ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করে কি পাপ করলাম। ঢাকায় আসার পর থেকে যখন কারো সাথে বলি আমার গ্রামের বাড়ি বরিশাল, তখনই আমার দিকে আড় চোখ তাকানো শুরু করে দেয়। বাসা ভাড়া নিতে গেলেও বরিশালের নাম শুনে বাসা ভাড়া দিতে চান না বাড়িওয়ালারা। অবহেলা আর অরুচির চোখে দেখে আসছে আজ কিছু মানুষ বরিশালের মানুষেক। ২০০৮ সালে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েছিলাম “আবুল খায়ের টোব্যাকো”-তে প্রথমেই আমাকে জিজ্ঞেস করল আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়। বরিশাল বলামাত্রই কর্মকর্তা সাহেব আমাকে বলেলন দু:খিত আমরা বরিশালের লোককে আপাতত এই পদের জন্য নিয়োগ দিতে পারছিনা। অগ্যতা বের হয়ে এলাম। আর মনে মনে একটা নি:শ্বাস ছাড়লাম বরিশালে জন্ম হওয়াটা কি আমার জন্য পাপ না অভিশাপ। এরপর বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ বিজ্ঝপ্তিতেও একই অবস্থা। বরিশাল জেলা বাদ দেয়া হয় সবার আগে। জানিনা বরিশালের মানুষ কোন কালে কি এত বড় অন্যায় দেশ ও দেশের মানুষের সাথে করেছিল, যার জন্য আজ আমরা বরিশালের মানুষেরা পদে পদে লাঞ্ছিত হচ্ছি। আমরা কি পারিনা সরকারী কোন উচ্চ পদস্থ কেত্রে অধিষ্ঠ হতে। সরকারি ভাবে যখনই কোন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসে প্রায় দেখা যায়, যে জেলার প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন সেখানে সর্বপ্রথম বরিশাল জেলা বাদ দেয়া হচ্ছে। হাতে গোনা দু’একটি স্থলে বরিশাল জেলা অন্তর্ভুক্ত থাকলেও এম এল এস এস কিংবা গার্ড বা ড্রাইভার। বরিশালের মানুষ কি পারেনা বড় কোন কাজ করতে।

এই অবহেলিত জেলায় জন্মগ্রহণ করে আমি আজও গর্বিত কারণ এই বরিশালেই জন্মেছিলেন বাংলার বাঘ `শের-এ বাংলা একে ফজলুল হক। কবি জীবননান্দ দাস। এদের স্মরণ করি আর বলি তোমাদের জন্মভূমির মানুষ আজ বাংলার কিছু মানুষের কাছে তুচ্ছ, বিব্রতকর, ভয়ঙ্কর বলে পরিচিত হয়ে উঠেছে, তোমরা ওপর থেকে দোআ কর যাতে তোমাদের মত কেউ আবার এই বরিশালে জন্মে এর মূখ দেশ দরবারে সমুজ্জল করতে পারে আমাদের মত অবহেলিত এ জেলার মানুষের।

মন্তব্য ৮ পঠিত