ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

একাত্তর সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি শাসকদের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে, অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, “আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।” বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ভাষণের গুরুত্ব অনুধাবন করে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো তার ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু আজকে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে, বিরোধী মত ও দলের ওপর যে দমন-পীড়ন চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে আজকে যদি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকতেন তাহলে তিনি আবার তার ৭ মার্চের ভাষণের পুনরাবৃত্তি করতেন।

গত ৮ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। কর্মসূচিতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানাতে থাকেন দলটির হাজার হাজার নেতা-কর্মী। কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি এবং ২০ দলীয় জোটের নেতাদের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের ছাত্রদল সভাপতি মিজানুর রহমান খানকে ধরে টানা-হেঁচড়া শুরু করে পুলিশ।

 

 

 

এ সময় বিএনপি মহসচিব পুলিশদের অনুরোধ করে বলেন, কর্মসূচি শেষ হবার পর আপনারা যা খুশি করবেন। আপাতত আমাদের কর্মসূচিতে ব্যাঘাত ঘটাবেন না।

 

মীর্জা ফখরুলের কথায় কর্ণপাত না করে পুলিশ ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমানকে ধরে বিবস্ত্র করার জন্য টানা-হেঁচড়া করতে করতে ফুটপাতে বসা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বসা থেকে ফেলে দেয়!

এসময় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী মাইকে পুলিশদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে বলতে থাকেন, “আমরা তো শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছি। পুলিশ ভাইয়েরা আপনারা এসব কী করছেন! আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে দিন।”

 

 

 

কেন্দ্রীয় নেতাদের বসা থেকে ফেলে দিয়ে তাদের সামনেই দলের একজন কর্মীকে টেনে-হিঁচড়ে বিবস্ত্র করা কোন ভদ্র রাজনীতির আলামত হতে পারে না। সরকারকে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ উপলব্ধি করার যে পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দিয়েছেন, আমি তার সাথে একমত পোষণ করছি। ৭ই মার্চের ভাষণ যদি সরকার উপলব্ধি করতে পারতো, তাহলে বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়নের পরিবর্তে নমনীয় হতো।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রচণ্ড নির্যাতন সত্ত্বেও হরতাল ও অবরোধের মত ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির পরিবর্তে বার বার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য আমি বিরোধী দল বিএনপির সকল নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে আমি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বলছি, ক্ষমতাকে একক ভাবে কুক্ষিগত করতে আপনারা বিরোধী দল ও বিরোধী মতের ওপর যে দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন তা অবিলম্বে বন্ধ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে এগিয়ে আসুন। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে আপনাদের জনপ্রিয়তা শুণ্যের কোটায় গিয়ে দাঁড়াবে।