ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

।।প্রশংসা, স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক সংস্কৃতি ।।

কেউ কোনো ভালো কাজ করলে তাকে প্রশংসা করা, স্বীকৃতি বা এপ্রিসিয়েশন প্রকাশ করে / জানিয়ে অভিনন্দন জানানো আমাদের বাঙালি সমাজ-সংস্কৃতিতে খুবই কম, কিন্তু অল্পস্বল্প হলেও ছিল তা করা হতো নানান ভঙ্গিতে, বিদেশীদের ইতিবাচক প্রভাবে তা ভালোভাবে শুরু হয়েছিল। কারণ আমাদের মধ্যে সুবোধ জাগ্রত হয়েছিল যে আমরা ভদ্র ও সভ্য জাতি হিসেবে গড়ে উঠবো। কিন্তু ইদানীং এটা কৌশলগত দিক বিবেচনা করে ও ব্যবস্থাপনাগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনেক ক্ষেত্রে উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
একমাত্র আপনজন বা নিজের কোরামের হলে প্রশংসা, স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতা, অন্য গোষ্ঠি বা কোরামের হলে না-জানা, না-দেখার ভান করে চেপে যাওয়া। নির্দেশনা হল, অন্য গোষ্ঠি বা কোরামকে পাত্তা দিও না। অন্য গোষ্ঠি বা কোরামের লোকদের প্রশংসা করা, স্বীকৃতি বা এপ্রিসিয়েশন প্রকাশ করা / জানানো মানে তাকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা (প্রণোদনা)। সেটা এই ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমাজে ঠিক নয়।

 

অন্য গোষ্ঠি বা কোরামের লোকদের দেওয়া হচ্ছে অবজ্ঞা (রিজেক্শন), প্রশংসাহীনতা, অস্বীকৃতি ও অকৃতজ্ঞতা যাতে সে বা তারা নিরুৎসাহিত হয়ে দমে যায়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আসলে যার ভেতরে সারাক্ষণ বাজে “চরৈবতি চরৈবতি ”- “চলো চলো এগিয়ে যাই” বাজে সে কি কারো উৎসাহের ধার ধারে? উদ্যমী দমে না বরং নিরুৎসাহটা যদি কারো ষড়যন্ত্র হয় তা বুঝে সে তাতে বরং আরও দ্বিগুন উদ্যমে অনেক দম নিয়ে সামনে এগোয় বৈ কি!)

।।অকৃতজ্ঞতা বা ঋণ স্বীকার না করার সংস্কৃতি ।।

অামরা বাংলাদেশে অধিকাংশ মানুষ অন্যের কৃতকর্ম বা রেখে যাওয়া জিনিস গ্রহণ করি কিন্তু ঋণ স্বীকার করি না, যা নিতান্তই অকৃতজ্ঞতা; আমি আরও বাড়িয়ে বলতে চাই, এটা অজ্ঞতাও। কারণ আপনি যে অন্যের কৃতকর্ম বা রেখে যাওয়া জিনিস গ্রহণ করছেন ঋণস্বীকার করা ছাড়াই। তাতে যে  অকৃতজ্ঞতা বা ঋণ স্বীকার না করার সংস্কৃতি অব্যাহতভাবে চালু রয়ে যাচ্ছে তার আপনার উপরও বর্তাবে। আপনাকেও আপনার পরবর্তী প্রজন্ম ঋণ স্বীকার না করে শূন্যতায় ছুঁয়ে ফেলে দেবে। তাই একটা পর্যায় থেকে এই অকৃতজ্ঞতা বা ঋণ স্বীকার না করার ভুল বা অপ সংস্কৃতি আমাদের ত্যাগ করতে হবে।

 

।।তুমি যারে  পেছনে ফেলিছ সে তোমারে পেছনে টানিছে।।

প্রশংসা ,স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক (অ)সংস্কৃতি কোনো ভালো ও অনুসরণীয় কিছু নয়। পরিহার  করুন নেতিবাচকতা। এটা যদি পৃথিবীর সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী তথাকথিত কোনো লেখাপড়া জানা লোককর্তৃক করা হয় তাও গ্রহণযোগ্য নয়।

কাউকে প্রশংসা করা, স্বীকৃতি বা এপ্রিসিয়েশন প্রকাশ করা / জানানো মানে তাকে আরও এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করা (প্রণোদনা)। এটা একটি সভ্য ব্যক্তি সভ্য সমাজের মানুষের আচরণ হওয়া উচিত। এর উল্টোটা যেখানে হয় সেখানে ধরে/বুঝে নিতে হবে যে বা যারা প্রশংসা ,স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক আচরণ দেখাবে সে আসলে অশিক্ষিত, বর্বর, সভ্যতার আরো থেকে দূরে। তাকে সুযোগ বুঝে, ঝোঁপ বুঝে কোপ মারার মতো প্রশংসা করুন, তার কাজের স্বীকৃতি বা এপ্রিসিয়েশন প্রকাশ করুন। এক সময় যেন সে হেদায়েত হয়ে আপন-পর ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে তার ভালো কাজের প্রশংসা করা, স্বীকৃতি বা এপ্রিসিয়েশন প্রকাশ/ জানিয়ে অভিনন্দন জানায়।

কারণ, রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, সমাজে “ তুমি যারে ফেলিছ পেছনে সে তোমাকে পেছনে টানিছে।” অনেকটা গাছের ডালে বসে করাত দিয়ে ডাল কাটার মতো। আপনি যে সমাজে বসে আছেন, বাস

সুতরাং আমরা যেন কউে কাউকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার মতো নেতিবাচক সমাজ সংস্কৃতি /অপসংস্কৃতিতে আসক্ত না হই।

সমাজে সুস্থ প্রতিযোগিতা থাক। অসুস্থ প্রতিদ্বন্দ্বিতা যত কম থাকবে ততই আপনি আমি একটি সভ্য সমাজের লোক হিসেবে নিজেকে তত বেশি সুখি ভাবতে পারব। একটি অসভ্য সমাজ আমাদের কারো কাম্য হওয়া উচিত নয়।