ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আমাদের প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক এমনকি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা-ব্যবস্থাও ‘গাইড-নির্ভর’ হয়ে পড়েছে। জানা যায়, “বছরের শুরু না হতেই পঞ্চম শ্রেণির প্রায় সব শিক্ষার্থীই অন্তত একটি গাইড বই কিনেছে। একই উদ্দেশ্যে অনেক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও গাইড কিনতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করছেন।” (প্রাথমিকে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন কদর বেড়েছে নিষিদ্ধ গাইডে”)

এভাবে রাজাকারদের হাতে আমাদের শিক্ষা ও সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতির পরাজয় দেখে আমরা আশঙ্কিত ও আতঙ্কিত।শর্ষের মধ্যেই ভুত। একদিকে, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বছরের প্রথম দিনে পাঠ্যবই দেওয়া হয়। অন্যদিকে গাইড কিনতে বাধ্য হয়। একদিকে যোগ্যতাভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি ও সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতি, অন্যদিকে কোচিং ও গাইড-নির্ভরতা। এ এক চরম স্ববিরোধিতা চলছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়। পাঠ্যবইয়ের গাইডবই সংগ্রহ সম্পন্ন হয়ে গেছে। শুনে বিস্মত না হয়ে উপায় নেই, ছাত্র-শিক্ষক-পাঠ্যবই উন্নয়কারী সবাই ‘গাইড-নির্ভর’ হয়ে পড়েছে।

বাস্তবে দেখা যায়, স্বয়ং পাঠ্যবই উন্নয়নকারী ও শিক্ষকেরই যেখানে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি নিয়ে যথাযথ ধারণা নেই, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। এই পরিস্থিতিতে উল্টো ফল হয়েছে। বেড়েছে গাইড বই, কোচিং ও সাজেশন নির্ভরতা। ‘গাইডনির্ভর’ হয়ে পড়ছে সৃজনশীল পশ্ন পদ্ধতি। প্রমাণ চান, পাঠ্যবই লেখক,শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের কাজের ও পড়ার টেবিল চেক করুন। আর অভিভাবকদের সাথে কথা বলুন। পাঠ্যবই উন্নয়কারী ও শিক্ষকদের সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি সম্পর্কে দক্ষ করতে না পারায়ই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা গাইড বই দেখে এ পদ্ধতির প্রশ্ন প্রণয়ন করেন।

Creative guide

জানা যায়, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার জন্য শিক্ষকরা বাইরে থেকে প্রশ্ন কেনেন। অথচ শিক্ষামন্ত্রণালয়ের আদেশানুযায়ী বাইরে থেকে সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশ্নপত্র কেনা নিষেধ। কিন্তু শিক্ষকরা মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ মানছেন না।

যেখানে পাঠ্যবই উন্নয়কারী ও শিক্ষকরাই এই পদ্ধতি পুরোপুরি আয়ত্ত করতে পারেননি। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পাঠ্যবই উন্নয়কারী ও শিক্ষকদের অগ্রগতিতেই যদি এই দশা; তাহলে শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়ন হবে কি করে?

অন্যদিকে এরই সুযোগে আমাদের শিক্ষা ও সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতির নিয়ন্ত্রন চলে গেছে রাজাকার গাইড লেখক ও কোচিং ব্যবসায়ীদের হাতে। এটা কি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযদ্ধের চেতনার পরাজয় নয়?

শিক্ষাব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে আরটিভি’র ধারাবাহিক রিপোর্টের অংশবিশেষ দেখুন।

কাকতালীয় হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি মুদ্রিত প্রামাণ্য ও সহায়ক প্রতিবেদন ”প্রাথমিকে যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন কদর বেড়েছে নিষিদ্ধ গাইডে “ পেয়ে গেছি এর মধ্যে। পড়তে পারেন। প্রতিবেদককে ধন্যবাদ। তিনি একেবারে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ তথ্য তুলে এনেছেন, “প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর তৈরির জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে নিষিদ্ধ নোট গাইডের কদর বেড়েছে। বছরের শুরুতেই পঞ্চম শ্রেণির প্রায় সব শিক্ষার্থীই অন্তত একটি গাইড বই কিনেছে। একই উদ্দেশ্যে অনেক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও গাইড কিনতে শিক্ষার্থীদের উত্সাহিত করছেন। আবার কোথাও স্কুল কর্তৃপক্ষ একাধিক গাইড কিনতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ করেন অভিভাবকেরা।”

নোট-গাইড প্রকাশকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিয়েই স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন কাজ করছে বলে মনে করেন অভিভাবকরা।

এরকম, রাজাকারদের নিয়ন্ত্রণে আমাদের শিক্ষা ও সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতির মরণাবস্থা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরাজয় নয়?

একটা শোষণহীন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে একাত্তরে মুক্তিকামী বাঙালি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছে। রাজাকার আলবদররা তা চায়নি বলে এর বিরোধিতা করেছে। দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের পট পরিবর্তনের পর আবার দেশের শাসন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নেয় স্বাধীনতাবিরোধী সেই মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরদ্ধপথে নিয়ে যেতে থাকে।

এখনও যারা দেশের শত্রু নব্য রাজাকার তারা একটা শোষণহীন, বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠন যাতে ব্যাহত হয় সে উদ্দেশ্যে সংবিধানে উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে দিচ্ছে না। সাম্প্রতিক শিক্ষানীতিতে নেই এমন ব্যবস্থাই শিক্ষাক্ষেত্রে চাপিয়ে দিচ্ছে। সমস্ত ভালো নীতিমালা বাস্তবায়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। কিছু লোকের নব্য রাজাকারদের অপকর্মের কারণে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মরণাবস্থা ও সৃজনশীল প্রশ্ন-পদ্ধতির মতো শুভ উদ্যোগ ধ্বংস হতে চলেছে। এসব নিষিদ্ধ গাইড ব্যবসায়ী ও এধরনের বেনিয়ারা নব্য রাজাকার হিসেবে আখ্যায়িত হতে পারে। আসুন এদের ঘৃণা করি, বলি, তুই নব্য রাজাকার।

রাজাকার; Urdu: رضاکار‎, literally “volunteer” ঐতিহাসিকভাবে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধ-শক্তি হানাদার পাকিস্তানিদের স্চেছাসেবক হিসেবে মাতৃভূমির বিরুদ্ধে শত্রুপক্ষের দালাল হিসেবে কাজ করেছে। ফলে, রাজাকার বলতে এখন দেশদ্রোহী, দালাল, মানবতার শত্রুদের বোঝানো হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কিছু মানুষ আমাদের শিক্ষার মতো জাতির মেরুদণ্ড স্বরূপ খাতে নব্যরাজাকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তারা পোশাকে-আশাকে দেশপ্রেমিকের আলখাল্লা পরে কথা বললেও দেশের শিক্ষার বিরুদ্ধে এতটাই দেশদ্রোহমূলক ও অপকর্মে লিপ্ত যে তাদের পরিচয় রাজাকার হওয়া উচিত। আমরা ঘৃণাভরে এদের রাজাকার সম্বোধন করতে চাই। এদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ কাজে জড়িত থাকাটা এতটাই দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর যে তা মুক্তিযুদ্ধে রাজাকারদের শত্রুর পক্ষে কাজ করার চেয়ে কোনো অংশে কম ক্ষতিকর নয়। এরা নব্য রাজাকার। আসুন এসব গাইডব্যবসায়ী ও এধরনের বেনিয়াদের ঘৃণাভরে বলি, তুই নব্য রাজাকার।