ক্যাটেগরিঃ মানবাধিকার

ঢাকায় একজন মানুষের খবর জানা গেছে, যে কিনা ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকতে থাকতে ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে ঘরের বাইরে আসেন না, আসতেও চান না। তার নাকি বাইরের আলোবাতাস কিছুই ভালো লাগে না। ধারণা করা হচ্ছে, অনেক দিন ধরে এভাবে আলোবাতাসহীন ঢাকা থাকতে থাকতে তার জ্ঞান-বুদ্ধি ইতোমধ্যে সাদা হয়ে গেছে।

এটা কোনো নতুন ঘটনা বা এই প্রথম কোনো এরকম কেইস নয়। ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকতে আসক্ত এরকম একটা কেইস আরো একবার আলোড়ন তুলেছিল, তা-ও ঢাকায়, সেই যে মিরপুরের দুই বোন! মনে পড়ে পাঠক? সারাক্ষণ ভয়ে ভীত দুই বোন- একজন ডাক্তার, অন্যজন প্যারাটেকনিকেল ইঞ্জিনিয়ার। পরে মানবাধিকার কর্মীরা পুলিশের সহায়তায় তাদেরকে বের করে এনেছিলেন। এখন আর তাদের সম্পর্কে কিছু শোনা যায় না। অনুমান করছি, ওই দুই বোন আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকতে আসক্ত এই তৃতীয় বোনটিকেও বের কেরে আনতে হবে। মানবাধিকার সংস্থা, মনস্তাত্ত্বিকবৃন্দ ও সমাজকল্যাণ-কর্মীরা কোথায়?

ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকতে আসক্ত মানুষটির কথা শুনতে শুনতে মনে পড়ে গেল শৈশবের প্রশ্ন-প্রশ্ন খেলার কথা। যেমন, “একটা প্রশ্ন করি, দেখি উত্তরটা বলতে পারো কিনা, ‘ঢাকার ঘাস সাদা কেন’?” এরকম প্রশ্নের মুখোমুখি হতাম আমরা, শৈশবে, বন্ধুদের কাছে। নিজেরাও অন্য বন্ধুদের এরকম সাধারণ জ্ঞানের অসাধারণ প্রশ্ন করতাম। এরকম প্রশ্ন-প্রশ্ন খেলার মাধ্যমে এমরা জেনে যেতাম অনেক মজার মজার সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞান। আজকে অনেক দিন পরে মধ্য জীবনে এই প্রশ্ন ও শৈশবের প্রশ্ন-প্রশ্ন খেলার কথা মনে পড়ে গেল।

সম্প্রতি আবিষ্কৃত মানুষটির নিজেকে এই যে ঘরের চারদেয়ালে ঢেকে রাখার আসক্তি এটা নাকি একটা খারাপ মানসিক রোগ। মানুষটি যেহেতু নারী তাই নিজেকে পর্দানশীন রাখতে পছন্দ করতেই পারেন। তাতে ক্ষতি নেই। কিন্তু পুরাপুরি আলোবাতাস ত্যাগ করা তো ঠিক না। আলোবাতাস না পেলে ঢাকা ঘাস সাদা হয়ে যায়। গাছ মরে যায়। আর মানুষ? মানুষেরও নাকি জ্ঞান-বুদ্ধি সাদা হয়ে যায়। ঠিক তাই, তার আচরণে সেরকমই প্রকাশ পাচ্ছে।

ঘরের চারদেয়ালে ঢাকা থাকতে আসক্ত এই তৃতীয় বোনটিকেও বের কেরে আনতে হবে। মানবাধিকার সংস্থা, মনস্তাত্ত্বিকবৃন্দ ও সমাজকল্যাণ-কর্মীরা কোথায়?