ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

সাভার পিএটিসি শাখা সোনালী ব্যাংকের একটি ক্রস চেক ইসলামী ব্যাংক আইডিবি শাখা থেকে কালেকশনের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সাভারের সেই ব্যাংকে পাঠানো হয় ২৮/০৬/২০১১ তারিখে। সেটি দ্রুত ও যথাসময়ে হাতে পাবার পর সরকারের ডিজিটালাইজেশনের আওতাবহির্ভূত ম্যানুয়াল ও এনালগ পদ্ধতির ধারক-বাহক সাভার পিএটিসি শাখার সোনালী ব্যাংক তা আবার পিএটিসি শাখা পোস্টঅফিস থেকেই রেজিস্ট্রি ডাকে ইসলামী ব্যাংক আইডিবি শাখায় পাঠায় ০৬/০৭/২০১১ তারিখে। এতে ঢাকা থেকে চেকটি প্রাপ্তির পর তা আবার ০৬/০৭/২০১১ তারিখে ঢাকায় প্রেরণে সময় গেলো মোট ০৯দিন।

চেকটি আমার কাছে ডাকেই পাঠানোর কথা থাকলেও সশরীরে গিয়ে তা আনার জন্য পরে ঢাকার অধিবাসীদের সবাইকে পিএটিসি কর্তৃপক্ষ অনুরোধ জানায় এবং ঢাকার বাইরের অফিসারদের ডাকে পাঠায়। তাই আমি ২৮জুন সকালেই যানজট ঠেলে অফিস ফাঁকি দিয়ে চেকটি আনতে বাধ্য হই এবং আইবিবিএল আইডিবি শাখায় জমা দিয়ে তা ওইদিনই সাভার পিএটিসি শাখা সোনালী ব্যাংকে পাঠানোর ব্যবস্থা করি যাতে প্রাপ্য টাকাটা দ্রুতই হাতে পেতে পারি। কিন্তু আজ পর্যন্ত (১৯ জুলাই) সেই চেকের টাকার মুখ আমি দেখতে পেলাম না?

আই ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং বা অটোমোশন সিস্টেম চালু থাকলে আন্তঃব্যাংকিং পদ্ধতিতে ২৮ জুনই কি আমার টাকাটা আমি আমার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে পেতে পারতাম না?!! অবশ্যই পেতাম, বিদেশে কিন্তু সেটাই হয়, কাউকে সশরীরে কোন প্রতিষ্ঠানে যেমন বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় না তেমনি ডাকেও চেক পেতে হয় না। চেকের টাকা একাউন্টে চলে এলে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে যখন তখন যেখান থেকে খুশী এটিএম বুথে গিয়েও তা তুলে নেয়া যায়।

আমি আমার চেকটির টাকা প্রাপ্তির ব্যাপারে যথেষ্ট গলদঘর্ম ও হয়রান যেমন হয়েছি তেমনি আইডিবি’র আইবিবিএল ম্যানেজারসহ অন্যরাও কিন্তু কম হয়রান হয়নি? তারা সাভার পিএটিসি শাখা সোনালী ব্যাংকের লোকদের সাথে অন্তত ৮/৯ দিন কথা বলেও চেকের হদিস পাননি। তারা বলেছেন যে, চেক পেয়ে তারা সাভার পিএটিসি শাখা ডাকঘরের মাধ্যমেই (একটি ডিডি) রেজিষ্ট্রি করে পাঠিয়েছেন ০৬ জুলাই। এমনকি তারা এটাও বলেছেন যে, ৬-৭ জুলাই হরতাল, ৮-৯ সরকারী ছুটির পর ১০-১১ জুলাই আবারো হরতাল থাকায় দেরী হওয়াই স্বাভাবিক। কতদিন দেরী হলে অস্বাভাবিক হবে তা কিন্তু তারা বলেনি!!

আমি ৮/৯দিন শতবার ফোন করেও সেই সোনালী ব্যাংকের কাউকে পাইনি কারণ কেউ ফোন যেমন ধরেনা তেমনি শুধু এনগেজ টোন পাই। পরে অনেক কষ্টে গত ১৪ জুলাই একজন ফোন ধরে একই কথা শুনান যে, ৬ জুলাই ডিডি রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো হয়েছে। বললাম-ডাকে না পাঠিয়ে চেকের মত জরুরি কেসগুলো কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠান না কেনো?
ঃ সরকারী ডাকের বাইরে অন্যভাবে চিঠিপত্র পাঠানোর কোন স্কোপ বা নির্দেশ নেই, তাই—সোজা উত্তর?

এরপর তার কাছে তারই পাশের পিএটিসি শাখা ডাকঘরের ফোন নম্বরটি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকার ও অপারগতা প্রকাশ করেন। ১৭ জুলাই আমি সেখানে ফোন দিতে দিতে এবার ধরলেন সেখানকার মহিলা ব্যাংক ম্যানেজার। তিনি বললেন যে, আমার ব্যাপারটি শুনেছেন কিন্তু আজ নাকি সিরিয়াসলি খোঁজ-খবর করে দেখবেন ইত্যাদি । তিনি্ও আমাকে জানান যে, সরকারী ডাকই নিরাপদ এবং অন্য কোন কুরিয়ার নাকি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য নয়, তাই সরকারী ডাকে পাঠাতে তারা বাধ্য। আমার মত গ্রাহকদের এত ভোগান্তির পরও এমনকি ডাকের মাধ্যমে এক সেনাসদস্যের চেক কালেকশনে একমাসেরও বেশী সময় লেগেছে স্বীকার করার পরও তিনি ডাকের মাধ্যমেই চেক পাঠানোর পক্ষেই যুক্তি ও সাফাই গাইলেন। কিন্তু ভালো সেবার বদলে তবু দ্রুততম মাধ্যম বা কুরিয়ার সার্ভিসের মত দ্রুত মাধ্যম গ্রহনের বিপক্ষেই মত দিলেন যে, এতে নাকি সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়।

যাহোক, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপটি আমার খুবই পছন্দ, অন্যে যে যা-ই বলুক না কেনো। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আমাদের সামর্থ্য কী আছে নেই, সে বিতর্কে না গিয়ে শুধু এতটুকুই বলবো যে, আমার সামনে প্রচুর খাবার থাকা আর আমার হজমের সামর্থ্য থাকাই কিন্তু যথেষ্ট নয় যদি আমার আদৌ খাওয়ার সাধই না থাকে? তাই সামর্থ্যই যথেষ্ট নয়, প্রচুর সাধও থাকা জরুরি যে কোনো কাজের ক্ষেত্রে। প্রধানমন্ত্রীর সাধ ও স্বপ্ন যথেষ্টই আছে, সামর্থ্যও যে নেই তাও বলা যাবে না। আর সামর্থ্যের মধ্যে পড়ে—অর্থ-সম্পদ, দক্ষ জনবল বা জনশক্তি, বাস্তব পরিকল্পনা ইত্যাদি।

সেটি ব্যাখ্যার আগে দেখি সাদামাটা অর্থে ডিজিটাল মানেটা কী? আমাদের নাগালের মধ্যে যে, ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসগুলো আছে—যেমন কম্পিউটার, ফোন, মোবাইলফোন, টিভি, রেডিও, ইত্যাদিকে কাজে লাগিয়ে আমাদের ম্যানুয়াল ও এনালগ কর্ম পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করে তোলা যাতে অল্পায়াসে, কম পরিশ্রমে এবং অল্পসময়ে অনেক কাজ ও অনেক আউটপুট পেতে পারি। মানে বিন্দুতেই সিন্ধুর মত বিশাল অর্জনের মাধ্যমে দেশ-জাতিকে দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেয়াই ডিজিটালাইজেশনের মুল উদ্দেশ্য।

ই গভার্নেন্স, ই-কমার্স, ই-টেন্ডার, ই-বুক, ই-লাইব্রেরী, ই-পোস্ট, ই-বিল, ই-ক্যাশ, ভিডিও কনফারেন্স, মোবাইল মানি, ক্রেডিট কার্ড, এটিএম বুথ ও সার্ভিস, অনলাইন মার্কেট, অনলাইন ব্যাংকিং, অনলাইন ক্রয়-বিক্রয়, ফ্লেক্সিলোড, স্ক্র্যাচকার্ড, ক্যাশকার্ড, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ইত্যাদিই হল ডিজিটালাইজেশনের একেকটা ধারনা। এককথায়, সময়, শ্রম ও দূরত্বকে কমিয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতাকে বাড়িয়ে জনসেবাকে মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছানোই হচ্ছে ডিজিটালাইজেশনের আসল লক্ষ্য।

প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মত ক্ষত-বিক্ষত দেশও এসব ক্ষেত্রে অনেকদূর এগিয়ে গেলেও আমরা বহু পেছনে পড়ে আছি বলেই প্রধানমন্ত্রী হয়তো এমন উদ্যোগ নিয়েছেন, যাকে খারাপ বলার তেমন সুযোগ নেই। এদেশের মোবাইল কোম্পানী থেকে শুরু করে বেসরকারী ব্যাংকিং খাতে এ ধরণের সেবাগুলো আমরা কিন্তু কিছুটা পেয়ে আসছি। সরকারী পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক সহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো যত তাড়াতাড়ি ডিজিটালাইজড হবে ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। তবেই আর ৯টার গাড়ি কটায় ছাড়ে’ জাতীয় কৌতুক শুনতে হবেনা।

তবে ডাক বিভাগ বা সোনালী ব্যাংকের এ ধরনের সরকারী কিছু অফিসারের পশ্চাদপদ মানসিকতার দরুন আমরা কিন্তু যেমন পিছিয়ে আছি তেমনি বোধ’য় থাকবোই– যদি না এদের মাইন্ডসেট আদৌ বদল হয়।