ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আন্দোলন-সংগ্রাম, মিছিল মিটিং এমনকি হরতাল, অবরোধ সবই জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও ব্যবহৃত হতে পারে, যার অনেক কিছু প্রত্যক্ষও পরোক্ষভাবে দেশের আইন ও সংবিধান স্বীকৃতি দেয়, রাষ্ট্রব্যবস্থায় সহ্য করা হয়। কিন্তু হরতাল, অবরোধের নামে সহিংসতা যেন দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে দৃষ্টান্ত না হয়ে যায়। আমরা যেন গণতন্ত্রের নামে সহিংসতাকে স্বীকৃতি না দিই। আমি পুনরুক্তি করছি, সহিংসতা যেন দাবি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে দৃষ্টান্ত না হয়ে যায়।

অনেকে যাদের কথা বলাই পেশা, রাজনৈতিক ডামাগোলে তারা কথার ফুলঝুরি ফুটিয়ে অনেক অপরিণামদর্শী বক্তব্য দিয়ে দেন মিডিয়ায়। গণতন্ত্রের নামে সহিংসতার পক্ষে সাফাই-গীতি গেয়ে ওঠেন। স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশে এধরনের গণতন্ত্রের নামে সহিংসতার পক্ষে সাফাই-গীতি ও পরোক্ষ স্বীকৃতির স্থান নেই।

অনেকে সহিংসতার সাথে রাজনৈতিক কথাটা যুক্ত করে লেখেন “রাজনৈতিক সহিংসতা”। আমি মনে করি সহিংসতা সহিংসতাই। তার সাথে রাজনৈতিক কথাটা যুক্ত করে রাজনীতিকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। যেমন রাজনীতিতে কিছু অপমানুষ ঢুকে পড়েছে। এসব অনুপ্রবিষ্ট মানুষের কারণেই এসব ভুলভাল কথার চালান হচ্ছে। দেশে অনেক ভুলভাল মানুষ অনেক ভালো জায়গায় অনুপ্রবেশ করে যা-তা বলে বেড়াচ্ছে। সহিংসতাকে রাজনৈতিক সহিংসতা বলা তারই ধারাবাহিকতা। কোনো ভালো জিনিসকে নষ্ট করার এটাই উপায়। আমরা যে সহিংসতাকে সহিংসতা বলি। তাকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে এই অঙগনে স্থান না দিই। সরকার ও দেশের মানুষ মিলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। রাজনৈতিক ধারায় এর স্থান হতে পারে না।

সহিংসতা যাদের উপর আরোপিত হয়েছে তারা জানে কী ভয়াবহ এর প্রভাব। আমাদেরকেও সংবেদনশীলতা দিয়ে সহানুভূতি দিয়ে অনুধাবন করতে হবে, “সহিংসতা” দাবি আদায়ের হাতিয়ার হতে পারে না।

আমাদের সবার আগে দেশমাতৃকা ও তার সন্তানতুল্য সাধারণ মানুষকে নিয়ে ভাবতে হবে। তাদের উপর সহিংসতা করে দাবি আদায়ের কথামালা? ভুল। আমরা যেন যেকোনো কথা বলার আগে দেশকে মাথায় রাখি, দেশের সাধারণ মানুষকে বিবেচনায় রেখেই কথা বলি। ভুল ও বিভ্রান্তি ছড়ালে তার পরিণাম খুব খারাপ হতে বাধ্য। কিন্তু সেগুলোর দায় তো আর ভুল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীরা নেবে না। তাই যারা ক্ষমতায় আছে তাদের কঠোরভাবে খেয়াল রাখতে কেউ যেন ভুল ও বিভ্রান্তি ছড়াতে না পারে। সবাইকে সীমার মধ্যে থেকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ভোগ করতে হবে। কাউকে স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরাচারিতা করতে দেওয়া যাবে না। স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরাচারিতার পরিণাম পাকিস্তান। আমরা পাকিস্তান হতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ হতে চাই যে দেশ বিশ্বে শান্তি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রোল মডেল।