ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

ভাবতে ভালো লাগে, মেধা ও মন আজকের অগ্রসর বাংলাদেশের আমিও একজন সিটিজেন। এই ভাবনাটা এল আজ (৩ নভে. ‘১৪)। এই আনন্দের ও গর্বের ভাবনাটি মাথায় এলো যেভাবে।

কামারুজ্জামানের ফাঁসির রিভিউ রায় “বহাল” ঘোষণা প্রচারের পর, আমি আজ যত পত্রিকা পড়লাম, আমি আজ যত সহকর্মী বন্ধুবান্ধবের সাথে কথা বললাম, আমি আজ গণগাড়িতে চড়ে যত সাধারণ চেনা-অচেনা দেশবাসীর কথা শুনলাম, কোথাও জামাতের সাথে সরকারের আঁতাত প্রসঙ্গটা আলোচনা করতে শুনলাম না। আমি দু’এক জায়গায় প্রসঙ্গটা সহায়ক-সঞ্চালকের মতো পাড়লাম। স্নো-বলের মতো ছুঁড়ে মারলাম মানুষের কাছে, সব জায়গায় জামাতের সাথে সরকারের আঁতাত প্রসঙ্গটাকে কেউ আলোচনার জন্য গ্রহণ করল না। নীরবে ফিরিয়ে দিল। এই প্রসঙ্গটাকে কেউ আলোচনায় না গ্রহণ করাটা কী নির্দেশ করছে? আমার ব্যাখ্যা হল, এটা নির্দেশ করছে যে, বিষয়টি (জামাতের সাথে সরকারের আঁতাত) এতদিন কিছু লোকের কাছে ছিল সত্যি, কিছু লোকের কাছে রটনা আর অনেকের কাছে ছিল সন্দেহজনক। দেশের অনেক মানুষের মনে নানা কারণে সন্দেহটা তৈরি হয়েছিল বটে। কিন্তু আজ সবার কাছে রটনা হিসেবেই পরিণত হল। “সত্যি”-তে সবাই আমার জরিপে ক্রস চিহ্ন দিয়ে জানিয়ে দিল। আর সন্দেহ নেই। আর সত্যের সুযোগ নেই। এখন (এখন!) এটি রটনা।

জনগণ ঘটনাটিকে সন্দেহ করেছিল, একে আমি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখি। ঘটনা প্রমাণ বা আবিস্কারের আগে কিছুটা সন্দেহ করা মননশীলতারই বৈশিষ্ট্য। তার মানে আমরা জাতিগতভাবে পরিপক্কতা অর্জন করছি। আমরা একটি মননশীল জাতিতে পরিণত হচ্ছি।
আপনি কি আমার সাথে একমত?
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
৩ নভে. ‘১৪