ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

hartal
হরতাল কর্মসূচির উৎপত্তি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত। এর গৌরবময় ঐতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। জাতির ব্যাপক স্বার্থে মহাত্মা গান্ধী হরতালকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার ও প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু কোথায় সেই হরতাল আর কোথায় আজকের বাংলাদেশের হরতাল। আজকের বাংলাদেশে হরতাল ডাকা হয় কী উদ্দেশ্যে? আজকের বাংলাদেশে হরতালপালিত হয় কাদের স্বার্থে? আজকের বাংলাদেশে যে ধরনের হরতাল হয় তাকে কি সন্ত্রাস থেকে আলাদা করা যায়? সংবিধান কি কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে এ-ধরনের হরতাল করার অধিকার দিয়েছে? এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করার, গণদুর্ভোগে ফেলার, কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার, জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করার, এমনকি মানুষ হত্যা করার অধিকার কি মেনে নেওয়া যায়?
Hartal1-460
বর্তমানে হরতাল মানে জনগণকে জিম্মি করা। কিন্তু এটা কোনো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না। বর্তমানে হরতাল এমন এক জনস্বার্থবিরোধী ও বিপজ্জনক তৎপরতা, যেটাকে এখন আর রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া চলে না।
কারণ, হরতালের ডাক দিয়ে হরতাল আহ্বানকারীরা জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া-সমর্থনের প্রত্যাশা করেন না। বরং হরতাল ‘সফল’ করতে তাঁরা রাজপথে নেমে ‘পিকেটিং’-এর নামে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান, যার শিকার হয় নিরীহ জনসাধারণ ও জাতীয় অর্থনীতি। হরতাল-অবরোধ যেমন আন্দোলনের হাতিয়ার, তেমনি আবার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র।
জনসাধারণের ভোগান্তি ও জাতীয় অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির কারণ ঘটিয়ে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চিন্তার মধ্যে গুরুতর গলদ রয়ে গেছে। তাই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। তাই হরতাল পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অন্যান্য উপায় খোঁজা উচিত। সবার ভাবা দরকার, যে কোনো ইসুতে যেকোনো দিন হরতাল যখন তখন যে যার ইচ্ছায় ডাকা, তা অন্যায় দাবি-সমর্থনেও পর্যন্ত হলে, সে-ক্ষেত্রে রাষ্ট্র-ব্যবস্থার ও জনগণের করণীয় কী হওয়া উচিত?

হরতালের মতো কোনো কর্মসূচি দিতে হলে ভেবে-চিন্তে তবেই দেওয়া উচিত; অন্যথায় হুমকির মুখে পড়বে দেশের অর্থনীতি। বিপন্ন হবে দেশের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং গণতন্ত্র। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আমরা এখনও পুরনো রাজনীতির চর্চা করছি। প্রতিহিংসার রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে। ব্যক্তি ও দলীয় চিন্তার বাইরে কেউই যেতে পারছি না। সম্ভাবনাময় এই দেশকে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে নিতে হলে এ ঘূর্ণিপাক থেকে বের হতে হবে। দেশে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে সবাইকে ইতিবাচক চিন্তা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। তাই দেশপ্রেমিক সব নাগরিকেরও দায়িত্ব চলমান নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। সুখের কথা, দু-একটি প্রতিরোধের ঘটনা ঘটছে। যেমন: পিকেটারদের ধাওয়া করল বাস চালক ও যাত্রীরা এরকম একটি খবর পড়লাম দুপুরে। এর আগেও হরতালের সময় দুএকটি প্রতিরোধ এর ঘটনা ঘটেছে। তবে এটা একটা নিরুপায় উপায় মাত্র। হরতাল পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক প্রতিবাদের জন্য বিকল্প আরও সর্বজনগ্রাহ্য উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।