ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

আমাদের ণত্ব-ষত্ব জ্ঞানের কতটা অভাব আছে অনেকের, আবার তা যে কারো কারো জন্য বিড়ম্বনাকর তাও কেউ কেউ ণত্ব-ষত্ব জ্ঞানের অভাবেই যে বুঝতে পারে না, তার একটি সত্য ঘটনা তুলে ধরছি।

একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কাজ নিয়ে আমার দুই সহকর্মী রুমের এক পাশে বসে আলোচনা করছেন। তাদের একটি প্রেজেন্টেশন দিতে হবে কিছুক্ষণ পর, তার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। এমন সময় একজন সহকর্মী বাইরে থেকে এসে একটি খালি আসন গ্রহণ করলেন। টেবিলে রাখা কমপিউটার ওপেন করলেন। তার ফেইসবুক খুলে পাশের ঐ দুই সহকর্মীকে দেখার জন্য আহ্বান করলেন। সেই সাথে একটা অট্টহাসি দিলেন। তারপর বললেন, দেখো,  আমাদের তাসলিম (ছদ্মনাম) মজার একটা পোস্ট দিয়েছে । ও লিখেছে: “রাত কথা বলছে শীতের সাথে।” মজার না? আমি একটু আগে এটা দেখেছি। তোমাদের সাথে শেয়ার করতে পারিনি। কেমন লাগছে, মজার না?

আমাদের ঐ দুই সহকর্মী কাষ্ঠ হাসি দিয়ে ফেইসবুকিস্ট সহকর্মীর দিকে হতভম্বের মতো তাকিয়ে রইলেন।

কিন্তু আমাদের ফেইসবুকিস্ট সহকর্মী দমলেন না। তিনি বললেন, তাসলিমের পোস্টের জবাবে তার এক বন্ধু কী মজার কমেন্ট করেছে শোনো: “এতে তোর সমস্যা কী? তুই ঘুমা।” আরেকজন কমেন্ট করেছে, “na shishir mala gethe rakhche sokaler jonn.”

এভাবে আরও কয়েকটা ইন্টারেস্টিং কমেন্টস শুনিয়ে তারপর তিনি ক্ষান্ত হলেন।

আমাদের ঐ দুই সহকর্মী ও আমি বাধ্যগত সহকর্মীর মতো শুনলাম। বিরক্ত হলেও বিরক্তি প্রকাশ করলাম না। জানি বিরক্তি প্রকাশ করলে সমস্যা আছে। ফেঁসে যাব মাইনকার চিপায়। কারণ, এখন বলা হয়, অন্যায় যে সহে, সে রহে, আর, অন্যায় যে সহে না, সে বোকা, সে মরে। তাই, ধৈর্য ধরে ফেইসবুকের মজা সয়ে, আবার শুরু করলাম যে যার কাজ। এভাবেই চলছে আমাদের অফিসিয়াল নিত্যনৈমিত্তক কাজ ও ফেইসবুকিং।

অফিসে বসে ফেইসবুক খুলে সহকর্মীর সাথে শেয়ার একমাত্র ণত্ব-ষত্ব জ্ঞান এর অভাবে ঘটে। আবার যখন সহকর্মী তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজ নিয়ে ব্যস্ত তখন ফেইসবুক খুলে দেখানো ও মজার আলোচনা জুড়িয়ে দেওয়ায় যে ঐ সব সহকর্মীর ণত্ব-ষত্ব জ্ঞান এর অভাব আছে তা বলাই বাহুল্য। আমরা যেন কেউ এভাবে সহকর্মীদেরকে যন্ত্রণা না দিই।