ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, জনগনের চাওয়া পাওয়া পুরন হয়না। একদল ভালো করেনি, জনগন আরেক দলের প্রতিশ্রুতির বুলিতে নতুন আশা ও সম্ভাবনায় বুক বাধে এবং ভোট দেয়। এছাড়া জনগনের কিছু করারও নেই। ফলাফল হিসাবে জনগন নতুন বোতলে পুরনো মদ ছাড়া কিছুই পায়না। চলে দেশের উন্নয়নের নামে ব্যাক্তিগত উন্নয়ন। জনগনের মনে স্বস্তি ফিরে আসে না। প্রতি পদে পদে হয়রানি আর করুন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে ”ক্ষমতার উৎস” নামের সেই জনগন। রাস্তা-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে এবং অফিস-আদালতে সবখানেই শোনা যায় জনদূর্ভোগের কথা। কখনো কখনো বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার বদৌলতে এসব আলোচনা নীতি নির্ধারনী মহল পর্যন্ত পৌঁছালেও কারো টনক নড়ে না। বড় ধরনের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন দল সমস্যার সমাধান করার মিথ্যা আশ্বাসে জনগনকে বোকা বানানোর চেষ্ঠা করে। অতীতের সরকারগুলোও এর ব্যতিক্রম করেনি। আসলে ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতা আকড়ে ধরে রাখার বিভিন্ন কৌশল নিয়েই ব্যাস্ত থাকে। অতীতের সরকারগুলোও তাই করেছিল, যার ফলশ্রুতিই ছিল ওয়ান- ইলেভেন। জনগনকে নিয়ে ভাবার সময় যেন কারো নেই। রাজনীতিবিদগন একবারও চিন্তা করে না যে, জনগনের ভোটেই তাদের নির্বাচিত হতে হবে। দেশে চলমান সমস্যার কথা বললে এ লেখা আর শেষ করা যাবে না বরং কোথায় সমস্যা নেই, আর কোথায় জনগনের ভোগান্তি নেই, সেটাই এখন ভাবার বিষয়। তবে ইহা খুজতে গেলেও রীতিমত গবেষণার প্রয়োজন। গত ৪ জুন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সেমিনারে বর্তমান মহাজোট সরকারের শরিক এবং টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন , ”ডিজিটাল সরকারের অনেক মন্ত্রী ও প্রশাসন ডিজিটাল প্রতিবন্ধী”। এ মন্তব্যের জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। কারন তিনি মহজোটের শরিক হয়েও এ সত্য কথাটি বলার সৎ সাহস দেখিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের কাছে সড়ক ভবন হস্তান্তর করা নিয়ে গত ২৯ মে জাতীয় সংসদে এক বিতর্কের প্রেক্ষিতে মাননীয় স্পিকার সংসদে বলেছেন , ”দেশের মানুষের বিচার পেতে বছরের পর বছর লেগে যাবে, আর নিজেদের বিষয় হলে ঝটপট সিদ্ধান্ত নিয়ে নেবেন, এটি ভালো দেখায় না। আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে”। মাননীয় স্পিকার অতি সত্য কথাই বলেছেন তবে তা নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। মাননীয় স্পিকারকে আমি ধন্যবাদ জানাতাম, যদি তিনি আদালত সম্পর্কে যে মন্তব্যটি করেছেন, তার সাথে আরও কিছু সংযোজন করে বলতেন, সাংসদ এবং মন্ত্রীগনও তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছেন না এবং সরকারী দপ্তর গুলো যেভাবে লুটপাটের দপ্তরে পরিনত হয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই জনগন সকল সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাংসদ, মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে। আর এমন ঘটনা ঘটলে, আমরা কেউ-ই দৌড়িয়ে পালাবার পথ খুঁজে পাব না। যাই হোক, মাননীয় স্পিকারের চোখে যা দৃষ্টিকটু মনে হয়েছে, তাই তিনি বলে ফেলেছেন। আমি ক্ষমতাসীনদের একটি কথাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- যত অনিয়মই হোক, ক্ষমতাসীন দলেরই তার খেসারত দিতে হবে, অন্য কারো নয়। জনগন ভোট দিয়ে দেশের সমস্ত দায় দায়িত্ব পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতাসীনদের হাতে তুলে দিয়েছে, বিচার বিভাগ বা অন্য কোন বিভাগ কোন অনিয়ম করলেও জনগনের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে না। তবে যেভাবে খুড়িয়ে খুড়িয়ে দেশ চলছে, একটি দেশ এভাবে চলতে পারে না। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের গত তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে অনেক কিছু শিখার আছে। দেশের প্রভাবশালী মহল তথা রাজনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বুদ্ধিজীবীদের অসহযোগিতা সত্ত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ পরিচালনায়, যে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার, আমার কাছে বিস্তারিত তত্ত্ব না থাকলেও যতটুকু আছে, তা তাকে যা অনুমান করতে পারি, আর তা হল দেশের প্রতিটি সরকারী দপ্তরের খরচ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিলেন গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অনেকেই হয়তো বলবেন -দশের উন্নয়ন করেনি বিধায় খরচ কম হয়েছে, একথা বললে শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। যদি শুধুমাত্র প্রশাসনিক খরচগুলোও তুলনামুলক পর্যালোচনা করা যায়, তবেও এর সত্যতা খুঁজে পাওয়া যাবে। আসলে কে করবে এ পর্যালোচনা? সবাই তো ব্যাক্তিগত উন্নয়ন আর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা নিয়ে নিয়ে ব্যস্ত। দেশ তথা জনগনের সেবা করার যদি বিন্দুমাত্র মানসিকতাও তাদের থাকে থাকে, তবে সমস্ত দম্ভিকতা পরিহার করে নীতিনির্ধারকদের উচিত যেখানে শিখার আছে, সেখান থেকে শিখে হলেও দেশ তথা জাতির জন্য কাজ করা। সরকারী অর্থের সঠিক ব্যবহার করা হলে দেশের পরিস্থিতি আজ এরকম থাকতো না। ”সরকারী কর্মকর্তা গন দুই টাকার কাচা মরিচ আনতেও সরকারী গাড়ী ব্যবহার করে”- ইহা একটা উদাহরন মাত্র । এমন অনেক উদাহরন এদেশে আছে। নীকি নির্ধারকগন এসব নিয়ন্ত্রনে নজর দেন না, কারন তাহলে যে নিজেকেও নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। উপায়ন্তর না পেলে জনগনের উপর তো সহজেই চাপিয়ে দেয়া যায়। সরকারী ব্যয় বহন করতে না পেরে দফায় দফায় মূল্য বৃদ্ধি, সরকার কর্তৃক গৃহীত বিপুল পরিমান ব্যাংক ঋনের কারনে ব্যাংকে তারল্য সংকট এবং নতুন নতুন দ্রব্যের উপর করারোপ ও কর বৃদ্ধি অন্যদিকে সরকারী সেবার মানে অধ:গতি এবং ভোগান্তি, যার ফলে দেশের ব্যবসা বানিজ্যে মন্দাভাব, কর্মসংস্থানের অভাব ইত্যাদি এদশের জনগনকে অতি মাত্রায় পীড়া দিচ্ছে। জনগন ক্ষোভে ফুঁসছে। পত্র পত্রিকা এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক´ মিডিয়ায় এসব প্রকাশিত না হওয়ায় হয়ত বা নীতি নির্ধারকগন বুঝতে পারছেন না বা বুঝলেও না বুঝার ভান করছেন। একজন সাধারন মানুষের মনের ভাব কেবল আরেকজন সাধারন মানুষই বুঝতে পারে। আমাদের দেশের রাজনীতিকগন ততদিন সফল হবে না, যতদিন তারা সাধারন হতে না পারবেন। নীতি নির্ধারকগন ভুলে গেছেন- এদেশ যে সাধারন জনগনই স্বাধীন করে ছিল। সাধারন জনগন আবারও প্রয়োজনে যুদ্ধ করবে, তবে এ যুদ্ধ হতে পারে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির। একদল ক্ষমতা ছাড়বে আরেকদল গ্রহন করবে, এভাবেই কি চলতে থাকবে এদশের রাজনীতি? দেশের জনগন কি জিম্মি হয়ে থাকবে এ দু’ দলের কাছে? দেশ কারো উত্তরাধিকার সম্পত্তি নয়। এদেশ জনগনের। জনগনের রক্তে রঞ্জিত এ দেশ। এ দেশের জনগন জাগতে জানে। ১৯৭১ সালে একবার জেগে দেখিয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে আবারও জাগবে। বড় বড় বক্তৃতা না দিয়ে রাজনীতিকদের উচিত দেশের জন্য কাজ করা। অন্যথায় জনগন জাগলে মাইনাস ২ ফর্মুলার বাস্তবায়ন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়ে যেতে পারে। এবং আবির্ভাব ঘটতে পারে জনগনের বহুল প্রত্যাশিত অন্য কোন বিকল্প শক্তির। আপাত দৃষ্টিতে ইহা ছাড়া দেশে চলমান সংকট থেকে উত্তরনের আর কোন পথ আছে বলে মনে হয় না।