ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

10_400x50_blog

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনার আত্মসমালোচনার সময় হয়েছে। আপনার প্রতি হতাশ হয়েছি অনেক আগে, তা আপনার কাজের ধরন দেখে। ঠিক যা যা ভেবেছিলাম, তাই তাই ঘটে চলেছে। আমার বিবেচনা বলে, হয়ত সামনেও তাই তাই ঘটে যাবে। না ঘটুক। ভুল হোক ভবিষ্যতের ধারণা। আপনি জানেন, ইতোমধ্যে জাতির মেরুদন্ড আক্রান্ত হয়ে গেছে। ভাংবে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেলে। ভুলিয়ে ভালিয়ে রং মেখে বেশি দিন শিক্ষা চলে না। মুড়ির টিন মারকা রদ্দি গাড়ি রং মেখে বারবার চালানো দেখে শিক্ষায় সে এপ্রোচ চালিয়েছেন আপনি। আপনার হাতেই যদি ভেঙে পড়ে জাতির মেরুদন্ড- শিক্ষা, ইতিহাসে আপনার অবস্থান কোথায় হবে? আমাদের সন্তানদের কী হবে? তাই, সময় থাকতে শিক্ষার মান, জাতির মেরুদন্ড এবং নিজের মান, রক্ষা করুন, রক্ষা করুন, রক্ষা করু্‌ন, রক্ষা করুন, রক্ষা করু্‌ন, রক্ষা করুন, রক্ষা করু্‌ন, রক্ষা করুন, রক্ষা করুন…। এটা জাতির প্রাণের দাবি কিনা আপনাকে ভাবতে হবে, চিন্তা করতে হবে। সে অনুসারে সাড়া দিন।

আপনি ১৪  অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে বলেছেন, “শিক্ষার মান আগে ছিলই না”। আগে, সেটা কখন? কখন থেকে শিক্ষার মান আছে? আপনি তো অনেক দিন থেকে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। একটা মেয়াদ শেষ করলেন। এই কথা কি আপনার মুখে মানায়? এত দিন পর‍ বলছেন, ‘আমরা বিশ্বমানের শিক্ষা চাই। শিক্ষার মান আগে ছিলই না, এখন মানসম্পন্ন শিক্ষা হচ্ছে। তাই মান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।শিক্ষার এই মানকে আরও উন্নত করে বিশ্বমানের করে তুলতে চাই।’ বিশ্বমানের শিক্ষা করার জন্য আর কত দিন লাগবে?

আপনি একজন শিক্ষামন্ত্রী। আপনার মুখে আরও অথেন্টিক কথা শুনতে চাই আমরা। এরকম নন এভিডেন্স বাগাড়াম্বর কোনো শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমরা শুনতে চাই না। আপনার জানা উচিত-“দেশের শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষিত সমাজ চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন”(আবুল মোমেন, ২০১৪, প্রআ)। তাদেরকে দুশ্চিন্তামুক্ত করুন, দয়া করে। তাই, আবুল মোমেন-এর মতো আমিও বলতে চাই, “উষ্মা নয়, সঠিক পদক্ষেপ চাই”। আমি আপনাকে লেখাটি পড়ে দেখতে অনুরোধ করছি। তাঁর মতে আমাদের মত, “প্রাথমিকে শতভাগ ভর্তি, বছরের প্রথম দিনে সবার জন্য বিনা মূল্যে বই, চমকপ্রদ ফলাফল সত্ত্বেও বলব শিক্ষার শেষ বিচার তো হলো ছাত্র কী শিখেছে।”

যে কোনো কিছু শুরু করলে তা পুরোটাই প্রয়োগ করা উচিত। না হলে এরকমই হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য আবদুল মতিন পাটওয়ারীর মতে, “যুক্তরাষ্ট্রের অনুকরণে পরীক্ষায় বর্তমান গ্রেড পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। কিন্তু গ্রেডিংয়ের নম্বর বিভাজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুকরণ করা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখা দরকার।” (প্রআ, ১৫,১০,২০১৪)

আমারও প্রশ্ন, এতো দিনেও কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ করা হল না কার স্বারথে?

অন্য দিকে, “দুটি মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে সমাজে। সেটা হলো, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের যে ফল ঘোষণা করা হচ্ছে প্রতিবছর, সেটা বাস্তবসম্মত না কৃত্রিম ফলাফল? এই সন্দেহের অবসান হওয়া দরকার।” (মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, প্রআ, ১৫,১০,২০১৪)

মানুষ মনে করে, “দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে অরাজকতা চলছে।” (প্রআ, ১৫,১০,২০১৪)

আমার প্রশ্ন, কবির ভাষায়, অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?

(ছবিঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম:)