ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

একটা দেশে দেশপ্রেমিক যেমন বাস করে, সেই সাথে তেমনি দেশপ্রেমহীন দেশদ্রোহীরাও বাস করে। তাই, একাত্তরে দেশপ্রেমিকরা স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে দেশপ্রেমহীন দেশদ্রোহী রাজাকার আলবদর, আলশামসদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখনও আমরা সবাই দেশপ্রেমিক নই। এখনও দেশে দেশপ্রেমিক যেমন বাস করছে, সেই সাথে তেমনি দেশপ্রেমহীন দেশদ্রোহীরাও বসবাস করছে।

আমরা সবাই দেশে বাস করি, জোর গলায় দাবিও করি দেশ ভালোবাসি, কিন্তু দেশকে ভালোবাসি দাবি করলেও আমরা সবাই কিন্তু দেশপ্রেমিক নই। ঐ যে বলে না, সবাই কবি নয় কেউ কেউ কবি। অর্থাৎ কবিতা লিখলেই কবি হওয়া যায় না। তেমনি জোর গলায় দেশপ্রেমের পদাবলী পাঠ করলেও সবাই দেশপ্রেমিক নয়। তবে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে কথাটা হবে ভিন্ন রকম: সবাই দেশপ্রেমহীন-দেশদ্রোহী নয় কেউ কেউ দেশপ্রেমহীন-দেশদ্রোহী। এদের চিনে রাখা ভালো।

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার দেশপ্রেমের ফিল্টারিং পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। তিনি দেশপ্রেমকে ফিল্টারিং করেন সহজেই, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দিয়ে। যদি কারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত থাকে, অক্ষত থাকে, তাহলে তার দেশপ্রেম খাঁটি, তাকে দেশপ্রেমিক বলা যায়। যদি এর ব্যাত্যয় থাকে তাহলে ফিল্টারিংএ বাতিল বলে গণ্য হবে। সে হবে বাংলাদেশের অধিবাসী। তাকে দেশপ্রেমিক বলা যাবে না। এরকম অনেক বাংলাদেশের অধিবাসী বা নাগরিক আছেন যারা আসলে দেশপ্রেমিক নয়। এই ফিল্টারিংটা, ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর, আসলেই বড় চমৎকার। অনেকে ইনিয়ে বিনিয়ে দেশপ্রেমের নজির স্থাপন করে, কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ফিল্টারিংএ ফেলে দিলে দেখা যায় তার এক ফোঁটা দেশপ্রেমও নেই। এটা একটা চমৎকার ফিল্টারিং। পাঠক, আপনিও ব্যবহার করুন। আমি আশা করি, অধিকাংশ পাঠককেই পাব দেশপ্রেমিক হিসেবে। (তবে কারো একান্তই সাহস না হলে দেশপ্রেমের ফিল্টারিং করার দরকার নেই। কোরণ অনেকে পরীক্ষা দিতে ভয় পায়। পাছে ফেল করে বসেন।)

ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল তিনি আমাদের দেশের তরুণদের নিয়ে ভাবেন, এবং দেশের তরুণদের নিয়ে তাঁর কী ভাবনা এরকম প্রশ্নের সম্মুখীন তাঁকে হতে হয় প্রায়ই। তিনি তাঁর সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি তরুণদের নিয়ে খুবই আশাবাদী।” কারণ, তিনি তরুণদের মধ্যে সব ইতিবাচক জিনিসই দেখতে পান। তাঁর মতে, তরুণদের সব কিছু আছে। তাই তিনি বলেন, আমি শুধু একটা কথাই বলি, দেশটাকে ভালোবাসো। তার মানে, দেশপ্রেমই তাঁর কাছে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।

বিভিন্ন মাসে বিভিন্ন দেশপ্রেমের ও জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাধারা আমাদের চেতনাকে শাণিত করে। যেমন ডিসেম্বরে বিজয়ের মাস হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়। ফেব্রুয়ারিতে ভাষার মাসে আমরা ভাষা আন্দোলয়ে ইতিহাসে জানুয়ারির পর আবার উজ্জীবিত ও উদ্দীপ্ত হয়ে উঠি। মার্চে তো স্বাধীনতার ত্যাগের কথা স্মরণ করি। তারপর বাকি মাসগুলো এরই উপর ভর করে চলে যায়। তাই, অনুশীলন হিসেবে, বিজয়ের মাস, ভাষার মাস, স্বাধীনতার মাসকে যেন উদযাপন করি। নিজেও করি, পরিবারের অন্যদেরকেও যেন যুক্ত করি। আমার অন্য একটি লেখা শৈশব থেকেই শুরু হোক দেশপ্রেমের পাঠ, এতে বলার চেষ্টা করেছি, পরিবার থেকে শুরু হোক দেশপ্রেমের অনুশীলন বিদ্যালয়ে চালু থাক দেশপ্রেমের পাঠ। এমনকি এই দেশপ্রেমের ধারা যে চালু থাকে সারাজীবন।

দেশপ্রেম ও মানবতাই হোক আমাদের চালিকাশক্তি। জাফর স্যারের মতো আমিও বিশ্বাস করি, আমাদের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সব ইতিবাচক শক্তিই আছে। এমনকি দেশপ্রেম ও মানবতাও আমাদের সকল/অধিকাংশ তরুণের মধ্যে আছে। তা যেন পরের প্রজন্মেও ছড়িয়ে দিই। তবেই হবে অব্যাহত দেশপ্রেম ও মানবতার শিক্ষা। বিজয়ের মাসে, বছরের শুরুতে, ভাষার মাসে, স্বাধীনতার মাসে… তথা প্রতিটি মাসে মোদ্দাকথা বছরজুড়ে, জীবনজুড়ে দেশপ্রেম ও মানবতা আমাদের চেতনায় চালিকাশক্তি হিসেবে ক্রিয়াশীল থাক।