ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

সবাই জানে, যা ওপেন সিক্রেট, সবার কাছে, অনেকে মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছেন। তারা দীর্ঘ দিন ধরে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানান সুবিধা ভোগ করে আসছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে অসম্মানিত করে আসছেন। তাদের মধ্যে কিছু কিছু সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সচিব, উপসচিব আছে যাদের পরিচয় জানা যাচ্ছে।
গত ২২ জানুয়ারি ‘চাকরির শেষ সময়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ নেওয়ার হিড়িক’ শিরোনামে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে এই পাঁচ সচিবের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। এরপর এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। এর পর থেকে মন্ত্রণালয় অনুসন্ধান করে এ পর্যন্ত ১৮২ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সনদ বাতিল করেছে। এঁদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন।
যারা এধরনের মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়ে সরকারি-বেসরকারিভাবে নানান সুবিধা ভোগ করেছেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়কে অসম্মানিত করেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি আমরা দেখতে চাই। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সনদ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা বনে গেছেন তাদের খুঁজে বের করার জন্য সার্চ ফাইন্ডিংস টীম তথা তদন্ত টীম গঠন করা দরকার। যারা মুক্তিযোদ্ধা নামধারী অমুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করবে।
ধাপে ধাপে সকল মুক্তিযোদ্ধা-সনদ জালিয়াতদের শাস্তি হোক প্রকাশ্য, দৃষ্টান্তমূলক। মুক্তিযোদ্ধা আর অমুক্তিযোদ্ধা সবাই একাকার হলে মান সম্মান আর থাকে না। সাদা দুধে যেন এক ফোঁটা মূত্রও না পড়তে পারে সেজন্য চেষ্টা করতে হবে।