ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

“চুপকে চুপকে রাতের বেলা অভিসার কেন?” এরকমই ভাষায় গত শুক্রবার বিকেলে সাম্প্রতিক সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া এবং মালয়েশিয়া সফর সম্পর্কে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের পর প্রশ্নোত্তরকালে প্রসঙ্গক্রমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি সিরিয়াস ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক রসিকতা করেছিলেন।

উপরে উল্লিখিত প্রসঙ্গটি সবার জানা বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে কিছু সংখ্যক সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারি রাতের বেলা মিটিংকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী রসিকতাটি করেছিলেন। তিনি রসিকতার মাধ্যমে তাঁর প্রতি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আরেকটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন সাংবাদিকদের প্রতি। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর রাজনৈতিক রসবোধের পরিচয় দিলেন মাত্র। বিষয়টি দেশের একটি বড় অংশের কাছে সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এই বড় অংশটির সময় কাটছে এখন এবিষয়ে সমালোচনা করে। এই বড় অংশটি আর কেউ নয়, জনগণের মধ্যে থাকা একটি প্রতিক্রিয়াশীল বা রক্ষণশীল অংশ। এরা  জিন্দাবাদ, বাংলাদেশী জাতীয়বাদ, আল্লাহ হাফেজ এরকম নানা কিছুকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করছে যেমনি “জল নয় পানি, পানি নয় জল” “আবহাওয়া বনাম জলহাওয়া” বিতর্ক তুলে ব্রিটিশ আমলেই যারা সমাজ-রাজনীতি মাঠ গরম করতো, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এমনকি দাঙ্গা পর্যন্ত সৃষ্টি করতো। সেরকম একটি গোষ্ঠি যা নতুন কিছু নয় ছিল ব্রিটিশ আমলেও; এমনকি তার আগেও। ঐ যে আবদুল হাকিম যাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “যেজন বঙ্গে জন্মি হিংসে বঙ্গ বাণী, সেজন কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি” এরা সেই গোষ্ঠি , এরা না বাঙালি না পাকিস্তানি সবসময় নিজের জন্মকে, জন্মভূমিকে, জন্ম সংস্কৃতিকে অস্বীকার করে।

রসবোধ বিষয়ক আলোচনায় ফোকাসড হই। এসব ব্যাকডেটেড পাবলিকের পারসেপশন হচ্ছে, রসিকতা ছোটলোকের কাজ। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ব্যক্তির মধ্যে রসবোধ থাকা ঠিক নয়, (তার মধ্যে রসবোধ থাকলেও তার প্রকাশ (রসিকতা করা) গর্হিত কাজ। এমনকি এসব মৌলবাদীদের মতে রসিকতা মানে হ্যাংলামি। এসব রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়ার জবাব দেয়ার দরকার নেই, কারণ এটা তাদের মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অপজাত সৃষ্টি। আসলে মানুষ পরিচালিত হয় তার দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা। মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ন্ত্রিত হয় তার বিশ্বাস দ্বারা। মৌলবাদী বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিচালিত মানুষ আফিমের ঘোরে পৃথিবীর সব কিছু মূল্যায়ন করে। এরা রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা। সমাজে এধরনের বড় অপস্রোত বা গোষ্ঠি আছে অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ হবে।

সমাজের এই বিশাল মৌলবাদী গোষ্ঠির সাথে ও পাশাপাশি বাস করেও এর মধ্যেও আমাদের রসবোধ ও হাস্যরস বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কারণ হাস্যরস একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যসম্মত আচরণ। হাস্যরস সৃষ্টি ও হাস্যরসের সাথে জীবন কাটানো একটি জীবন যাপনের সংস্কৃতি। মৌলবাদীদের কথায়, অপসমালোচনায় যেন আমাদের হাস্যরসের বোধ হারিয়ে না যায়। ভয়টা হচ্ছে মৌলবাদীরা বদলায় না। তারা বদলালেও তা খুবই কদাচিত। বদলালে আর মৌলবাদী থাকে কী করে? অন্যদিকে উল্টো উদারবাদীরাই বদলায়। সে পরিবর্তন বা বদল যেন নেতিবাচক না হয় মৌলবাদীদের অপব্যাখ্যায় ভুলভাবে পরিবর্তন না হয় সে ব্যাপারে সাবধান।

একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে হাসুন। আপনি নিজেকে সুস্থ রাখার জন্যও হাসুন। সিরিয়াস বিষয় নিয়েও মাঝে মধ্যে হাসুন, কৌতুক করুন। রাজনৈতিক কৌতুক তো হওয়াই উচিত। খিস্তি খেউড় নয়, এর পরিবর্তে চাই নিছক সুস্থ রাজনৈতিক হাস্যরস। আবারও বলি,  হাসুন, সুস্থ থাকুন। হার্টটা ভালো রাখুন।