ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

দিন বদলের ঘোষনা দিয়ে গত নির্বাচনে মহাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করে। মন্ত্রীসভায় নতুনত্ব এবং আধুনিক চিন্তাধারার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে দিনবদলের অঙ্গীকার হিসাবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের জন্য প্রানপন চেষ্ঠা চালিয়েও বর্তমান সরকার আমলা তান্ত্রিক জটিলতা, সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীদের অদক্ষতা এবং সীমাহীন দূর্নীতির কাছে পরাজিত হচ্ছে। অতীতের সরকারগুলোর মত বর্তমান সরকারও সরকারী অফিসগুলোতে কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ। গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে একই দল দু’বার কখনো সরকার গঠন করতে পারে নি। ক্ষমতাসীন দল সর্বদাই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। বর্তমান সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। এর কারন বিরোধী দলের ভাল কাজ নাকি সরকারী দলের ব্যর্থতা? সরকারী দল তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়। এ সুযোগে বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। ক্ষমতার পালা বদল হয় কিন্তু দেশের উন্নয়নের নামে হয় লুটপাট। কোন এক মন্ত্রী মন্ত্রনালয় চালানোর দায়িত্ব পায় সাময়িকের জন্য, আর সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগন দায়িত্ব পায় স্থায়ী ভাবে। স্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগনের মধ্যে স্বচ্ছতা এবং দক্ষতার অভাব থাকলে একজন মন্ত্রী যতই দেশ প্রেমিক এবং অভিজ্ঞ হোক না কেন, কোনভাবেই তার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়। একটু তুলনামুলক পর্যালোচনা করলে সহজেই অনুমেয় যে, সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগন কতটা পিছিয়ে আছে।

সরকারী কিছু কিছু বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত লোকসান অথবা সম্ভাব্য লোকসান এড়ানোর জন্য বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেয়া হলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছেনা। কারন সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এখনো মান্ধাতার আমলের পদ্ধতি এবং সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগন দ্বারা আগের মতই পরিচালিত হচ্ছে। সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশী সংখ্যক কর্মকর্তা -কর্মচারী এবং অনেক মুল্যবান অবকাঠামো নিয়েও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মত সেবা দিতে পারছেনা। সরকারী একটি ব্যাংকের সাথে বেসরকারী একটি ব্যাংকের তুলনা করুন, তাহলে বুঝতে আর কিছুই বাকী থাকবে না। সরকারের নীতি নির্ধারক মহল এর সমস্যা এবং সমাধান দুটোই জানেন কিন্তু ভোটের রাজনীতির কথা বিবেচনায় এনে কেউ সমস্যা সমাধানে আসতে সাহস পান না। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজীবীগন নিজ দায়িত্বে নিজেকে যুগের সাথে তাল মিলায়। কারন- কাজ না পারলে প্রমোশন হবে না এবং চাকুরী চলে যাওয়ার ভয়। সরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমন অনেক বি সি এস ক্যাডার আছেন- যারা চাকুরী স্থায়ী হবার পর অবসর গ্রহন পর্যন্ত এ দীর্ঘ কর্মজীবনে একবারও বই ধরেন নি এবং নতুন কিছু জানার চেষ্ঠা করেন নি। সরকারী গুরুত্বপূর্ন পদে অধীষ্ঠ এমন অনেক লোক পাওয়া যাবে, যারা এখনো সঠিকভাবে কম্পিউটার বন্ধ করতে জানেন না অথচ বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একজন পিওনও সেটা জানেন। সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগনই মূলত দেশ পরিচালনার কাজে নিয়োজিত থাকে। অনেকের ধারনা সরকারী চাকুরীজীবীদের বেতন কম, তাই তারা নিজেদের যুগের সাথে তাল মিলাতে পারেনা। আসলে কি তাই? সরকারী চাকুরীজীবীদের বেতন কম হওয়া স্বত্ত্বেও সবাই সরকারী চাকুরীর জন্য এত পাগল কেন? একজন প্রথম শ্রেনীর ৭ম গ্রেডের কর্মকতা যেসকল আনুষাঙ্গিক সুবিধা ভোগ করে (হোক তা বৈধ, অবৈধ বা অপচয়), তা বেসরকারী ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকও কল্পনা করতে পারেন না। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের যত বড় কর্মকর্তাই হোক, তাকে সর্বদাই উদ্বিগ্ন থাকতে হয় তার পারফরমেন্স নিয়ে, আর সরকারী প্রতিষ্ঠানের একজন পিওনকেও কখনও উদ্বিগ্ন থাকতে দেখা যায় না। সরকারী স্টাফ বাসে অফিসে যাওয়া -আসা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চাটুকারীতাই যেন তার কাজ। মন চাইলে এবং উপরি পাওয়া গেলে দু -একটু কাজ করতে দেখা যায় তাদের। অফিসে যাওয়া আসা করেই যেন তারা হয়রান হয়ে যান। আরেকটি সমস্যার নাম ”আমলাতন্ত্রিক জটিলতা”। আমাদের দেশের জনগন একটি কথা শুনে অভ্যস্থ যে, আমলা তান্ত্রিক জটিলতায় কাজটি হচ্ছে না বা বিলম্ব হচ্ছে। এর কি কোন সমাধান নেই?

সবাই জানে কিন্তু এ সমস্যার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না। আমরা পাঁচ বছর পর পর রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকার দেখেই খুশি হয়ে যাই। ক্ষমতায় গিয়ে অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন হয় না, আবার আরেক দলকে ভোট দেই। এভাবে আর কত দিন? আসলে রাজনৈতিক দল গুলোর ইচ্ছা থাকলেও ভোটের রাজনীতির জন্য তারা অনেক সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বা নিতে পারে না। যদি কেউ ক্ষুব্ধ হয়! এমন কোন ক্ষেত্র অবশিষ্ট নেই, যেখানে সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগনের অদক্ষতা বা দূর্নীতির কারনে জনগন প্রতারিত বা হয়রানীর শিকার হয় না। যতদিন সরকারী কর্মকর্তা -কর্মচারীগনের মধ্যে দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা ফিরে না আসবে অর্থাৎ তারা ডিজিটাল না হবে, ততদিন এদশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর এ থেকে উত্তরনের জন্য চাই বলিষ্ট এবং সাহসী নেতৃত অন্যথায় ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা শুধু রাজনীতিবিদদের মুখে মুখেই শোভা পাবে।