ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মন্ত্রীদের কি যে-ই ডাকিবে তাহাকেই সাড়া দিতে হইবে? সবার ডাকে সাড়া দেওয়া কি তাঁহাদের মানায়? কাহারা ডাকিল তাহা একবার তো ভাবিয়া দেখা উচিত, না কি ? কথা কি ঠিক কহিলাম? না-কি, যে যেই খানে ডাকিবে সেইখানেই ছুটিয়া যাইবেন তাাঁহারা? তাহা কি তাহাদের শোভা পায়? যে যাহা বলে তাহা তাহা বিশ্বাস করা কি তাঁহাদের উচিত? আমাদের এক মন্ত্রী সম্প্রতি একটি গল্প বলিয়া দেশজুড়ে আলোড়ন তুলিয়াছেন। একবারও গল্পটি কতটা বাস্তবসম্মত, কতটা সত্য ভাবিয়া দেখিলেন না।

আরেক মন্ত্রী হিজবুত তওহিদের অনুষ্ঠানে গিয়াছেন প্রধান অতিথি হইয়া। অথচ গত এপ্রিলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার-সম্পর্কিত কমিটির বৈঠকে জানানো হইয়াছিল, সরকার ধর্মভিত্তিক সংগঠন হিজবুত তওহিদকে নিষিদ্ধের চিন্তাভাবনা করিতেছে । এমন সংগঠনের অনুষ্ঠানে কীভাবে প্রধান অতিথি হইলেন মাননীয় মন্ত্রী? তাঁহাকে এ প্রশ্ন করা হইলে তিনি প্রথমে বলিলেন, ‘আমি জানতাম না।’ খানিক পরে তিনি বলিলেন, ‘এরা তো অনুষ্ঠান করছে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে। তারা ২০১৩ সালে যে জ্বালাও-পোড়াও হয়েছিল, সেটার বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমরা তাদের সাথে সহমত।’

সেলুকাস! এই ভাবে আর কত চলিবে? আর কত দেখিব। এভাবে চলিলে তো আমার সহব্লগারের আশঙ্কাই সত্য হয়ে যেতে পারে, আগামী ৪০ বছর পর স্বাধীনতার ইতিহাস বলে হয়তো কিছু আর থাকবে না। আমি তাহার সহিত আরও যুক্ত করি, এভাবে চলিলে তো আমাদের অর্জিত কোনো কিছিই আর মনে হয় অবিশিষ্ট থাকিবে না।

সূত্র: হিজবুত তওহিদের অনুষ্ঠানে নৌমন্ত্রী প্রধান অতিথি, প্রআ, ২২,১০,২০১৪