ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

জনগনের চাওয়া পাওয়া ক্ষমতাসীন দল সর্বদাই অনুধাবন করতে ব্যার্থ হয়। তারাতো আর সাধারন মানুষ নয়, ভি আই পি। আর তাই সাধারন মানুষের দু:খ কষ্ট তারা বুঝতে চান না। সাধারন মানুষ কি চায়, তা বুঝে সিদ্ধান্ত না নিলে ক্ষমতাসীনরা সর্বদাই জনপ্রিয়তা হারাবে। মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন এর দপ্তর পরিবর্তন করে হলেও মন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত রাখতেই হল। কেন? ধোয়া তুলসীপাতা হলে তার বিরুদ্ধে এভাবে জনমত তৈরী হতে পারে না। বিশ্ব ব্যাংক কি তার শত্রু? যদি তার শত্রু হয়, তবে কেন? এরকম আন্তর্জাতিক একটি প্রতিষ্ঠান যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাকে কেন মন্ত্রী পরিষদ এ রাখা এত জরুরী হল। কি এমন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে তার পিছনে যার ভয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রীত্ব থেকে বঞ্চিত করার সাহস পেলেন না। প্রধান মন্ত্রী মহোদয়ের মনে রাখা উচিত, এদেশটি জাতির জনক বঙ্গ বন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের রেখে যাওয়া উত্তরাধীকার সম্পিত্ত নয়, যা ভাই বোনদের মধ্যে ভাগ ভাটোয়ারা হতে পারে। দেশ কখনো উত্তরাধীকার সম্পত্তি হতে পারেনা। যদি তাই হত, তবে বঙ্গবন্ধু কখনো এদেশের নেতৃত্ব দিতে পারতেন না, কারন তার বাবা অর্থাৎ বতর্মান প্রধান মন্ত্রীর দাদা কখনো এদেশের নেতৃত্ব দেন নি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর খামখেয়ালী সিদ্ধান্তে ঢাকা দুই ভাগ হল। ঢাকার জনসংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। জনগন কে উত্তম সেবা দিতে হলে নাকি দুজন মেয়র দরকার! প্রধান মন্ত্রীর কাছে আমার প্রশ্ন- এদেশের জনগন কে উত্তম সেবা দেওয়ার জন্য দুজন প্রধান মন্ত্রী হবার বিষয়টি আপনার মাথায় আসেনা কেন? দুজন প্রধান মন্ত্রী হলে দেশের জনগন ঢাকাতে যানজট বৃদ্বি (নিরাপত্তার অজুহাতে রোড ব্লক) হওয়া ছাড়া কোন সেবার মানই বৃদ্বি পাবেনা জানা সত্ত্বেও জনগন এ বলে নিজের মনকে সান্ত্বনা দিত যে, যাক এ দেশের প্রধান মন্ত্রী হতে হলে এখন থেকে আর শেখ পরিবার এবং জিয়া পরিবার এর সন্তান হতে হবে না।

সাম্প্রতিক কালে গুপ্তহত্যা বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে খুব আলোচিত। স্বরাষ্ট মন্ত্রী মহোদয় এর বক্তব্যে কোন উদ্বেগের ছাপ নেই। থাকবেই বা কেন? তারতো আর কোন সন্তান সন্তুদি নেই। সন্তান হারা মায়ের কান্নার মর্ম তিনি কিভাবে অনুধাবন করবেন। আর আই জি পি’র মত উচ্চ পদস্থ সরকারী চাকুরীজীবীগন- এর বেতনের টাকায় বাসা ভাড়া না দিতে পারলেও বিলাস বহুল জীবন যাপন এবং তাদের নিকটআত্মীয়দের নিরাপত্তা দানের অর্থের কোন অভাব নেই। অনেক উচ্চ পদস্থ সরকারী চাকুরীজীবীগন তাদের ছেলে মেয়ে – ভাই বোনেদের ইউরোপে সেটেল করার চেষ্টা করেন। তারা নিজেরাই এদেশকে বাসস্থানের জন্য নিরাপদ মনে করেন না। যেন তার এবং তার নিকটআত্মীয় ব্যতীত আর কারো জীবনের কোন মূল্য নেই। তাদের বিলাস বহুল জীবন যাপন দেখলে মনে হয়, তারা যেন বাবা- দাদার আমল থেকেই এভাবে ভোগ বিলাস করে আসছেন এবং তা তারা উত্তরাধীকার সূত্রেই পয়েছেন অথচ সরকারী অনেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাই ছাত্র জীবনে অর্থাভাবে টিউশন করে জীবন নির্বাহ করেছেন। এভাবে আলাদিনের চেরাগ পাবার ইতিহাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ কারো অজানা নয়। আমাদের দেশের ক্ষমতাসীনরা এসবই জানেন কিন্তু এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় তাদের নেই। যাই হোক আমি ওদিকে যেতে চাই না।

বর্তমান সরকার তত্তবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছেন। কেন? জনগনের মতামত নিয়েছেন? জনগন আপনাদের অধীনে নির্বাচনকে সমর্থন করবে কিনা জেনেছেন? জনগনের চাওয়া পাওয়ার মূল্য দিতে না জানলে জনগনও আপনাদের এড়িয়ে চলবে।

ক্ষমতায় এসেই বিদ্যুত বাচানোর জন্য ঘড়ির কাটা পরিবতর্ন করেছেন। নতুন নতুন উদ্ভট কিছু করতে পারলেই ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে? ফাইলের মধ্যে চাকা লাগিয়ে দিলেও ফাইল সরকারী অফিস গুলোতে ফাইল নড়তে চায়না। ফাইল চালাতে হলে সরকারী চাকুরী বিধিমালা পরিবর্তন করার প্রয়োজন। কেউ সরকারী চাকুরী পেলেই যেন ধরে নিতে না পরে চাকুরী যাবেনা। তাহলে হয়ত সরকারী এনালগ লোকগুলো ডিজিটাল হতে পারে। অন্যথায় সরকারী দপ্তরগুলোর এনালগ লোকদের দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। জনগনের কষ্টাজির্ত অর্থ থেকে তাদের বেতন দেয়া হয়, জনগেনর সেবা করার জন্য। রাষ্টীয় ব্যয়ভার নির্বাহের জন্য বর্তমান সরকার অর্থ নিয়ে ব্যাংক গুলাকে আর্থক সংকটে ফেলে দিয়েছেন। ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হবার কারনে ব্যবসায় বানিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করছে। অর্থ সংকট কমানোর জন্য সরকার বারবার জ্বালানীর দাম বৃদ্ধি করছেন। এ দাম বৃদ্ধির সরাসরি সাধারন মানুষের উপরই পড়ছে। তবুও টনক নড়ছেনা সরকারের। দুর্নীতি কমালেই রাষ্ট্রীয় ব্যায়ভার অর্ধেকে নেমে আসবে। যে সরকারী প্রতিষ্ঠানটির খরচ মাসে ১ কোটি টাকা, ঠিক সেই প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় চালাতে লাগবে ২৫ লক্ষ টাকা। তবুও সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে কাজের গতি নেই। সরকারী দপ্তরগুলো দিন দিন মেধা শূন্য হয়ে পড়ছে। কারন খতিয়ে দেখার এবং এ সমস্যার সমাধান নিয়ে ব্যস্থ থাকতে কোন রাজনীতিবিদকেই দেখা যাই না। প্রধান মন্ত্রী ব্যস্থ থাকেন বিদেশ সফর নিয়ে। আর অন্য মন্ত্রীরা ব্যস্থ থাকেন তেল মারা নিয়ে।

সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক ইংল্যান্ডে চিকিৎসাধীন। জাতির জনকের অত্যন্ত আস্থাভাজন লোক ছিলেন তিনি। সংস্কার পন্থী অভিযোগে আজ সে অবহেলিত। একদিন অসুস্থ মানুষটাকে দেখতে যাবার সময়ও বতর্মান প্রধানমন্ত্রীর নেই। অথচ বিগত সরকার গুলোর চেয়ে বিদেশ ভ্রমনে বেশী অর্থের অপচয় করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। যার নাম ভাঙ্গিয়ে আজ তিনি প্রধান মন্ত্রী তার প্রিয় ব্যাক্তিকে দেখার সময় তার নেই। ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে গিয়েছেন।

বিভিন্ন সভা সমাবেশে বক্তৃতা করার সময় মনে হয় তিনি যেন ঝগড়া করতেছেন। এ ক্ষমতা যেন চিরকালের। বাবার সম্পত্তি উত্তরাধীকার সূত্রে পেয়েছেন, কেড়ে নেবার সাহস আছে নাকি কারো? বি এন পি কিছু করলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানোর জন্য করে, এ মনোভাব আমাদের প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের কবে দুর হবে? মন্ত্রী সভায় যুদ্ধাপরাধী রেখে মুখে মুখে বড় কথা জনগন বুজতে পারে। জনগনকে বোকা বানাতে পারবেন না। জনগন আপনাদেরকে বোকা বানিয়ে ছাড়বে। আচ্ছা বলুনতো, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কি আদৌ হবে? যদি হয় তবে আগামী নির্বাচনে যুদ্ধাপরাধী বলে দোষারুপ করবে কাকে?

কোথায় যাবে মানুষ? আ’লীগ ভালো না করলে বি এন পি কে ভোট দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকেনা। আবার বি এন পি ক্ষমতায় আসলেও একই ঘটনা ঘটে। দুটি দলের কাছে জিম্মি গোটা দেশ তথা জাতি। মুক্তি যুদ্ধ ব্যবসায়ী এবং স্বাধীনতার ঘোষক ব্যবসায়ীগন ছাড়া বিকল্প কোন শক্তি নেই। এ মহুর্তে দেশে তৃতীয় শক্তির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।