ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

১.

শিশুশিক্ষায় ছড়িয়ে পড়া ক্রাইম ও প্রতিরোধহীনতা আমাদের জাতীয় জীবনে বিজয়ের মাসে একটি পরাজয়-গ্লানি। বহন করছি পুরো জাতি। আমরা একটি শিক্ষানীতি-বহির্ভূত পাবলিক পিরীক্ষা নিয়ে কথা বলছি। যা হওয়ারই কোনো নীতিগত ভিত্তি নেই, কিন্তু হচ্ছে, ২০০৯ থেকে। এটা একটা জাতীয় পরাজয়-গ্লানি নয়কি। আমরা মেনে নিয়েছি সবাই। বাধ্য হয়ে?

২.

কোচিং খারাপ কাজ, অন্যায়, কিন্তু হচ্ছে, বহাল তবিয়তে হয়ে চলেছে। এটা একটা জাতীয় পরাজয়-গ্লানি নয়কি। আমরা মেনে নিয়েছি সবাই। বাধ্য হয়ে?

৩.

শিক্ষানীতি-বহির্ভূত পাবলিক শিক্ষা পিএসসি-র প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে বলে সারা দেশের মানুষ, সংশ্লিষ্ট কোমলমতি শিশু বলছে, শিক্ষক বলছে, বলতে বলতে কাঁদছে লজ্জায় গ্লানিতে। অভিভাবক বলছেন। সরকারও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় স্বীকার করছেন না। দেশজুড়ে কোমল মতি শিশুদের “দোহাই ক্রিমিনাল বানানে না” বলে আহাজারি উঠছে শিক্ষাবিদের কণ্ঠে। কর্তপক্ষ কান দিচ্ছেন না। আমলে নিচ্ছেন না। বরং দিচ্ছেন হুমকি, ধামকি, হাত ভেঙে দিবেন, ফাঁস প্রশ্নপত্র ছড়ানো মাধ্য ফেইসবুক বন্ধ করে দেবেন। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের কোনো উদ্যোগ বা তদন্ত কমিটির কাজ কি হচ্ছে? এটা একটা জাতীয় পরাজয়-গ্লানি নয়কি।

৪.

সারা দেশের মানুষ তথা পুরো জাতি পরাজয়ের গ্লানি নিয়েই স্বাধীন দেশে পালন করছে বিজয়ের মাস। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও তার চেয়ে বড় বেশি দরদী মন্ত্রী তথা মন্ত্রীদের কথা শুনে হতাশা ও জাতির মাথা নষ্ট হওয়ার জোগাড় হচ্ছে। অন্যান্য যাাঁরা সংশ্লিষ্ট তাদের কথাও একই ক্যাসেট বারবার শোনার মতো অবস্থা। সবাই যেন গোঁ ধরেছে। দেশের ৯৯.৯৯ ভাগ লোকও যদি বলে আমরা মানব না। বলেছি তো বলেছি বাপের বেটা বাঘের বাচ্চা প্রমাণ দেব। তাই আমিই ঠিক আর ৯৯.৯৯ ভাগ লোক ভুল। ওরা তো পাবলিক, পাবলিকে কী না বলে. … কী না খায়। (পড়তে পারেন গোঁ ধরার একটি কবিতা, মোহাম্মদ রফিকের লেখা। প্রসঙ্গক্রমে মনে পড়ে গেল। কবিতাটি এক সময় খুব মুখে ফিরত )।

তবে, পিএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে সমাজে কারা কতটা সৎ-অসৎ তা পরীক্ষা হয়ে গেল। রেজাল্টও পেয়ে গেছি আমরা, পিএসসি পরীক্ষা আমাদের মাবাবা, শিক্ষক ও মাননীয় মন্ত্রীসহ অনেকের মুখোশ খুলে দিয়েছে। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর ভাষায়, “যখনই জরিপ করা হত, দেখা যেত জনপ্রিয়তার শীর্ষে আমাদের শিক্ষামন্ত্রী।… তারপর ধীরে ধীরে কোথায় জানি এই গোলমালটা শুরু হয়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে পুরো লেখাপড়ার বিষয়টিতে একটা গোঁজামিল দেওয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষানীতিতে নেই,  তারপরও এই দেশের ছেলেমেয়েদের উপর জোর করে বাড়তি পাবলিক পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।… পরীক্ষার হলে দেখাদেখি করে ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা দিচ্ছে, কোথাও কোথাও শিক্ষকেরা নিজেরা প্রশ্নের উত্তর ছাত্র ছাত্রীদের পৌঁছে দিচ্ছেন।পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হওয়ার পর শিক্ষক-অভিভাবকেরা সমান উৎসাহে সেই প্রশ্ন বের করে তাদের ছাত্রছাত্রী কিংবা সন্তানদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। শিশুরা অবাক হয়ে দেখছে তাদের শিক্ষকেরা কিংবা তাদের বাবা-মায়েরা একধরনের অসৎ মানুষ। সেই শিক্ষক কিংবা বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সামনে কেমন করে মুখ দেখান “ (ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মৃত ঘোড়া সমাচার, বিডিনিউচটুয়েন্টিফোরডটকম, ডিসেম্বর ৫, ২০১৪)। এই একটা কাজের কাজ- সমাজের কিছু মাবাবা, শিক্ষক ও মাননীয় মন্ত্রীসহ কিছু লোকের মুখোশ উন্মোচন ছাড়া পিএসসি পরীক্ষার আর কোনো উপকারিতা আমি খুঁজে পাইনি। তবু দায়িত্বশীলরা গো ধরেছেন, মরা ঘোড়াটাকে ঘোড়দৌড়ে নিয়ে যাবেন। শুধু টানাটানি সার।

বাস্তবে এই গোঁ ধরাটা যে কী ক্ষতি করছে শিশুশিক্ষার, এমনকি সরকারের অসংখ্য ভালো কাজকে ম্লান করে দিচ্ছে তা মোসাহেব, সুবিধাবাদে অন্ধদের বোঝার কথা নয়। বুঝবেন কেবল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সত্যিকার দেশপ্রেমিক সরকারের ভালো কাজের সমর্থকেরা। যাই হোক একটা ভুল হচ্ছে। ভুল থেকে সংশোধন হয়ে সুস্থ্ ও সুন্দর ধারায় ফেরা (রেজিলিয়েন্স) জরুরি। এক্ষেত্রেও আমি শ্রদ্ধেয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের পরামর্শটি উদ্ধৃত করছি, “আমাদের শিক্ষা পদ্ধতির কিছু কিছু ঘোড়া, পিএসসি পরীক্ষা, জেএসসি পরীক্ষা মরে গেছে। শুধু তাই নয়, মৃতদেহ থেকে রীতিমতো দুর্গন্ধ বেরহতে শুরু করেছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব এগুলোকে কবর দিতে হবে!” (মৃত ঘোড়া সমাচার)।

৫.

এরকম পরিস্থিতিতে একমাত্র ভরসাস্থল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তাই, তাঁর হস্তক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিশুদের রক্ষা করুন, পিএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি বন্ধ করুন (ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৪, পূর্বাহ্ণ ১১:৫৩)।