ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ভূমিকা ও যৌক্তিকতা :
অল্প বয়সে পাবলিক পরীক্ষার জ্বালায়, শিশুর জীবন যখন অতীষ্ঠ, তার শৈশব জীবন যখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাদের জীবনের সুন্দর সময়গুলো যখন মুখস্থ করার পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। আমরা বাবামা, জনগণ, শিক্ষাকর্মী, শিক্ষাবিদ কারো কোনো চেষ্টাই যখন কোনো কাজে লাগছে না। আমাদের কোনো কথাই শিক্ষামন্ত্রীর কানে প্রবেশ করছে না; মর্মে পৌঁছাচ্ছে না; অথবা তিনি পাত্তা দিচ্ছেন না। সেই মুহূর্তে, এই বিপদের দিনে, আমরা আর কার কাছে যাবো। কেউ নাই তুমি আল্লাহ ছাড়া। আমাদের একমাত্র ভরসা এক অদ্বিতীয় তুমি আল্লাহ।
আসুন, সকল ধর্মের মানুষ আল্লাহকে বলি তথা মোনাজাত দিই। অন্য ধর্মের লোকেরাও একই বক্তব্য নিজ নিজ ধর্মের নিয়ম অনুসারে গণপ্রার্থনা করি। তিনি যেন দেশের সকল শিশু-শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষা বিশেষ করে অতি অল্প বয়সের জন্য প্রবর্তিত পিএসসি-জেএসসি পাবলিক পরীক্ষা থেকে শিশুদের রক্ষা করেন।
মোনাজাতের খসড়া : Prayer

হে আল্লাহ! তুমি সর্বশক্তিমান। তুমি অসীম দয়ালু মেহেরবান।
তুমি তো জানো, পাবলিক পরীক্ষার চাপে ছোট ছোট শিশুদের জীবন
হয়ে যাচ্ছে কোরবান।

তুমি তো জানো, দেশের শিশুর শৈশব-কৈশোর জীবন ছারখার হয়ে যাচ্ছে শিক্ষক কর্তৃক বাধ্যতামূলক কোচিং-এ,
বাবামার চাপে, প্রতিদিন একাধিক পরীক্ষায়।
তাই, তারা পাবলিক পরীক্ষা বিশেষ করে অতি অল্প বয়সের জন্য প্রবর্তিত পিএসসি-জেএসসি
পাবলিক পরীক্ষা থেকে মুক্তি চায়।

তুমি তো জানো, অতি অল্প বয়সি শিশুর জীবন যখন অতীষ্ঠ পাবলিক পরীক্ষার জ্বালায়,
তাদের শৈশব জীবন যখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
তাদের খেলাধুলা, আনন্দময় শিক্ষা, শৈশবের সরল জীবন, রাতের ঘুম সব শেষ
পরীক্ষা-প্রস্তুতি জোঁকের মতো রক্তচুষে খাচ্ছে।

তুমি আল্লাহ, তুমিই আমাদের ভরসা আমাদের দাবি তুমিই পূর্ণ করতে পারো।
আমাদের দাবি, তুমিই দেশের সকল শিশু-শিক্ষার্থীদের জীবনটাকে রক্ষা করো।
পাবলিক পরীক্ষা বিশেষ করে অতি অল্প বয়সের জন্য প্রবর্তিত পিএসসি-জেএসসি
পাবলিক পরীক্ষা থেকে শিশুদের রক্ষা করো।
হে আল্লাহ, তুমি তো জানো, “এখন বাংলাদেশের শিক্ষাচিত্র। পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির তথাকথিত মেধা যাচাইয়ের কবলে পড়ে শিক্ষার্থীদের শৈশব যেমন শেষ, তেমনি মায়েদেরও জীবন বরবাদ।” (প্রআ, ২৯,১০.২০১৪)
দয়াময়, তুমি তাদের ফিরিয়ে দাও জীবনের স্বাদ, মনে দাও সাধ ও আহ্লাদ।
আর সেজন্য তুমি আমাদের এই ভুলেভরা নিরানন্দ, সৃজনশীল মুখস্থ পদ্ধতি থেকে মুক্তি দাও।
আমাদের তোমার দয়ার বান্দা হিসেবে কবুল করে নাও।
খোদা, “এ দেশে কিছু লোক শিক্ষাকে বানিয়ে ফেলেছে নিরানন্দ, সৃজনশীল মুখস্থ পদ্ধতি” তাদের ভুল ভেঙে দাও।”
আমরা কথা কোনো কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছে না, শিক্ষামন্ত্রীর কানে যাচ্ছে না
তুমি তার কানে কথাগুলো পৌঁছায়ে দাও। তার প্রাণে জাতির জন্য আগের মতো মায়া-দয়া তৈরি করে দাও।
মন্ত্রিত্বের মোহে ভুলে থাকা মন, চিন্তা-যুক্তি-বুদ্ধিকে তুমি জাগিয়ে দাও।
ব্যাস, এতেই হবে খোদা, মন্ত্রিত্বের মোহে ভুলে থাকা শিক্ষামন্ত্রীর চিন্তা যুক্তি-বুদ্ধি জাগলেই আমাদের শিক্ষার মুক্তি হবে।
শিশুরা তাদের “বঞ্চিত আনন্দ শিক্ষা ও শৈশব” ফিরে পাবে। (প্রআ, ২৯,১০.২০১৪)
খোদা, এই সামান্য দাবি, অসামান্য তার ফল
তোমার মারফতে আমরা অর্জন করতে চাই।
তুমি ছাড়া এই নিদান কালে আমাদের আর ত্রাণ করার মতো কেউ নাই।
তাই, তোমার সাহায্য চাই। চোখের অশ্রু ঝরিয়ে বলি- তোমার সাহায্য শুধু চাই।
“হে আল্লাহ, আমাদের যেই মন্ত্রী প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও চোখে দেখেন না, তার চোখ তুমি ভাল করে দাও।
আর যাদের সরাসরি আনুকুল্যে আজ জেএসসি আর পিএসসি তে কোচিং বানিজ্য শিল্পের পর্যায়ে চলে গেছে
তাদেরকে তুমি হেদায়েত কর।
হে আল্লাহ যার অদুরদর্শী সিদ্ধান্তে জেএসসি-পিএসসি’র যাতাকলে পড়ে
আমাদের বাচ্চাদের শৈশব আজ হারিয়ে যেতে বসেছে তাকে তুমি হেদায়েত কর।
আর যেসব চাটুকার ব্লগার এই ব্লগে শিক্ষামন্ত্রীর সাফাই গায়,
তাদের চামচামি বন্ধ করার জন্য তুমি তোমার খাস রহমত বর্ষন কর । ” (এলডোরাডো)
আমিন
বি.দ্র.
এই লেখাটি একটি পুনরক্তিমূলক লেখা। যেহেতু একবার দুবার বারবার বলতে বলতে অনেকে ক্লান্ত; কাজের কাজ তবু কিছুই হচ্ছে না। তাই ঐ একই কথা পুনরুক্ত করছি এই লেখায়। আমরা একই কথা বলতেই থাকবো, যতক্ষণ নীতিনির্ধারকদের কানে না পৌঁছায়। এই ব্লগের মাধ্যমে, ব্লগ পাঠকরা অন্তত জানুক। আমি বিশ্বাস করি, ব্লগাররা খুবই সংবেদনশীল ও মননশীল সিটিজেন। তারা সোচ্চার হলে ভালো অনেক কিছুই সম্ভব।