ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আমাদের দেশের রাজনীতি আমার কাছে খিচুড়ীই মনে হয়। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা সেই খিচুড়ির পাতিলে ঘুটার মাত্রা কেবল বাড়িয়েই চলেছে। খিচুড়ির নতুন উপকরন – শিবির, পুলিশ আর আওয়ামীলীগ বলে সন্দেহ? ঘ্রাণ তো সেই আভাসই দেয়।

ছবিতে একজন পুলিশকে দেখা যায়। যার মাথা ফাটিয়েছে শিবির। ঘটনাটি মর্মান্তিক, দু:খজনক, ভীতিকর। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাথা ফাটলে আমাদের মাথার কী হবে কে জানে। পুলিশের উপর যে কারও আক্রমণের স্পর্ধা দেখানো মানে রাষ্ট্রের, রাষ্ট্রের সম্পদের এবং মানুষের জান মালের নিরপত্তকে বুড়ো আঙুল দেখানো। আমি দেশের একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পুলিশের পক্ষে অবশ্যই। শুধু তাদের অন্যায়ের পক্ষে না।

প্রথম আলো অনলাইন এ লেখাটা পড়লাম, শিরোনামটা হল, “শেষ বিকেলে শিবিরের তাণ্ডব, দর্শক পুলিশ”। কষ্ট করে আবার লিঙ্ক ধরে প্রথম আলো খুজে বের করবেন, তাই পুরো লেখাটাই কপি করে দিলাম।

“ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে সোনারগাঁও ক্রসিংয়ের দিকে ধেয়ে আসছে কয়েকশ শিবিরকর্মী। তাদের কিছুটা পেছনে জনা ত্রিশেক পুলিশ। শিবিরকর্মীরা একের পর এক গাড়ি ভাঙছে। আর নিস্ক্রিয় পুলিশ সদস্যরা নিরাপদ দূরত্বে দর্শকের ভূমিকায়।

সোনারগাঁ মোড়ে এসে দাঁড়িয়ে থাকা এক পুলিশ সার্জেন্টের মাথা ফাটিয়ে দিলো শিবিরকর্মীরা। জ্বালিয়ে দিলো তাঁর মোটরসাইকেল। তবুও দর্শক পুলিশ। শিবিরকর্মীরা চলে যাওয়ার বিশ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এলো। আহত সার্জেন্ট আজিজুল ইসলামকে নেওয়া হল হাসপাতালের পথে।

আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এমনই ছিলো রাজধানীর ফার্মগেট থেকে কারওয়ান বাজার হয়ে সোনারগাঁও মোড়ের দৃশ্য। এ সময় ওই এলাকায় রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন , বিকাল সাড়ে চারটার দিকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ফার্মগেট এলাকায় একটি মিছিল বের করে। সেখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কিছু কর্মী প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলেও শিবিরের হামলায় তারা চলে যায়। এরপর শিবিরকর্মীরা এগুতে থাকে কারওয়ান বাজারের দিকে। এটিএন নিউজের সামনে থাকা তিনটি মাইক্রোবাস তারা ভাঙচুর করে। এরপর কারওয়ানবাজার প্রজাপতি গুহার (আন্ডারপাস) মুখে এসে রাস্তায় এসে আগুন ধরায় তারা। এরপর সোনারগাঁয়ের মোড়ে থাকা এক পুলিশ সদস্যের মাথা ফাটিয়ে দেয় তারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল হাদিস প্রথম আলো ডট কমকে বলেন, শত শত শিবিরকর্মী ইট-পাটকেল নিয়ে এগিয়ে আসছিলো। আমাদের স্যার আজিজুল ইসলাম সোনারগাঁ মোড়ের ট্রাফিক কার্যালয়ের সামনে ছিলেন। তিনি মিছিল থেকে মোটরসাইকেলটি সরানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শিবিরকর্মীরা তার মাথা ফাটিয়ে দেয়। এরপর তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে।

ঘটনাস্থলে থাকা আইনমন্ত্রীর এপিএস আকসির এম চৌধুরীর মাইক্রোবাসটিও (ঢাকা মেট্টো-চ-৫১-৪৪-০৮) ভাঙচুর করা হয়। আকসির চৌধুরী প্রথম আলো ডট কমকে বলেন, ‘মন্ত্রী মহোদয় রুপসী বাংলা হোটেল থেকে একটি অনুষ্ঠান শেষ করে বাংলা মোটর হয়ে ফিরছিলেন। সামনে পুলিশের গাড়ি-এরপর মন্ত্রীর গাড়ি, তারপর আমার গাড়ি ছিলো। আমাদের গাড়িগুলো সার্ক ফোয়ারার মোড়ে এলে উল্টো দিক থেকে শিবির কর্মীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। মন্ত্রী মহাদয়ের গাড়িটি নিরাপদে গেলেও আমাদের গাড়িটির গ্লাস ভেঙে যায়’।

বিকেলের এই তাণ্ডবের কিছুক্ষণ পর সেখানে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। তিনি বলেন, ‘শিবিরকর্মীরা সব জায়গায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। এখানেও তারা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গাড়িতে আগুন দিয়েছে’। পুলিশের কি কোন প্রস্তুতি ছিলো না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি ছিলো। এ কারণে আগে থেকেই এসব এলাকায় পুলিশ মোতায়েন ছিলো’।”

লেখাটি পড়ে নিশ্চয় পুলিশ আর শিবিরের ক্রিয়া বিক্রিয়া বুঝতে পেরেছেন। আর পুলিশের যেকোনো ক্রিয়া বিক্রিয়া যে উর্দ্ধতন মহলের নির্দেশ ছাড়া হয়না তা কে না জানে। ফার্মগেট থেকে মিছিল নিয়ে শিবির কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গাড়ি ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে এল আর পিছে পিছে পাহারা দিয়ে পুলিশও তামসা দেখল। কী মজা।
অতএব খিচুড়ির ঘ্রাণ শুকিয়া মনে প্রশ্ন জাগে –

০১। ঘটনাটি বা ঘটনাগুলো কী শুধু জামাত শিবিরের একক পরিকল্পনা নাকি সাথে তলে তলে অন্য কেউ আসলেই যোগাযোগ করছে?
০২। বিএনপি থেকে জামাত সরে আসলে তার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিলম্বিত করার কোনও আশ্বাস তলে তলে কেউ জামাত কে দেয়নি তো?
০৩। এত ভয়াবহ পরিস্থিতি হওয়ার পরও কেন পুলিশ সারাশী অভিজান চালায় না?
০৪। শিবিরের সব নেতা কর্মীর চৌদ্দ গোষ্ঠীর নাম ঠিকানাই তো পুলিশের কাছে আছে, কিন্তু তেমন ধর পাকরের খবর তো আমরা পাইনা। তাহলে কী এসব পাতানো খেলা ?
০৫। দেশ প্রেম ট্রেম কিছুই না? ক্ষমতার লোভই কী সব?
০৬। ……… ?

শত শত প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়! প্রশ্নের উত্তর আশা করি না। ক্ষমতা এবং স্বার্থের রাজনীতিতে সবই সম্ভব। সবই বাস্তব।

ধন্যবাদ,
শাহরিয়ান আহমেদ।
13.11.12

সুত্র ও ছবি:
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-13/news/305124