ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

ভারতে যে জঙ্গি হামলা গুলো হয় কেন হয়। কী এমন কারণ যে সেখানে মানুষ নিজের জীবন উত্সর্গ করে ভারতের ক্ষতি করতে পারাটাকে নিজ জীবনের লক্ষ মনে করছে? প্রশ্ন হতে পারে, করা করছে? কেন করছে?

একটু ভাবুন নিজেই উত্তর পেয়ে যাবেন। তবুও নিজের ভাষায় ব্যখ্যা করি হয়ত বুঝতে সুবিধা হবে। অথবা নিজের মনের কথাগুলোই না হয় প্রকাশ করি।

ভারতের মুসলমান বিদ্দেশী নীতি, তাদের দেশের সরকার, সরকারী বাহিনী, কট্টর হিন্দু এবং শিখদের দ্বারা মুসলিম নির্যাতন সৃষ্টি করেছে হিংসা, ঘৃণা এবং ক্ষোভ। সবচেয়ে ভয়ানক ঘটনা হল যখন মুসলমানদের ধর্মীয় চেতনা ও মূল্যবোধে আঘাত আসে। তিলে তিলে তৈরি হয়েছে প্রতিশোধের নেশা। জমাট বাধা প্রতিশোধ জমাট বাধিয়েছে মানুষ। জমাট মানুষগুলো জমেছে দলে দলে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অথচ সংখ্যায় বিশাল, ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে অথচ চেতনায় একই রকমের, বিভিন্ন মতাদর্শের অথচ লক্ষ তাদের একটাই। প্রতিশোধ।

বাবরি মসজিদের মত বিশাল এবং ঐতিহ্যবাহী একটি পবিত্র স্থান ধ্বংস করে কট্টর হিংদুবাদীরা কিসের পরিচয় দিয়েছিল? ভারতের হাজার হাজার হিন্দু- মুসলমান এক হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। গুজরাটে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করে কট্টর হিন্দুরা সারা দুনিয়ার সভ্য মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। লুটপাট, হত্যা, ধর্ষণ সবই তো চলেছিল তখন।

আমরাও পার করেছি এমন একটা সময় যখন বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল পাকিস্তানের সেনারা। কম যায়নি শয়তান রাজাকার, আলবদর। আমাদের রক্ত মুক্ত করেছিল জাতিকে। আমরা আজ স্বাধীন। আমরা গর্বিত আমাদের বীর সন্তানদের জন্য। যারা যুদ্ধে নেমেছিল তারা ছিল আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর পাকিস্তানের কাছে সন্ত্রাসী।

আমি কোনভাবেই বলছিনা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা, কিন্তু ভারত কোন ভাবেই থামাতে পারবে না- নির্যাতিত মানুষের সন্তানদের, ধর্মীয় চেতনায় আঘাত পাওয়া টগবগে রক্তও থামবে না।

আগেও লিখেছি, নীতি ও মানুষিকতা না পরিবর্তন না করলে হয়ত ভবিষ্যত পরিণতি আর খারাপ হবে। আমি জঙ্গি হতে চাই না, আমার পক্ষে সম্ভবও না আর আমার ইচ্ছাও নাই। কিন্তু ভারত আমাকে জঙ্গি বানাতে চায়, আমাকে জঙ্গি হতে উসকানি দেয়। আমি না হলে অন্য কেউ হবে, সে না হলে আরেক জন হবে। দু চারটা জঙ্গি না থাকলে কী বলে বাংলাদেশকে চাপে রাখবে। কিভাবে সীমান্তে মানুষ মারবে..।