ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

সম্প্রতি ইবোলা আক্রান্ত মানুষদেরকে বর্ণ-নির্দেশিত করে বর্ণবাদী ঘটনা ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ায়। টিভিতে দেখেছি। খবরে দেখলাম যেই মানুষগুলোকে, তাদের শিশু-সন্তানদেরকে বিদ্যালয়ে আঘাত করা হয়েছে। ঐ-সব-অস্ট্রেলিয়ান সিটিজেন, সংখ্যালঘু শিশুদের কী অপরাধ আমি তা খুঁজে পায়নি। তাদের গায়ের রং কালো বলে? তারা সংখ্যালঘু বলে? ইবোলা যেদেশে দেখা দিয়েছে, সেদেশের বেশিরভাগ মানুষের গায়ের রং কালো বলে? ওটা তো একটা দুর্ঘটনা মাত্র। তাই বলে গায়ের রং কালো মানুষদেরকে আক্রমণ কেন? ভেবে পাই না।

আমি গত বছর সাঁওতালদের ওপর স্টাডি করেছি। (কিছু দিন হল তা পাবলিশড হয়েছে রিসার্চ জার্নালে।) কাজটি আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে, গুণগত সমীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী, করতে গিয়ে বহুবার মর্মে কেঁদেছি। মানুষ হয়েও ওরা জীবন যাপন করে না-মানুষের মত।

মানুষ হয়ে সংখ্যালঘুতাকে পুঁজি করে সংখ্যালঘুতার সুযোগ নেওয়ার ঘটনা ঘটায় যারা তারা একটা ছুতা খোঁজে। তাদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল, আধিপত্য/ডমিনেশন, আর সেজন্য তাদের ওপর নির্যাতন, সমাজ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া ইত্যাদি। সাঁওতালদের ওপর স্টাডির সময় আমি দেশে-বিদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা জানার চেষ্টা করেছি। ইউরোপে, আমেরিকায় সারা বিশ্বে এটা সংখ্যা গুরুর সম্পত্তি দখল, আধিপত্য/ডমিনেশন এর মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এধরনের অসংখ্য হৃদয়বিদারক ঘটনা শুনেছি, অল্প বয়সে দেখেছিও। এ-সম্পর্কে কি বলবো এত হৃদয়বিদারক অমানবিক অনুভূতি যে তার প্রতি সহানুভূতি জানানো ছাড়া আর কিছুই করা নেই।

এত দিনেও দেশে দেশে সংখ্যাগুরুতাকে পুঁজি করে, সংখ্যালঘুদের ওপর পাশবিকতা তথা মনুষ্যত্বের অপমান বন্ধ হলো না। আফসোস!