ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

আর কোন প্রশ্ন বা বিস্ময় নেই। এটাই তো আমেরিকা। আমেরিকা এমনই স্ববিরোধী এক যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের উচিত “নো দাইসেল্প” সুত্রে নিজের রাষ্ট্রসমূহের মানবতা ও বর্ণবাদ ও বিচারব্যবস্থায় মনোযোগী হওয়া। অন্যের দেশের মানবতার দিকে তাকাতে গিয়ে নিজের দেশের মানবতা কোথায় গিয়ে পৌছেছে তা গত কয়েক বছরের প্রতিবেদন পড়ে ও দেখে বিশ্ববাসী জেনে গেছে। তবুও আমেরিকা সম্পর্কে লিখতে আমাদের দ্বিধা-ভীতি কাজ করে।

কয়েক দিন আগে এই ব্লগপোস্টে আমেরিকার বর্ণবাদ, মানবতা ও বিচারব্যবস্থাকে সমালোচনা করেছিলাম । নিজের ভেতরে ভেতরে একটু ইতস্ততও ছিলাম এই ভেবে যে আমেরিকার সমালোচনা? শেষে দেখি এটি আলোর মুখ দেখেনি। ভাবলাম বাঁচা গেল। কিন্তু সিআইএর সাম্প্রতিক কারাবন্দীদের উপর নির্যাতনের প্রতিবেদনটি পড়ে আবার ভাবলাম, যা লিখেছি তাতো ঠিকই লিখেছিলাম। প্রকাশিত হলেই ভালো হতো। এমন স্ববিরোধী আমেরিকার সমালোচনা না করলে অন্যায় হবে। আজ শুধু শিরোনাম পরিবর্তন করলাম সময়ের পরিবর্তনের কারণে (পূর্বের শিরোনাম: “এ কোন আমেরিকা? বর্ণবাদে, মানবতার কান্নায় ও বিচারব্যবস্থার ত্রুটিতে সমাচ্ছন্ন?” নতুনটি তো উপরে শোভা পাচ্ছে।)। শিরোনাম থেকে প্রশ্ন উধাও। কারণ, আমার আর কোন প্রশ্ন বা বিস্ময় নেই। এটাই তো আমেরিকা। আমেরিকা এমনই স্ববিরোধী এক যুক্তরাষ্ট্র।

আমরা যখন কোনো রিডিং ম্যাটার পড়ি তখন আমাদের ভেতরে “আমাদের আমি” তৃতীয় সত্তা হিসেবে চিন্তা, সমালোচনা বিবেচনা পুনর্বিবেচনায় ব্যস্ত থাকে। তাই কয়েকদিন আগে সকালে পত্রিকা খুলে যখন হাসান ফেরদৌস-এর এক প্রতিবেদন পড়ছিলাম, “আমার আমি” তথা আমার তৃতীয় সত্তা একটু বেশি বোধ হয় সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। পড়ছিলাম, “একের পর এক নিরীহ ও নিরস্ত্র কৃষ্ণকায় মার্কিন নাগরিক পুলিশের হাতে নিহত হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিচারব্যবস্থার ফাঁকফোকর গলে বেকসুর পার পেয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আমেরিকার প্রধান প্রধান শহরে রাষ্ট্রব্যবস্থার এই স্পষ্ট বর্ণবাদী চরিত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ উঠেছে।”

পড়তে পড়তে বিস্মিত হয়ে ভাবি একি মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে যারা বিশ্বে মোড়ল হিসেবে পরিচিত আমরা যার সামনে গিয়ে বিচার চেয়ে নতজানু হয়ে দাঁড়াই, সহায়তা চাই সেই আমেরিকা?

পড়ছিলাম, “পুরো ঘটনাটি ভিডিও টেপে ধরা ছিল। প্রায় তিন মাস তদন্ত ও জুরি শুনানির পর পুলিশকে খুনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।”

আমার তৃতীয় সত্তাবলে উঠল, একি মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে যারা বিশ্বে মোড়ল হিসেবে পরিচিত আমরা যার সামনে গিয়ে বিচার চেয়ে নতজানু হয়ে দাঁড়াই, সহায়তা চাই সেই আমেরিকা?

আবার আরেকটি ঘটনা পড়তে থাকি প্রতিবেদনের পরের অংশে, “প্রায় তিন মাস তদন্ত ও বিচারের পর মূলত শ্বেতকায় জুরি উইলসনকে নির্দোষ ঘোষণা করে।” আবারও আমার তৃতীয় সত্তা যেন চিৎকার দিয়ে উঠল, একোন আমেরিকা? একি মানবাধিকার, আইনের শাসন নিয়ে যারা বিশ্বে মোড়ল হিসেবে পরিচিত আমরা যার সামনে গিয়ে বিচার চেয়ে নতজানু হয়ে দাঁড়াই, সহায়তা চাই একি সেই আমেরিকা?

গানে শুনেছি, পাপকে ঘৃণা করো, পাপীকে নয়। সুতরাং আমেরিকার বর্ণবাদকে ধিক্কার দিন, আমেরিকাকে নয় । আমেরিকার পররাষ্ট্রিনীতিকে ধিক্কার দিন আমেরিকাকে নয় । আমেরিকার অস্ত্রবাণিজ্যকে ধিক্কার দিন, আমেরিকাকে নয় । আমেরিকার যুদ্ধনীতিকে ধিক্কার দিন, আমেরিকাকে নয় । আমেরিকার ইসরাইল সমর্থনকে ধিক্কার দিন, আমেরিকাকে নয় । ইত্যাদি।

কয়েকদিন পর, অবশেষে আমার বোধোদয় হল, আর কোন প্রশ্ন বা বিস্ময় রইল না। আসলে এটাই তো আমেরিকা। আমেরিকা এমনই স্ববিরোধী এক যুক্তরাষ্ট্র। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজের রাষ্ট্রসমূহে মানবতা ও বর্ণবাদ বিরোধী তৈরি ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়া। নিজ দেশের মানুষের মধ্যে মানবতা ও বর্ণবাদ বিরোধী তৈরি ও বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় উপায়-কৌশল খুঁজে বের করা ও তা বাস্তবায়ন করা।