকরা।

 

দুপুর ১১টা ২০মিনিটে নরসিংদীর বেলানগর বাজারের কাছে, নরসিংদী জেলা কারাগারের সামনে এ ঘটনা ঘটিয়েছে আওয়ামী ‘সন্ত্রাসীরা’। হঠাৎ করেই কিছু আওয়ামী ‘সন্ত্রাসী’ সেখানে নৌকার স্লোগান দিয়ে বেগম জিয়ার গাড়িবহরে জুতা ছুড়ে দিয়েছিল। খালেদার গাড়িবহর সামনের দিকে অগ্রসর হতে বাধা দিয়েছিল। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দিলে গাড়িবহর সামনে অগ্রসর হয়।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়লে, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের বাধা ডিঙ্গিয়ে নরসিংদী থেকে সিলেট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। রাস্তার দুই পাশে জড়ো হওয়া বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধা, গণগ্রেফতার ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

আমি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বলব, একটি রাজনৈনিক দলের প্রধানের গাড়িবহরে জুতা নিক্ষেপ করা ভদ্র রাজনীতির লক্ষণ হতে পারেনা, ভদ্রতা শিখুন।