ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

04_Jamaat-e-Islami_shutdowns_Rajshahi_05112014_0008

প্রশ্ন উঠেছে, আদালতের রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে বা যথেচ্ছা-যখন-খুশি কি হরতাল কর্মসূচি দেওয়া উচিত? যে কোনো ইস্যুতে ইচ্ছে হল হরতাল কর্মসূচি দেওয়া যাবে? যেখানে খুশি রাজনৈতিক জনসভা করা যায় না। কিন্তু যথেচ্ছা-যখন-খুশি হরতাল ডাকা হচ্ছে। এটা কি মেনে নেওয়া উচিত, না মেনে নেওয়া যায়? তবুও ইদানীং তো দেয়া হচ্ছে? আসলে হরতাল নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবার সময় এসেছে।
প্রশ্ন জাগে আরও, সংবিধান কি কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীকে যথেচ্ছ হরতাল ডাকা ও হরতালের নামে আজকাল যা হচ্ছে তা করার অধিকার দিয়েছে? এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করার, গণদুর্ভোগে ফেলার, কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধন করার, জাতীয় অর্থনীতি ধ্বংস করার, এমনকি মানুষ হত্যা করার অধিকার কি মেনে নেওয়া যায়?

কারণ, হরতালের ডাক দিয়ে হরতাল আহ্বানকারীরা জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া-সমর্থনের প্রত্যাশা করেন না। বরং হরতাল ‘সফল’ করতে তাঁরা রাজপথে নেমে ‘পিকেটিং’-এর নামে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান, যার শিকার হয় নিরীহ জনসাধারণ ও জাতীয় অর্থনীতি। হরতাল-অবরোধ যেমন আন্দোলনের হাতিয়ার, তেমনি আবার অর্থনীতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র।
জনসাধারণের ভোগান্তি ও জাতীয় অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতির কারণ ঘটিয়ে রাজনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার চিন্তার মধ্যে গুরুতর গলদ রয়ে গেছে। তাই গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। তাই হরতাল পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অন্যান্য উপায় খোঁজা উচিত। সবার ভাবা দরকার, যে কোনো ইসুতে যেকোনো দিন হরতাল যখন তখন যে যার ইচ্ছায় ডাকা, তা অন্যায় দাবি-সমর্থনেও পর্যন্ত হলে, সে-ক্ষেত্রে রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও জনগণের করণীয় কী হওয়া উচিত?” (হরতাল যখন সন্ত্রাসের নামান্তর তখন বিকল্প খোঁজা জরুরি।)

আবারো বলি, ভাবুন তো, যেখানে খুশি রাজনৈতিক জনসভা করা যায় না। কিন্তু যথেচ্ছা যখন খুশি হরতাল ডাকা হচ্ছে। এটা কি মেনে নেওয়া উচিত? আমাদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে।