ক্যাটেগরিঃ কৃষি

ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের হুমকিতে পৃথিবীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় অন্যতম বাংলাদেশ। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, আগাম বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানকার একটি নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব হল প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে মানুষের কোনো হাত নেই। তবে জলবায়ু ও পরিবেশের উন্নয়নে সচেষ্ট ও সচেতন হলে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাস পেতে পারে।  প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়ে সচেতন থাকলে এর ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। আর তা যদি যথাযথভাবে মোকাবেলা করা না যায়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকগুণ বেড়ে যায়। তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

আমাদের দেশে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক সম্প্রদায়। যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রথমেই ধাক্কাটা লাগে কৃষক সম্প্রদায়ের ওপর। অতিবৃষ্টি-অনাবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, আগাম বন্যা, ঘুর্ণিঝড় সব কিছুতেই সবার আগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষকেরা। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে শুধুমাত্র কৃষকদের ফসলেরই ক্ষতি হয়। আর এতে মানুষের কোনো হাত নেই। কিন্তু আগাম বন্যায় কৃষকের ফসলের যে ক্ষতি হয়, তার দায় রাষ্ট্র অথবা হাওরের বেড়ি বাঁধ নির্মাণের সাথে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো এড়াতে পারেনা।

অতিবৃষ্টি বা ভারী বর্ষণের কারণে আগাম বন্যা দেখা দেয়। আর এই দুর্যোগটি প্রতিরোধ করা না গেলেও, হাওরের বেড়ি বাঁধে সঠিকভাবে কাজ করলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। কিন্তু কিছু দুর্নীতিবাজ লোকদের কারণে হাওরের বেড়ি বাঁধগুলোর কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়ার কারণে গত বছর সুনামগঞ্জ জেলার ছোট বড় ১৫৪টি হাওরের বোরো ধান আগাম বন্যায় তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৯০টি কৃষক পরিবার। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় গত বছর এ সময় ছিল ফসল হারানো কৃষকদের করুণ হাহাকার। একের পর এক হাওরের ফসলহানিতে তখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিল তারা।

হাওর জুড়ে এ বছর সবুজ ধানের বিশাল সমারোহ। হাওরের সবুজ ধানের মিষ্টি গন্ধে কৃষক সম্প্রদায় আনন্দে নাচছে। ধান পাকছে, আশা জাগছে কৃষকের মনে। গত বছরে নিঃস্ব কৃষক এবার কষ্টে ফলানো ধান গোলায় তোলার স্বপ্ন দেখছে। চলতি মৌসুমে ফলন ভাল হবে বলে মনে করছে তারা। তাই তাদের চোখে মুখে আনন্দের ঝিলিক।

বৈশাখ আসছে, আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। বৈশাখ এলেই হাওরে হাওরে শুরু হবে ধান কাটার উৎসব। আজ সন্ধ্যায় কথা বলেছিলাম কৃষক আক্তার হোসেনের সাথে। ধানের কী অবস্থা, কতদিন লাগবে ধান পাকতে, সেটা নিজের চোখে দেখার জন্য প্রতিদিন এক চক্কর সে হাওরে যায়। বড় কষ্টে এবার জমিতে ধান লাগিয়েছে সে। বুকভরা আশা তার, এবার ধান তুলতে পারবে। গত বছরের ফসল হারানোর কষ্ট কেটে যাবে তার।

কৃষক আক্তার হোসেনের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের অন্তর্গত চাঁন্দবাড়ি গ্রামে। গ্রামের পাশেই গজারিয়া হাওরে এক একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছে সে। গত বছরও একইভাবে ধান লাগিয়েছিল। কিন্তু সব ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। একটা বছর খুব কষ্টে কাটাইছি। খেয়ে না খেয়ে দিন গেছে বলছিল কৃষক আক্তার হোসেন।

কৃষকেরাই খাঁটি মানুষ, সহজ-সরল মানুষ, প্রকৃত মানুষ, সোনার মানুষ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের মূখে হাসি দেখলে মনে হয়, বাংলাদেশ হাসছে। তাই কৃষকদের সব সময় হাসি খুশিতে দেখতে চাই!