ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

আমার চক্ষে পুরুষ-রমনী কোনো ভেদাভেদ নাই।
বিশ্বে যা-কিছু মহান্ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা দিয়ে নারীদের সম্পর্কে লেখা শুরু করছি – ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস!

নারীর অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে দিবসটি ব্যাপক আয়োজনের সাথে পালিত হচ্ছে। সভ্যতার প্রতিটি ধাপে ধাপে রয়েছে নারীর অবদান। প্রত্যক্ষভাবেই হোক, আর পরোক্ষভাবেই হোক, নারীর মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা ও মমতা জড়িয়ে আছে মানব সভ্যতার বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধনে। প্রাচীনকাল থেকেই সংসার পরিচালনা এবং সন্তান লালনপালন ছাড়াও কৃষিকাজ ও কুঠির শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। আর বর্তমানে তো নারীরা একই সাথে পরিচালনা করছেন পরিবার, কর্মক্ষেত্র, সমাজ এবং রাষ্ট্র।

নারী সমাজের জন্য এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মানুষ হিসেবে একজন নারীর পরিপূর্ণ অধিকারের স্বীকৃতি মিলেছে এ দিনটিতে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে, আমাদের দেশে নারীর প্রতি বৈষম্য দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত প্রসারিত।

নারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সব ধরণের প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে নারীদের এগিয়ে নিতে হবে! পরিশেষে বলবো, নারীর সম্মান যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই সার্থক হবে নারী দিবস।