ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

বাংলাদেশি টিভি দেখা মানে সহিংসতা/নৃশংসতা দেখা ও অমানুষিক কষ্ট পাওয়া। অমানুষিক বলছি এ-কারণে যে চারপেয়ে পশু যেমন নির্বিবাদে কষ্ট পেতে হয়, তার কিছুই করার, বলার, প্রতিবাদ করার থাকে না, কারণ সে বোবা প্রাণী, যার ভাষা থাকলেও প্রকাশ পায় না আমাদের কাছে। আমরা ইচ্ছেমতো তাকে মারি বা আদর করি সে আমাদের ইচ্ছে। বাংলাদেশে টিভি চ্যানেলগুলো তেমনি সবাই খবর প্রচার করছে। আর আমাদের অমানুষিক কষ্ট দিচ্ছে। একটা চ্যানেল কি আছে যে খবর/সংবাদ তথা দুঃসংবাদমুক্ত? আমাদের অবস্থাও অমানুষের মতো, ভাষাহীন জীবের মতো, আমাদেরও কিছুই করার, বলার, প্রতিবাদ করার নেই(?)।

বাংলাদেশি টিভিতে নৃশংসতার ছবি দেখতে হয়, শুনতে হয় নৃশংসতার খবর। দেখতে হয় পোড়া মানুষের আহাজারির ছবি, অপারেশনের ছবি, মৃত্যুর ছবি… গাড়ি পোড়ানোর লাল আগুনের গনগনে ছবি। হত্যা দৃশ্য- মুভিতে ধারণকৃত। বারবার। বহুবার। দেখে মাথা ঠিক রাখা কঠিন। মানুষ তো সাইকি হয়ে যাবে। শিশুদের নিয়ে দেখলে আরো বড় কোনো মানসিক সমস্যা/ব্যাধির আশঙ্কা আছে। কখন যে হঠাৎ দৃশ্যগুলো দেখানো শুরু হবে কে জানে। বলা নেই কওয়া নেই হঠাৎ শুরু হয়ে যায়, একজনকে খুন করছে কয়েকজন মিলে নৃশংস দৃশ্য। হঠাৎ শুরু হয় দেখানো লাশের পর লাশ। বিভৎস মুখ। তাই আমার স্ত্রী বলেন, টিভি দেখবে? বিদেশি চ্যানেল দেখো। নৃশংসতা দেখার অমানুষিক কষ্ট থেকে বাঁচো। ছেলেটাকেও রক্ষা করো।

আসলে আপাতত দেখতে হলে বিদেশি টিভি চ্যানেলই ভরসা। সহিংসতার ছবি শিশুকে নিয়ে দেখবেন না। নিজেরও দেখা বেশি ঠিক নয়। আপনি কি জানেন, আপনার কতটা নৃশংসতার দেখার মতো নার্ভের শক্তি রয়েছে? সুতরাং বেশি ঝুঁকি নেবেন না।

 

বিদেশি টিভি চ্যানেল দেখবো, কোন চ্যানেলগুলো? দেখতে হলে বিবিসি, সিএনএন, এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান হিন্দি চ্যানেল ইত্যাদি ছাড়া আর কী দেখোর আছে?

বিবিসি, সিএনএন, এনডিটিভি? সে তো খবর আর সংবাদ। শুধু কি সংবাদ আর খবর দেখবো?

আর ইন্ডিয়ান হিন্দি চ্যানেল দেখবেন, তাতেও স্বস্তি কোথায়?

আমরা জনগণ কী করবো?

বাংলাদেশি চ্যানেলগুলির মালিক, সাংবাদিক সবাই বেনিয়া। সবাই শুধু দুষ্টু ব্যবাসয়ীদের মতো টাকা আয়ের ধান্দা খোঁজে। সাংবাদিকতার নীতি, সামাজিক দায় মানবিক মূল্যবোধ সব হারিয়েছে উভয়ে বাংলাদেশি চ্যানেলগুলির মালিক ও সাংবাদিক সবাই।আমার এক সহব্লগার বললেন, ওদেরকে ঐক্যবদ্ধ দাবী জানাতে। ওদেরকে ঐক্যবদ্ধ দাবী জানায়ে কোনো লাভ হবে কি? বেনিয়া বাংলাদেশি চ্যানেলগুলির মালিক, সাংবাদিকরা কি মানুষ? দর্শক-শ্রোতাকে কি ওরা মানুষ মনে করে? আসলে ওরা নিজেরাও মানুষ না, দর্শক-শ্রোতাকে কি ওরা মানুষ মনে করে না।

তাই একটাই প্রতিবাদ, অধিকাংশ মহিলারা দেখে জি-বাংলাসহ আরও কিছু চ্যানেল, শেখে পারিবারিক কুটনামি। যা তাদের জীবনে প্রয়োজনীয়। তাই ওরা আরও কিছু দিন দেখুক জি-বাংলাসহ আরও কিছু চ্যানেল, শিখুক পারিবারিক কুটনামি। (ইতোমধ্যে সমাজে কুটনামি ভালোই অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আরও অনুপ্রবেশ ঘটুক। যারা নিজের সমাজকে সুস্থ ও স্বস্থ্ রাখে না, শুধু বেনিয়াগিরিতে ব্যস্ত শিক্ষা, পেশাগত (সাংবাদিকতা) দীক্ষা বিসর্জন দিয়ে সমাজকে ধ্বংস করে তাদের সমাজ তো হয় মূল্যবোধহীন নৃশংসতাপূর্ণ বা কুটনা সমাজই হয়ে উঠবে।))

অন্যদিকে সচেতন নারী ও পুরুষদের একমাত্র ভরসা ন্যাশনাল জিওগ্রাফী বা ডিসকভারী, বিবিসি, সিএনএন ইত্যাদি।

আসুন, বাংলাদেশি বেনিয়া চ্যানেলসমূহ বর্জন করি। এছাড়া বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদ প্রাধান্য, নৃসংসতা-কেন্দ্রিকতার এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে আর উপায় বা কী আছে আমাদের?