ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

নিজের প্রিয় মানুষটিকে একান্তভাবে কাছে পাওয়া বা প্রিয় মানুষটির সাথে সারা জীবন সুখে-শান্তিতে থাকা কিংবা প্রিয় মানুষটিকে মনেপ্রাণে অনুভব করাটাকেই আমরা ভালোবাসা বলে থাকি। প্রকৃতপক্ষে ভালোবাসা বলতে শুধুমাত্র জৈবিক চাহিদা মেটানোর জন্য বিপরীত লিঙ্গের প্রতি অজানা আবেগকেই বুঝায় না। সন্তানের প্রতি মা-বাবার আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা, মা-বাবার প্রতি সন্তানের নম্র আচরণ, ভাইয়ের প্রতি বোনের, বোনের প্রতি ভাইয়ের স্নেহের সেই পবিত্র বাধনকেও ভালোবাসা বলা হয়।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভালোবাসা হল বিশেষ কিছু মানুষের জন্য আদর-স্নেহ, মায়া-মমতার শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ। ভালোবাসা আদর-স্নেহ, মায়া-মমতার নাম। তবে বিবাহ বর্হিভূত দুটি ছেলে-মেয়ের মিলনকে ভালোবাসা বলা যায় না। কারণ, এই ভালোবাসার প্রধান উদ্দেশ্যই হল ধোকা দিয়ে দৈহিক বাসনাকে পূর্ণতা প্রদান করা!

ইদানিং ভালোবাসা বলতেই দুটি ছেলে-মেয়ের শারিরিক সম্পর্কে বোঝানো হয়। আমি এরকম ভালোবাসার সাথে একমত নই। মানুষের আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা, আবেগ ও দায়িত্ববোধ থেকে জন্ম নেয়া একটি মানবিক গুনের নাম ভালোবাসা। মা-বাবা, ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবার প্রতি ভালোবাসা। তাই ভালোবাসার মতো একটি মানবিক গুণকে কেবলমাত্র দুটি ছেলে-মেয়ের দৈহিক সম্পর্কের মানদণ্ডে বিচার করলে সত্যিকার ভালোবাসাকে ছোট করা হবে। যারা যুগে যুগে ভালোবাসা দিয়ে মানবতাকে জয় করেছেন, তাদেরকে ছোট করা হবে।

আজ ফাল্গুনের দ্বিতীয় দিন, ১৪ই ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে স্বাগত জানায় বাঙালি। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে দেখলাম, ভালোবাসা দিবস উদযাপন করা নিয়ে কিছু মানুষের চুলকানি শুরু হয়েছে। ওইসব নিন্দুকদের মুখে চুনকালি পড়ুক।

আসুন, ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসি প্রিয়জনকে, ভালোবাসি মা-বাবাকে, ভালোবাসি ভাই-বোনকে, ভালোবাসি পাড়া-প্রতিবেশীকে এবং ভালোবাসি সেই সব অসহায় মানুষদেরকে, যাদের ভালোবাসার মত কেউ নেই।

সবাইকে জানাই ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা!