ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

কয়েকদিন আগে বিশেষ প্রয়োজনে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সেই বড় ভাই এবং আমাকে প্রয়োজনের তাগিদে, এক মুক্তমনা লেখকের কাছে যেতে হয়েছিল।

সেখানে যাওয়ার আগে বড় ভাই আমাকে সাবধান করলেন! খবরদার! ওনার কোন কথার প্রতিবাদ করবি না। চুপ করে শুনবি। যদি বুঝতে পারে, সোজা ১৪ শিকের ভাত খাইয়ে ছাড়বে! সেখানে যাওয়ার পর আড্ডাটা বেশ জমে উঠেছে। চা খাওয়ার ফাঁকে মুক্তমনা লেখক বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে কথা বলা শুরু করলেন। তিনি বললেন,“ এই মাথা মোটা মুসলমান মোল্লারা যদি টুইনটাওয়ারে হামলা না করত তাহলে বিশ্বের এই অবস্থা হতো না”! তিনি ভেবেছিলেন হয়তো আমিও সেই কথার সঙ্গে একমত পোষন করব। উনি আমাকে বললেন, তোমার অভিমতটা একটু বলত?

আমি বললাম, এগুলো ঠিক আমার অভিমত কিনা তাই ভাবছি! তবুও কিছু কথা না বলে পারছি না।

২০০২ সালের ২৬ মে,ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকাশিত মন্টেরী কাউন্টি হোরাল্ড নামক একটি জার্নালে মার্কিন বিমান বাহিনীর লেঃ কর্নেল নেইল বাটলার বলেন,“ অবশ্যই প্রেসিডেন্ট বুশ যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন হামলা সম্পর্কে জানতেন। কিন্তু তার এমন একটি হামলার প্রয়োজন ছিল”।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রদানে সিআইএ এবং এফবিআই দায়িত্ব পালন করে থাকেন। যে সিআইএ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাড়ি নক্ষত্রের সব খবরাখবর রাখে, তারা কি করে নিজের দেশের খবর রাখে না(!) আমেরিকাতে বসে এমন একটি পরিকল্পনা করা হল, অথচ সিআইএ কিছুই জানে না। কিন্তু এই ব্যর্থতা স্বরূপ তৎকালীন সিআইএ প্রধান জর্জ টেনেট এবং তৎকালীন এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলারকেও পদত্যাগ করতে হয় নি। কিন্তু কেন?

নিউজার্সির নিজ এ্যাপার্টমেন্ট এর জানালা দিয়ে মারিয়া নামের এক মার্কিন মহিলা টুইনটাওয়ার ধব্বংস হওয়া দেখতেছিলেন। তখন তিনি খেয়াল করলেন, তার এ্যাপার্টমেন্টের নিচে একটি সাদা ভ্যানের উপরে তিনজন যুবক ঘটনাটি ভিডিও করতেছিল এবং হাসতেছিল। তখন মারিয়া তৎক্ষনাত ঘটনাটি এফবিআই কে জানায়।সেই যুবকদের বর্ণনা এবং ভ্যান নাম্বার এফবিআই কে প্রদান করেন। এফবিআই সেই সাদা ভ্যানটিকে নিউজার্সির জায়ান্টস ষ্টেডিয়ামের কাছে ৩ নং রোডের অদূরে ভ্যানটি খুঁজে পায়। সেই ভ্যানের ভিতর থেকে ৫ জন যুবককে গ্রেফতার করে এফবিআই। যাদের প্রত্যেকের বয়স ছিল,২২ থেকে ২৭ বছর। আর ভ্যানটি ছিল, “আরভান মুভিং” নামের একটি কোম্পানীর।

এফবিআই সেই যুবকদের তল্লাশি করে ৪হাজার৭শ ডলার, দু’টি বিদেশী পাসপোর্ট এবং একটি বক্সকাটার উদ্ধার করে। উল্লেখ্য টুইনটাওয়ার হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত বিমান দু’টিকে বক্সকাটার দিয়ে ছিনতাই করা হয়েছিল। সেই আরভান মুভিং নামের কোম্পানীটির হেড অফিসে তল্লাশি চালিয়ে তেমন কিছু না পেলেও কয়েকদিনের মধ্যে সেই কোম্পানীর সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এফবিআই এর কর্মকর্তাদের যে বিষয়টি সবচেয়ে অবাক করেছিল তা তাহল, সেই ৫ যুবকের সবাই ছিল ইসরাঈলী। আরও মজার বিষয় হল, সেই যুবকদের নামে সন্ত্রাসী অভিযোগ নয় ভিসার মেয়াদ উত্তির্ন হবার কারণে অবৈধ অভিবাসী আইনে মামলা করা হয়। আর কিছুদিন পরেই তারা ছাড়া পেয়ে ইসরাঈলে চলে যায়। এফবিআই এর অনেক কর্মকর্তারাই বিশ্বাস করে, সেই ৫ যুবক গোপন গোয়েন্দা তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ছিল।[সূত্রঃ মন্টেরী কাউন্টি হোরাল্ড জার্নাল]

উল্লেখ্য ২০০১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ইসরাঈলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এ্যারিয়াল শ্যারনের সফর করার কথা ছিল। কিন্তু তড়িঘড়ি করে তিনি সফর বাতিল করেন। টুইনটাওয়ারে ৪ হাজার ইসরাঈলী কাজ করতেন। কিন্তু মজার বিষয় হল সেদিন একজন ইসরাঈলীও তাদের কর্মস্থলে যায় নি। আর এসব কিছুর জন্য দায়ী করা হলো আল কায়েদাকে। তারা নাকি হামলা চালিয়েছে এবং তাদের ওয়েবসাইটে এই হামলার দ্বায়ভার স্বীকার করে নিয়েছে। আর এই ঘটনার পর, বিশ্বের যে কোথাও কিছু ঘটলেই আল কায়েদা করেছে বলে প্রচার করা হতো। তাদের ওয়েব সাইটে স্বীকারক্তী মূলক লেখা পোষ্ট করা হতো। গুগলে আল কায়েদার নাম দিয়ে সার্চ দিলে শতশত ওয়েব লিংক চলে আসে। তাহলে, প্রকৃত আল কায়েদার ওয়েব সাইট কোনটা?

আর এতো কিছুর পরও আপনি মুক্তমনা হয়ে বললেব, এসব কিছুর জন্য মুসলিম মোল্লারাই দায়ী! বেচারা মুক্তমনা লেখক ঘাবড়ে গেলেন!

কিছুদিন আগে যেমন সবকিছুর নন্দঘোঘ ছিল আল কায়েদা! এখন সেই নন্দঘোষে পরিনত হয়েছে আইএস। এখন আর ওয়েব সাইট লাগে না। আইএস এর নামে একটি টুইটার একাউন্ট কিংবা একটি ফেসবুক পেজ খুলে দ্বায়ভার স্বীকার করে নিবে এবং সমস্ত দোষ চলে যাবে মুসলিমদের উপরে।

ফ্রান্সের মত একটি হাইসিকিউরড দেশে, অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রীয় অস্ত্র ক্লাশনিকোভ নিয়ে হামলা চালানোর সুযোগ পায় কি করে? জঙ্গিরা বসে বসে প্ল্যান করল আর ফ্রান্সের গোয়েন্দারা কি বসে বসে আঙ্গুল চুষেছে? ফ্রান্স এবং জার্মানীর মধ্যকার ফুটবল ম্যাচের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতোটাই হলকা ছিল যে, সন্ত্রাসীরা বোমা নিয়ে ষ্টেডিয়ামে প্রবেশ করে অথচ নিরাপত্ত রক্ষিরা জানেই না! অথচ শার্লি এবদো পত্রিকায় হামলার পর ফ্রান্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছিল।

তাহলে কি এই হামলা মুসলিম দেশগুলোতে নতুন করে আগ্রাসন চালানোর নতুন পরিকল্পনা? ১৫৩ জন ফরাসী নাগরিকের জীবনের বিপরীতে এবার কি ১৫৩ লাখ মুসলিমের জীবন কেড়ে নেয়া হবে?