ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

গতকাল সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতেছি! রাস্তাটাকে সংক্ষিপ্ত করার জন্য ভিতরের একটি গলি দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দুইজন পুলিশ বাঁশি ফুঁকিয়ে দাঁড়াতে বললেন! আমি ষ্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে গেলাম।

একজন এসে প্রশ্ন করল, কোথায় যাবেন?

জবাবে বললাম, বাসায় যাব!

আর একজন প্রশ্ন করল, কোথায় আপনার বাসা?

জবাবে বললাম, এই তো সামনের মূল রাস্তাটা পেরিয়ে আরও দশ মিনিট হাঁটলে আমার বাসা!

একজন বলল, আপনার কাছে পাশ আছে? এটা নিয়ন্ত্রিত এলাকা! এর ভিতর দিয়ে যেতে হলে পাশ লাগবে!

আমি মনটা খারাপ করে পিছনে হাঁটা শুরু করলাম! তখন আমাকে পাশ কাটিয়ে আরও কয়েকজন ঐ পথ দিয়ে গেল। সেই দৃশ্য দেখে, আমি আবারও পুলিশ বাবুদের শরনাপন্ন হলাম!

গলাটা করুণ করে বললাম,ভাই এই রাস্তা দিয়ে যেতে না পারলে আমাকে আরও কিলো খানেক রাস্তা ঘুরে আসতে হবে! পুলিশবাবু সুযোগ বুঝে বলল, এ পথ দিয়ে যেতে হলে টাকা লাগবে(!) আমি পুরাই মাননীয় স্পিকার হয়ে গেলাম!

বললাম, কত টাকা?

একজন আগ্রহ নিয়ে বলল, বেশি না! বিশ টাকা লাগবে(!)

আমি বললাম, সর্বনাশ! দৃষ্টিভঙ্গি আর চাহিদা এতো নিম্ন হলে এ জাতি উন্নতি করবে কিরে! এবার তারা দাঁত বের করে হাসতেছিল! আমি বললাম, হায়রে বাংলাদেশ! একথা বলে পিছন ফিরে হাঁটা শুরু করলাম!

বেশ কিছুদিন আগের কথা! তখনও রংপুরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়নি। আমরা কয়েকজন বন্ধু মিঠাপুকুর থানার সামনে মাঝে মাঝে আড্ডা দিতাম!

একদিন থানার সামনে পুলিশের বেশ জটলা! আমরা ভাবলাম, হয়তো কোন ঝামেলা হয়েছে। একটু পর পুলিশরা সিগনাল দিয়ে একটি বাস থামালো! বাসটি তল্লাশি করে ৫০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে আটক করল।

পরের দিন পত্রিকায় দেখলাম, রংপুরের মিঠাপুকুরে ৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার।বাকী ২০ বোতল গেল কোথায়?

নিজামউদ্দিন আউলিয়া নামের এক বুজুর্গের কথা,আমরা প্রায় শুনে থাকি! তাঁকে নিয়ে একটি গানও আছে! “দিল্লীতে নিজামউদ্দিন আউলিয়া এলো”।

নিজামউদ্দিন সাহেবের আউলিয়া হবার পিছনে একটি ঘটনা, প্রায় লোকমুখে শোনা যায়। নিজামউদ্দিন মূলত ছিলেন একজন ডাকাত! সবাই তাকে নিজাম ডাকাত বলে চিনত। একদিন নিজামউদ্দিন তাঁর বউকে বললেন, আমি যে ডাকাতি করে তোমার এবং তোমার সন্তানদের ভরন পোষন করছি, তোমরা কি এই ডাকাতির পাপের ভাগ নিবে না? নিজামউদ্দিনের বউ বললেন, আমাদের ভরন পোষনের দায়িত্ব তোমার! তুমি কোথায় থেকে উপার্জন করতেছো সেটা তো আমাদের দেখার বিষয় নয়। আর তোমার পাপের ভাগও আমরা নিতে পারবো না। তারপর নিজাম ডাকাত, ডাকাতি ছেড়ে দিয়ে বাগদাদ রওয়ানা হয়ে যান। এবং সেখানে এক সূফির সাহচর্যে এসে নিজামউদ্দিন আউলিয়ায় পরিনত হন।

আজকে আপনি যে বউয়ের সুখের জন্য ঘুষ খাচ্ছেন, সেই বউ আপনার কবরের আজাবের ভাগ গ্রহন করবে না। যে সন্তাদের জন্য ঘুস খাচ্ছেন, তারাও আপনার কৃতকর্মের ভার বহন করবে না। হয়তো বেঁচে থাকতেই আপনার বৃদ্ধ বয়সের আশ্রয় হবে, বৃদ্ধাশ্রম!

তাই আসুন, আমরা আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাকে পরিবর্তন করবার চেষ্টা করি। বেঁচে থাকতে আমাদের কী কী প্রয়োজন, এমন করে না ভাবি! বরং আমরা ভাবি, কী কী না হলেও আমরা বেঁচে থাকতে পারবো! এতেই প্রকৃত কল্যাণ নিহিত। কারণ পৃথিবীতে যার সম্পদ কম, আল্লাহপাকের কাছে তার হিসাবও কম।