ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বরাবর,
আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
মাননীয় অর্থমন্ত্রী,
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়ঃআপনার সমীপে কিছু কথা এবং কিছু প্রশ্ন করবার আবেদন পত্র।

জনাব,
আপনাকে স্যার বলে সম্বোধন করতে গিয়ে কোথায় যেন আটকে গেল!অনেক দিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড় ভাই বলেছিলেন, আসলে আমাদের অর্থমন্ত্রী অতিরিক্ত মেধাবী।আর তিনি যেসব ফর্মূলা পেশ করেন,তা উন্নত রাষ্ট্রের জন্য কার্যকর হলেও আমাদের মতো ফকিরি রাষ্ট্রের জন্য তা মৃত্যু ফাঁদ(!)
যাক অনেক দিন পরে হলেও, আপনি সেই বড় ভাইয়ের কথা কে বাস্তবে রূপ দিলেন।আপনার একটি ফর্মূলা যখন জাতির শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধব্বংসের দিকে নিয়ে যায়, তখন তাকে নিশ্চই মৃত্যু ফাঁদ-ই বলতে হবে।তাই না?

আপনার হয়তো ধারনা, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে শুধু বড় লোক ঘুষঘোর বাবাদের সন্তানরাই পড়ে।যাদের কাছে টাকা পয়সা কিছুই না।সব ত্যাজপাতা।আপনি ব্যাট আরোপ করলেন,আর তারা অনায়াশে টাকা দিয়ে দিবেন!প্রকৃত অর্থে যদি শুধু ঘুষখোর বড়লোকদের সন্তানরাই পড়ত,তাহলে ভ্যাট বন্ধের দাবিতে কেউ রাস্তায় নামতো না।অকারনে কেউ কি আপনাদের পুলিশ কিংবা ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মার খেতে চায়?

ইহতেশাম!ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিএসই ডিপার্টমেন্টের ছাত্র।এসএসসিতে গোল্ডেন প্লাস,ইন্টারে এ প্লাস পাওয়া স্বত্বেও দেশের কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জায়গা হয় নি।বলতে গেলে তার ভাগ্যটা ততোটা সুপ্রসন্ন ছিল না।পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারাটাকে পরম সৌভাগ্যই বলতে হয়!কারন দেশের পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়গুলোর সর্বমোট আসন সংখ্যা মাত্র ৫০,০০০!আর তার বিপরীতে প্রতি বছর ৭ লক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে থাকেন।তার উপর আছে,ভর্তি বানিজ্য!এসব কিছু মিলিয়ে ইহতেশামের ভাগ্যে কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জুটে নি।তবে কি সে,তার স্বৈসব থেকে লালন করা বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে, সেই স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিবে?

ইহতেশামের বাবা সামন্য মুদি দোকানদার!ভাই বোন তিন জনের মধ্যে একমাত্র ছেলে ইহতেশামকে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করালেন।তিন মাস পর পর যখন সেমিষ্টার ফি এবং টিউশন দিতে যান,তখন তাকে সুদের উপর ধার করতে হয়!আর এদিকে ঢাকায় থাকা খাওয়ার খরচ চালানোর জন্য ইহতেশামকে দুইটা টিউশুনি করতে হয়!টিউশুনির টাকা দিয়ে খরচাটা চালিয়ে নিতে পারলেও,সেই টিউশুনি করানো তার জন্য অমানুষিক পরিশ্রমের মতো মনে হয়!কারন,সারাদিন ক্লাস ল্যাব শেষ করে আবার টিউশুনি করানোটা বেশ কষ্ট করই বটে।

আজ ইহতেশামের মতো হাজারো ছাত্র নিজের রক্তকে পানি করে,প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ডিগ্রী অর্জন করছেন।আপনার রাষ্ট্রের উচিত ছিল,সেখানে কিছুটা ভর্তুকি দেয়া এবং মেধাবীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করা।কিন্তু তা না করে উল্টো তাদের ঘাড়েই ভ্যাট চাপিয়ে দেয়া,এ কি রকম বিচক্ষনতা?

মাননীয় মন্ত্রী! আপনি দয়া করে একটি বার দেশের ৮৩ টি প্রাইভেট ভার্সিটি গুলোর ছাত্র ছাত্রীদের চেহারা দেখে আসুন।টিভিতে দেখা ডিজুস পোলাইপাইন কিংবা হিপহপের উগ্রদের দেখা না মিললেও, গ্রামের সহজ সরল চাষাভুষার মানুষের সন্তানদের ঠিক দেখা পেয়ে যাবেন।আর তাদের সংখ্যাটা নিতান্তই কম নয়।কমপক্ষে ৭৫% শিক্ষার্থীরাই এখন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসে।যাদের সারাটা দিন কাটে ভার্সিটিতে ক্লাস করে!আর সন্ধ্যা কাটে টিউশুনি পড়াতে।

তারা চিন্তা করে, আমি যদি আমার থাকা এবং খাওয়ার খরচটা নিজে চালাতে পারি তাহলে আব্বার চার মাস পর পর ৪০-৫০ হাজার টাকা সেমিষ্টার ফি দেয়াটা সহজ হবে!

কিন্তু আপনার তা সহ্য হলো না! ভার্সিটিগুলোর ভিতরে ঘুস খোর পিতার গৃহপালিত সন্তানদের গাড়িতে চড়ে চলাফেরা দেখে ভাবলেন,আহহা! প্রাইভেট ভার্সিটির সবগুলা তো ঘুষখোরের ছেলে!অতএব, সেখানে ১০% অতিরিক্ত ভ্যাট বসিয়ে দাও!এরপর কিছুটা দয়াপরশ হয়ে তা কমিয়ে ৭.৫% করলেন!

মাননীয় মন্ত্রী!আপনার মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।প্রতি লিটার অকটেন কেনা পড়ে ৩৫ টাকা,আর আপনারা জন সাধারনের কাছে বিক্রি করেন ৯৮ টাকা।তাহলে লাভ্যাংশের এই টাকা গুলো কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে?

রাষ্ট্রিয় ব্যাংকগুলো থেকে সালমা এফ রহমানের মত ব্যবসায়িরা হাজার হাজার কোটি টাকা লোন নিচ্ছে কিন্তু পরিশোধ করা হচ্ছে না।একসময় তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষনা করলেন আর আপনারাও কোন ধরনের অনুষন্ধান ছাড়া তাকে অব্যাহতি দিলেন।তাদের পিছনে যদি রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচ করতে পারেন,তবে শিক্ষা ক্ষেত্রে ভ্যাট কেন মৌকুফ করতে পারে না?

মাননীয় মন্ত্রী!আপনার কপাল ভালো যে,আপনি এক অথর্ব জাতির মন্ত্রী হয়েছেন!যাদের পরনের কাপড়টা খুলে নিলেও টু শব্দটি করার সাহস রাখে না!পুলিশের ডান্টা আ জল কামানের নানা রংয়ের পানির সাথে যোগ হয়ে ছাত্রলীগের পৈশাচিক আক্রমনের ভয়ে আজও কেউ কেউ চুপচাপ ঘরে পা গুটিয়ে বসে আছেন!তবে আশা করছিিআগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেসব গর্ধবরাও রাজপথে নেমে আসবে।

একটি জাতিকে ধব্বংস করতে চাইলে,তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধব্বংস করে দাও।শিক্ষার উপর এহেন আরোপিত ভ্যাট বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে দফায় দফায় ভ্যাট যে আরোপিত হেতই থাকবে তা একটু হলেও আমরা বোকা জনতা বুঝতে পারি।আর সে সময় পুরো জাতিটাকে ধব্বংস করে আপনি আপনার আরোপিত কাজের সুফল ভোগ করবেন।তাই তো মাননীয় মন্ত্রী?

মাননীয় মন্ত্রী! প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রীতে আপনি যেমন অতিরিক্ত মেধাবী , তেমনি একটি দেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে ধব্বংস করারর বিষয়েও আপনি অতিরিক্ত মেধাবী,এখন দেখা যাচ্ছে জাতি ধব্বংসেও আপনি কম পারদর্শি নন।

মাননীয় মন্ত্রী,ভুলে যাবেন না দেশটা কিন্তু আমাদেরই।আপনি এমন কিছু করে যাবেন না,দেশের পরবর্তি বংশধররা যেন আপনার নামটি ঘৃনা ভরে স্মরন করতে বাধ্য হন।

ইতি
প্রতিবাদী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে
শাহমুন নাকীব ফরাবী