ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

সাকিব আল হাসান, ভক্তের চোখের মণি, বাংলাদেশের উজ্জ্বল মুখ ও বিশ্বের বিস্ময় নাকি বিশ্বের হৃদয়। সে যাই হোক, এ-কথার পুরোটাই পর্যায়ক্রমে সত্য হবে নিশ্চয়, নিশ্চয়।

Sakib-1টেস্টে অসাধারণ ক্রীড়ানৈপুণ্য ও সিরিজ জয়ের নায়ক সাকিবকে নিয়ে পর দিন একটি দৈনিকের প্রথম পাতায়  তাদের লিড ছবিটি এমনই দেখতে যে মনে হয় সে পত্রিকার পাতা থেকে ত্রিমাত্রিক ভঙ্গিতে বের হয়ে যাচ্ছে, ছুটছে জয়ের খুশিতে। দ্বিমাত্রিক অচলতার উর্ধ্বের এক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব সাকিব। সে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে হৃদয়ে হদয়ে ছুটছে। দেশের বাইরে ছুটছে। সাকিব এক চিরচঞ্চল শিশু যার চলায় সবার চোখে আনন্দিত কৌতূহল, স্বপ্নের ও সম্ভাবনার খুশিভরা মুখ, বিশ্বের বিস্ময়।
ব্যাটে, বলে আর ফিল্ডিংয়ে স্পেশাল ব্যক্তিত্বে বিশাল এক কথায় সরল, হাসিতে উজ্জ্বল বাংলাদেশের বিশ্ব মানের খেলোয়াড় সাকিব, আমাদের গর্ব। আমরা তাকে ভীষণ ভালোবাসি। আর সে দেয় নিয়মিত আমাদের ভালোবাসার প্রতিদানে ক্রিকেটীয় ভালোবাসা। আমি তার দুঃসময় শেষে ফিরে আসা সাকিবের বীরত্বে গর্বিত হয়ে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। সে আমাদের শূধু ক্রিকেট মাঠে টেস্ট ওয়ান ডের জয়ের নায়কই নয়, সে আমাদের “বাংলার ইয়ান বোথাম।”sakib al hasan

সাধারণত ফ্যানরা আবেগে সংরক্ত থাকে। কিন্তু আমরা অন্ধ নই। আমরা তার গুণে মুগ্ধ। তার মধ্যে এমন প্রতিভা আছে যা তার কোটি ভক্ত দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করেই তাকে ভালোবাসে। তার ওপর নিষেধাজ্ঞায় ব্যথিত হয়, উত্তেজিত হয়। এবং খুলনা টেস্টে সাকিবের বীরত্বের পর এক ভক্ত দাবি করে, “বিসিবির উচিত এখন সাকিবের উপর থেকে সব সাসপেনশন প্রত্যাহার করা।”
আমাদের মতো অগণিত সাকিবভক্ত, “বিশ্বাস করি সাকিব এমনই। কারণ সে জানে যে, এই দেশ এবং এই দেশের ক্রিকেটের জন্য তাকে অনেক দূর যেতে হবে – দেশের ষোল কোটি মানুষের স্বপ্নকে বয়ে, তাদের বিপুল ভালোবাসা আর শুভেচ্ছাকে পাথেয় করে।”
সাকিবকে বাংলাদেশের মানচিত্রে বন্দী করা যাবে না। সে বিশ্বের ক্রিকেট-প্রেমী মানুষের নয়ন মণি, হৃদয়ের এক রক্তগোলাপ, যাতে নেই সীমানা দেয়াল। আবারও বলব, তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা তার গুণের টানে। যেমন, আইপিএলে সে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি, কলকাতা নাইট রাইডার্সের একাদশে একমাত্র বাঙালি—সাকিব আল হাসানের জন্য বাংলাদেশ তো বটেই, গোটা পশ্চিমবঙ্গের ভালোবাসা পেতে এ পরিচয় ছিল যথেষ্ট। কিন্তু সাকিব মুখে নয়, কাজে বিশ্বাসী। তাই ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে জয় করেছেন সবার মন।
বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার এখন কলকাতার শিরোপা-স্বপ্নের অন্যতম প্রধান কারিগর। এ কারণে ওপার বাংলার গণমাধ্যমে জোরেশোরে শুরু হয়েছে সাকিব-বন্দনা।
sakib-4 কলকাতার ‘এই সময়’ পত্রিকায় সাকিবকে দিয়েছে ‘মিস্টার ডিপেনডেবল’ তকমা। ‘মেজাজটা ধরে রেখেই রাজা ওপার বাংলার সাকিব’ শীর্ষক লেখার শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘আইপিএল সেভেনে দুই বাংলার সাঁকো তিনিই!’ এরপর সামনে এনেছে ‘প্রথম আলো’র খেলার ভোটের একটি ফল। পত্রিকাটি লিখেছে, ‘বাংলাদেশের খবরের কাগজে তো রীতিমতো পাঠকদের মতামত নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে, “ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় সাকিবকে কেকেআরের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন কি?” উত্তরে প্রায় ৯৩ শতাংশ পাঠকই “হ্যাঁ” বলেছেন৷ যাঁকে নিয়ে এত কথা চালাচালি, সেই সাকিব আল হাসানকে কিছুই স্পর্শ করছে না৷ বাংলাদেশ থেকে কোনো শুভেচ্ছা পেলেন কি না জিজ্ঞেস করতেই জবাব এল, ‘‘বাংলাদেশের কারও কাছে আমার এখানকার নম্বর নেই!’’ এটাই সাকিব আল হাসান৷ মেজাজটাই যাঁর আসল রাজা।’

সে দিন বেশি দূরে সাকিব বাঙালির প্রতিনিধি পরিচয় ছাড়িয়ে বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয়ে বাংলার বিস্ময় হয়ে স্থান করে নেবে, যা তার প্রতিভার মধ্যে স্পষ্ট দেখা যায়।

সাকিব সম্পর্কে গতকাল একটি পত্রিকায় লেখা হয়েছে, “… ছাপিয়ে গেলেন সাকিব। এ যেন এভারেস্ট জয়ের সমান এক অর্জন। নাকি চাঁদে পা রাখার মতো কোনো কীর্তি! (প্রআ)” সেই লেখা পড়ে তার একজন ভক্ত মন্তব্য করেছেনে, “এবার সাকিব কে আরো বড় আর ভাল কোন টার্গেট সেট করে দেন। আমি জানি সেটাও সে ঠিকি পূরণ করে দেবে।

ঐ ভক্তের সাথে আমরা কোটি ভক্তও আজকের কৃতিত্বের জন্য জানাই অভিনন্দন। বলি, সাকিব, তোমাকে আরো অনেক দুর যেতে হবে। তবে গতকালকের টেস্ট ম্যাচ ও সিরিজ জেতার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকেও জানাই অভিনন্দন।