ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

02_Footover+bridge_Banglamotor_261114_0002

একটি মন্দ জন-আচরণ সংশোধনমূলক উদ্যোগ, শাস্তিমুখ্য নয়:

জেব্রাক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করে পথচারীদের যত্রতত্র কেবল হাত উঁচু করে গাড়ি-বাস থামিয়ে রাস্তা পার হওয়া, এটি আমাদের একটি মন্দ জন-আচরণ বা বদঅভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন একটি খারাপ কাজ করতে করতে তা জাতীয়ভাবে একটি মন্দ জীবনচর্চা বা জীবনাচরণ হিসেবে আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নয়নে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে । যার কারণে স্বয়ং আমাদের জীবনই যেমন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে, তেমনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, আমাদের শহর জীবনে যার প্রভাব খুবই নেতিবাচক। এর অর্থনৈতিক নেতিবাচক ক্ষতিও বিশাল। বিষয়টি আমরা সবাই জানি। সবাই এর জন্য ভুক্তভোগী। কিন্তু সবাই একই ভুল করি, মন্দ আচরণ করি প্রতিদিন, করে আসছি দীর্ঘ দিন ধরে। তাই বলে এটি কোনো হেলাফেলার বিষয় তো নয়।

মনে রাখতে হবে, যত্রতত্র রাস্তা পারাপার এটি যেমন আমাদের দীর্ঘ দিনের অভ্যস্ত জীবনচর্চা তেমনি এই অভ্যাস সংশোধন, আচরণ পরিবর্তন ২/৩ দিনের ব্যাপার নয়। এমনকি ২/৩ সপ্তাহেরও কাজ নয়। তাহলে কি খারাপ এই অভ্যাস-সংশোধনে উদ্যোগী হব না? না, এই আচরণ পরিবর্তন করতে হবে।

নীরবতা ভেঙে কর্তৃপক্ষ গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে সড়কে পথচারীদের যত্রতত্র পারাপার ঠেকাতে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‍পুলিশ। জানা গেল, শনিবার (২২/১১/২০১৪) থেকে এব্যাপারে জনসচেতনতার কাজ শুরু হয়ে সোমবার পর্যন্ত চালানোর পর মঙ্গলবার থেকে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ শুরু করবে। ফুট ওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সড়কের মধ্য দিয়ে পারাপারের শাস্তি ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ২০০ টাকা জরিমানা। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মূলত নগরবাসীকে সচেতন করতেই পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কর্তৃপক্ষের ধারণা, “এ উদ্যোগ একটি জায়গায় কার্যকর হলে ঢাকাবাসী সচেতন হবে। আশা করছি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করবেন সবাই।”

আংশিক ধারণাগত ত্রুটি:

কর্তৃপক্ষের এই ধারণায় বরাবরের মতো আংশিক ধারণাগত ত্রুটি রয়েছে। দীর্ঘ দিনের (অনেক বছর যা চলে আসছে) অভ্যাস একটি জায়গায় কার্যকর হলে, ৩ দিনেই তা শুধরে যাবে, সচেতন হয়ে যাবে ঢাকাবাসী/ দেশবাসী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করবেন সবাই এত বড় আশা করা মনে হয় যুক্তিযুক্ত নয়। তাই এক্ষেত্রে আমার একটি মাত্র গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ আছে।

অভ্যাস-সংশোধনমূলক উদ্যোগটি পর্যায়ক্রমিক ও দীর্ঘমেয়াদী হওয়া প্রয়োজন:

এই প্রশংসনীয় জনসচেতনতামূলক কাজ ও আচরণ-সংশোধনের উদ্যোগটি পর্যাযক্রমে সারা ঢাকায় ২/৩ দিন করে করা হোক। দীর্ঘ দিন ধরে এটা পর্যাযক্রমে ঘুরে ‍ঘুরে সারা ঢাকায় ২/৩ দিন করে চক্রাকারে পুনরাবৃত্ত করা হোক। তাহলে দীর্ঘদিনের অভ্যাস দূর হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। এটা ২/৩ বছর পর্যন্ত চালানো যেতে পারে। শুধু আমার নয়, এরকমই মত সড়ক নিরাপত্তা ও স্বস্তিকর চলাচলের জন্য যারা কাজ করেন তাদেরও। যেমন ইলিয়াস কাঞ্চনের মতটি হবহু এরকমই। আমরা আশা করি, দীর্ঘদিন ধরে, তা প্রায় ২/৩ বছর, এটা পর্যাযক্রমে সারা ঢাকায় ২/৩ দিন করে চক্রাকারে পুনরাবৃত্ত করা হলে দীর্ঘদিনের অভ্যাস বা আচরণটির পরিবর্তন হতে পারে।

আমার একটি পূর্ব সতর্কতামূলক অনুরোধ আছে, তা হল, এক্ষেত্রে এটি যেন আগের অনেক উদ্যোগের মতো সকালে শুরু করে দুপুর না হতেই, দুয়েক ঘন্টা পর তা অকার্যকর  বলে পাততাড়ি গুটিয়ে সরে আসার আরেকটা উদাহরণ যেন না হয়। আমরা মনে করি, এই জনসচেতনতার কাজ ও অভ্যাস-সংশোধনমূলক উদ্যোগটি পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ও পর্যায়ক্রমে সারা ঢাকায় আন্তরিকভাবে চালিয়ে গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যেতে পারে।

এটি একটি ইতিবাচক ও সফল উদ্যোগ হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করুক।

(সূত্র:বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২২/১১/২০১৪)