ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 
Partho-Inner

সমস্যা: টক শোতে অনেক সময় এর সঞ্চালক ও আলোচককে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সমাধান: সঞ্চালকের বুকে নেইম কার্ডে “সঞ্চালক” বড় করে লিখে ঝুলিয়ে দিতে পারি।” এ-রকম নানা সমস্যা টক শো দেখতে/ শুনতে গিয়ে টিভি দর্শক-শ্রোতার বিড়ম্বনা, বিরক্তি ও বিরাগের কারণ হয়। চ্যানেল ছেড়ে গেলেও বিরক্তির রেশটা থেকে যায়। নিচে টক শোর সমস্যাগুলোর কিছু সম্ভাব্য সমাধান তুলে ধরছি। পাঠক, এর বাইরে টকশো-র আরও সমস্যা ও সমাধান আছে। আপনিও যুক্ত করুন সেসব সমস্যা ও সমাধান প্রস্তাবনা।

সমস্যা: অনেক চ্যানেলে টক শোতে এমন সব আলোচনার জন্য আলোচককে বলা হয় তাতে আলোচক নিজেই বিরক্ত হন। এমনি একটি ঘটনা আমি নিজেই প্রত্যক্ষ করেছি যেখানে বিশিষ্ট একজন সাংবাদিক-সম্পাদক আলোচনার আহ্বান পেয়ে সঞ্চালকের উপর বিরক্তি সরাসরি প্রকাশ করেছিলেন।

সমাধান: অডিয়েন্সের রুচি বা বিরক্তি বুঝে এইসব চ্যানেলের পরিচালক / কতৃপক্ষের টক শোর বিষয় নির্ধারণ করা উচিত।সঞ্চালকেরও তা ভাবা উচিত এমন প্রশ্ন করা যার টকশো ভ্যাল্যু আছে। এ ব্যাপারে টিভি চ্যানেল এর যেমন মনিটরিং বিভাগ থাকা দরকার। তেমনি সরকারি কতৃপক্ষেরও মনিটরিং বিভাগ থাকা ও মনিটরিং করা দরকার।

সমস্যা: টক শোতে আলোচকেরা অনেক অনেক সময় পক্ষ বিপক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে। তাদের মারমুখি টক অনেক সময় ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

সমাধান: তাদের পারস্পরিক মারমুখি টু মারামারির আশঙ্কা থেকে মুক্তির জন্য তাদের কাঁচের কক্ষে বসিয়ে টকশো অনুষ্ঠান চালানোর মতো সেট ডিজাইন করা উচিত।

সমস্যা: টক শোকে কখনও মনে হয় চাকুরির ইন্টার্ভিউ বোর্ড। সঞ্চালক আলোচককে প্রশ্ন করছেন এমন চেহারায় যেন দেখে নেবেন বলে “দেখি আপনি কত পড়ালেখা জানেন”।

সমাধান: আরও মার্জিত সঞ্চালকসুলভ গুণাবলী সম্পন্নদের সঞ্চালক হওয়া উচিত।

সমস্যা: সঞ্চালককে কখনও মনে হয় তিনি নিজের পরিচয়/ভূমিকা ভুলে যান। তিনি আলোচক হয়ে যান।

সমাধান: সঞ্চালকের জন্য একজন সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ক দরকার যে ও-সময় কানে কানে বলে দেবেন “হেই!  আপনি কে? ভুলে গেলেন, আপনি তো সঞ্চালক”। 

সমস্যা: দেখা যায়, এমন স্টেটমেন্ট এর উপর মতামত দিতে বলা হয় যা (স্টেটমেন্ট) অথেন্টিক নয়। বিশিষ্ট কয়েকজন আলোচককে সে ক্ষেত্রে সঞ্চালকের উপর রেগে যেতে দেখা যায়। 

সমাধান: আগে থেকে রেডি করা স্টেটমেন্ট। এগুলোর অথেন্টিসিটি আগে থেকে রেডি করে রাখা উচিত। না হলে জাঁদরেল আলোচক ছাড়বেন কেন? কারণ মূল স্টেটমেন্টই তিনি মনে করেন বায়াস্ড বা ভুল।

সমস্যা: আলোচক কথা ও মতামত দেওয়া শুরু করল, মাঝপথে সঞ্চালক তাকে থামিয়ে বাকিটা তিনি নিজে বললেন। ভাবটা এই খালি আপনি বলবেন, আর আমি মনে হয় শুনবো। লোকজন ভাববে কী? সঞ্চালক হিসেবে আমি মনে হয় কিছুই জানি না। হানিফ সঙ্কেতের কৌতুক মনে পড়ে যায়।

সমাধান: লোভ সংবরণ করা দরকার।

আসুন, আপনিও যুক্ত করুন যত সমস্যা ও সমাধান প্রস্তাবনা, তাতে নতুন এই শিল্প যেমন উপকৃত হবে, দর্শকগণও অনেক ধরনের বিড়ম্বনা, বিরক্তি ও বিরাগের হাত থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা রাখি।