ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

আমরা পরিবেশের কথা বলি, সেই কাঙ্ক্ষিত সুস্থ ও শিখন-সহায়ক পরিবেশটা চাই বিদ্যালয়ে/শিক্ষাঙ্গনে, সমাজে, ও অন্যান্য অনেক জায়গায়; কিন্তু সবচেয়ে নিকটতম ও প্রধান যে কয়েকটি জায়গার পরিবেশের কথা সবার আগে ভাবা দরকার সেটার কথা বলি না, ভাবিও না প্রায় সবাই। সেটা হল, পরিবারে, ও কর্মক্ষেত্রে। এই দুই জায়গায় আমরা সবচেয়ে বেশি কেন অনেকে সারাটা সময় কাটাই। এই দুটি জায়গায়- পরিবারে, ও কর্মক্ষেত্রে- সুস্থ-সুন্দর পরিবেশ না থাকলে মহা সমস্যা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এই দুটি জায়গার পরিবেশ সুরক্ষা করবো কী, আমরা অগ্রাধিকারের বিশেষ তালিকায় একে গণ্যই করি না। শুধু শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশ, রাজনীতির অঙগনের পরিবেশ, সমাজ পরিবেশ ইত্যাদি বলে গলা ফাটাচ্ছি। নিজের ঘর ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে কেউ মাথা ঘামাই না। অথচ এটাই সবার আগে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।

আমাদের ঘরের/পরিবারের পরিবেশ আমার ও আমার ঘরের সদস্যদের সুস্থতার জন্য দরকার।

আমাদের অফিসের পরিবেশ আমার কাজের / কর্মতৎপরতার যথাযথ সুচারুও বেগবানভারে চালু রাখার জন্য ও সর্বোপরি আমার শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য দরকার।

নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন- আমার নিজের ঘর ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সহায়ক অবস্থায় আছে? আমি কি আমার নিজের ঘর ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য সহায়ক অবস্থায় রাখতে যথাযথ ভূমিকা পালন করছি বা অবদান রাখছি?

ঘরের পরিবেশ ভালো হলে ঘরে বসবাসকারী মানুষগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার একটা শর্ত পূরণ হবে। আমরা জানি মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যকেও ভালো রাখা না রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

শিশুসন্তানের মানসিক সুস্থতার জন্যও ঘরের পরিবেশ ভালো রাখতে হবে। আপনি যদি শিশুর মাবাবা হন, অন্তত মাবাবা হিসেবে নিজের সন্তানের ভালোর দিকে গুরুত্ব দিয়ে হলেও ঘরের পরিবেশ ভালো রাখুন। কারণ, ঘরের পরিবেশ ভালো না হলে অতিসংবেদনশীল শিশুরা মানসিকভাবে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত হয়, যা তাদের সমস্যাপূর্ণ আচরণে প্রকাশ পায়।

কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ভালো হলে ঘরে কর্মরত মানুষগুলোর মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকার সাথে সাথে মানসম্মত ও পরিমাণগতভাবে কাজের চাহিদা পূরণের জন্য একটা শর্ত পূরণ হবে। আমরা জানি মানসিক স্বাস্থ্য শারীরিক স্বাস্থ্যকেও ভালো রাখা না রাখার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

কর্মরত মানুষদের মানসিক সুস্থতার জন্যও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ভালো রাখতে হবে। আপনি যদি কর্মক্ষেত্রের ঊর্ধতন কেউ হন, অন্তত ঊর্ধতন হিসেবে নিজের / আপনার সাথে কমর্রত মানুেষগুলোর ভালোর দিকে গুরুত্ব দিয়ে হলেও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ভালো রাখুন। কারণ, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ভালো না হলে কমর্রত মানুেষগুলো মানসিকভাবে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত ও ডিমোটিভেটেড হবে, যা তাদের কাজের ফলাফলে ধাপে ধাপে প্রকাশ পাবে।