ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

আর কত দিন যৌতুকের গ্রাসে লাঞ্ছিত হবে মানবিক মর্যাদা। ভেঙে যাবে ফারজানার মত হাজারো বোনের স্বপ্নের সংসার। নারী জাতির জন্য এটা কত ভংয়ঙ্কর তা প্রতিদিনের পত্রপত্রিকা পাতা খুলেলই চোখে পড়ে। যৌতুক প্রথা নিবারণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই । নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য সরকার কঠোর আইন করেছে।সামাজিক জনমত এর বিরুদ্ধে। তবু যৌতুক প্রথা অব্যহত গতিতে চলছে এবং এর দুঃজনক পরিণতি ভোগ করছে নারীরা । কেন চলছে এই যৌতুক নামি নির্যাতন, কেন বন্ধ হছে না এই যুলুম, এই কি শিক্ষার অভাব । না আমার মনে হয় এ হলো নৈতিক শিক্ষার অভাব।নৈতিক শিক্ষার আর্দশ শিক্ষক ছিলেন মুহাম্মদ (সা)। সে শিক্ষার ফসল ছিল একটি সুন্দর-সুস্থ্য বিবেগ।

কুরআনে আল্লাহ বলেন-“তোমাদের মধ্যে যাহারা আল্লাহ আখিরাতকে ভয় করে এবং আল্লাকে অধিক স্মরণ করে, তাহদের জন্য মুহাম্মদ (সা) এর মধ্যে রহিয়াছে উত্তম আর্দশ। সূরা আহযাব ২১

নৈতিক চরিত্রের সর্ম্পকে হাদীসে আছে, ইমাম মালিক রা থেকে বর্ণিত,তার কাছে মুহাম্মদ (সা) এর বাণী পৌছেছে যে, তিনি বলেছেন আখলাকের সৌন্দর্যকে নিখুত ও পরিপূর্ণ করার জন্য আমাকে পাঠানো হয়েছে। (মুয়াত্তা)

যাহেলিয়া যুগে মানুষের নৈতিক চরিত্র এত খারাপ হয়েছিল যে তারা ন্যয় অন্যায় বিবেচনা করতনা। তাদের একটি আর্দশ ছিল তারা তাদের গোষ্টী ও ভাই অন্যায় করলেও তার পক্ষ নিত। মুহাম্মদ (সা) তাদের মাঝে এমন এক নৈতিক শিক্ষা প্রচার করেন যার ফল স্বরুপ যখন মুহাম্মদ (সা) বলেন তোমরা অত্যাচারী ও উৎপীড়িতকে সাহায্য কর তখন এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন ইয়া মুহাম্মদ (সা)উৎপীড়িত হইলে তো তার সাহায্য করিবই-কিন্তু অত্যাচারীকে কিরুপে সাহায্য করিব? তিনি বলিলেন তাহাকে অত্যাচার করা হইতে বাঁধা প্রদান করাই হইবে তাহাকে সাহায্য করা।(বুখারী ও মুসলিম)

বর্তমান সময়েও আমরা এই আর্দশ শিক্ষার বাস্তাবায়ন করে আর্দশ জাতি গড়ে তুলতে পারি। তাই আজ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে মুহাম্মদ (সা) এর শিক্ষা নীতি প্রণোয়ন করা। সেই শিক্ষার প্রভাবে গড়ে উঠবে বিবেগবান,সৎ ও স্বদেশ শ্রেণী একটি আর্দশ সমাজ ও রাষ্ঠ্র। আর তাই যৌতুকের কারণে প্রাণ দিতে আমাদের বোনদেরকে এবং ভেঙ্গে যাবে না একটি নারীর স্বপ্ন।