ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কোনো ব্যক্তি হয়ত জীবনে  ভুল ক্রমে কোনো অন্যায় করে ফেলেছে, সে ধরা পড়লে অন্যায় স্বীকার করে ক্ষমা চায়। আবার, যে অন্যায় করে ধরা পড়ে বুঝতে পারে যে তার অন্যায় কাজটি করা ঠিক হয়নি, তখন সে অনুতপ্ত হয়ে কৃত অন্যায়কে ভুল বলে স্বীকার করে এবং ক্ষমা চেয়ে সমাজের কাছে, দেশের মানুষের কাছে, ক্ষমাপ্রাপ্ত নতুন মানুষ রূপে গ্রহণযোগ্য হতে চেষ্টা করে, অনেক সময় ক্ষমাপ্রাপ্ত নতুন মানুষ রূপে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায়। কিন্তু যারা জেনেবুঝে অন্যায় করেছে, অন্যায় করে ধরা পড়েও ভুল বুঝতে পারে না, অথবা অন্যায়ের মাত্রা এত বিরাট যে সে বুঝতে পারে তার অন্যায় ক্ষমার অযোগ্য, সে বা তার আত্মীয় পরিজন, তার পক্ষের লোকেরা তখন অন্যায়টাকেই অস্বীকার করে। সাক্ষ্য ও দালিলিকভাবে প্রমাণিত হলেও সে বা তারা ভুল হিসেবে তার বা তাদের কৃত অন্যায় স্বীকার করে না। কারণ, এগুলো সংঘবদ্ধ ক্রাইম /বা সংগঠন পরিকল্পিত অপরাধ। সংঘবদ্ধ ক্রাইম /বা সংগঠন পরিকল্পিত অপরাধ সম্পর্কে এর সাথে বড় ধরনের দল ও গোঠিষ্টসহ পরিবারে আত্মীয় পরিজন সবাই সংশ্লষ্ট থাকে। এরকমই তাই কামারুজ্জামানের ছেলে ও এরকম মানবাধিকার বিরোধী খুনিদের পক্ষের লোকেরা কখনো অন্যায় অপরাধ স্বীকার করে না। তারা আস্ফালন করে। সারা দেশের মানুষ দাঁড়িয়ে সাক্ষ্য দিলেও তারা তাই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। এটা দিনকে রাত, রাতকে দিন বলে তার কথা ও দাবি ভুল প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার মতো্। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধী তার শাস্তি পেয়ে সে নিজে ও তার স্বজনেরা যখন পুরো ঘটনাকে মিথ্যা বলে সত্য প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় তখন তা গুরুত্ব পায় তখনই যখন স্বজনরাও অন্যায়কে পরিপূর্ণভাবে সমর্থন করে। আর যারা স্বীকৃত বিচারিক আদালতে ও ভিকটিমদের সাক্ষ্যে প্রমাণিত অপরাধ সংঘটন ও তার শাস্তিকে অস্বীকার করে সেও কি অপরাধ ও অপরাধীর সমর্থনের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধী নয়? রায়ে প্রমাণিত অপরাধের বিরোধিতা ও অপরাধীর পক্ষাবলম্বন কি আরেকটি অপরাধ নয়?

অন্যায় যে করে অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা করো তারে তৃণ সম দহে।