ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ঘটনা আড়াল করার বিশেষ কৌশল সারা বিশ্বেই চালু আছে। কোনও একটি বিশেষ ঘটনাকে আড়াল করতে এমন একটি ঘটনা ঘটানো হয় যাতে মানুষ এবং সংবাদ মাধ্যম পূর্বের ঘটনাটি ভুলে পরের ঘটনায় ব্যস্ত হয়ে যায়। কৌশলটি ফলপ্রসূ হওয়ায় এর ব্যবহার ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। হতে পারে ঘটনটি কাকতালীয়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কাকতালীয় মিল আমার মত অনেককেই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে দিয়েছে।

বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত রেল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার পর পুরো রেল যেন তার আড়ালে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। ঝকঝকে রেল, পরিষ্কার বগি, সময় মত টিকিট আর উন্নত যাত্রী সেবার স্বপ্নে জাতি পাগল প্রায় হয়ে যাওয়ার অবস্থা। এরকম একজন লোককে কিনা শেখ হাসিনা মন্ত্রী না বানিয়ে বসিয়ে রেখেছিল? সবখানে এই একটাই প্রশ্ন। রেলের কাল বিড়াল খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়ে তিনি তো হিরোই হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু একটি ঘটনাই তো অঘটন ঘটিয়ে ছাড়ল….

সাবেক মাননীয় রেলমন্ত্রীর এপিএস এর গাড়িটি বস্তা ভরা টাকাসহ বিজিবি সদর দপ্তরে আটক হওয়ার পর সারা দেশে বিশাল হই-চৈ পড়ে গিয়েছিল। রেলের তত্কালীন একজন মহা ব্যবস্থাপকসহ মন্ত্রীর এপিএস খোদ মন্ত্রীর বাসাতেই যাচ্ছিলেন, মাঝপথে গাড়ির চালক বস্তাভর্তি টাকা সহ গাড়িটি বিজিবি সদর দপ্তরে ঢুকিয়ে দিলে ভেজালের সূত্রপাত। উত্তাপ ছড়ালো সারা দেশে, সংবাদ মাধ্যমের হেডলাইনেও আসতে থাকলো বস্তাভরা টাকা উদ্ধারের নানা কাহিনী। পরদিন থেকেই গাড়ি চালক নিখোঁজ। কেলেংকারির ঘটনায় চারদিকে তোলপাড় শুরু হলে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় মন্ত্রী মহাদয়ের পদত্যাগ ছাড়া গতি হল না। আর বাকি সব ঘটনাই সবাই জানে। শুধু অজানা রয়ে গেল টাকার উত্‍স, পরিমাণ, গন্তব্য, জড়িতদের নাম এবং গাড়ি চালক দুর্ভাগার পরিণতি….

মাঝরাতে হঠাত্‍ যখন ফোন বেজে উঠল তখন কী মিসেস ইলিয়াস ভেবেছিলেন, ভয়াবহ দুঃসংবাদ তার জন্য অপেক্ষা করছে। থানা থেকে ফোন করে জানানো হল দরজা খোলা অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা গাড়িটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। গাড়ির মালিক এবং বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী তার গাড়ি চালকসহ নিখোঁজ। একের পর এক গুমের খবরে আতঙ্কিত দেশবাসী আবার ভয়ে আঁতকে উঠল। বিএনপি সোজা সরকারের দিকেই আঙুল তুলল। কিন্তু নিজেরা বিভ্রান্ত হয়ে কিনা কে জানে সরকার নিজেই সবাইকে বিভ্রান্ত করা শুরু করল। সরকারের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিদের কিছু কিছু বক্তব্য সারা জাতিকেই দিশাহারা করে দিল। তাদের কেউ কেউ বলল বিএনপি ইলিয়াস আলীকে লুকিয়ে রেখেছে আর কেউ কেউ বলল খালেদা জিয়ার পরামর্শে ইলিয়াস নিজেই অন্তর ধ্যান করেছে..! এরপর আর কি, ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া কে কেন্দ্র করে সারা দেশে যা হয়ে গেল তা ছিল ভয়াবহতা। সরকার এবং বিরোধীদল কেউ কম না, করাই গরম হওয়ার আগেই তেল গরম হওয়ার অবস্থা। পরিণতি, হরতাল বাড়তে বাড়তে পাঁচ দিনে গড়াল। ইস্যু একটাই, ইলিয়াস আলী গুম। ঘোষণা এল, ইলিয়াস আলীকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আমি নিজেও ভাবিনি এত বড় একটা ইস্যুকে এভাবে চাপা দিয়ে দেবে সরকার। মাত্র দুইটি মামলা, তারপর সব উধাও। এবার সংবাদ শিরোনাম, বিএনপি নেতারা মামলার ভয়ে উধাও হয়ে গেছে। এরপর পুলিশের তল্লাশি অভিযান এবং ধরপাকড়ে নাটকীয় চেষ্টায় সবার সবার মনোযোগ কেড়ে নিলো। কিভাবে যেন গুমের ইস্যুটাও আড়াল হয়ে গেল।

এরপর…। জাপানের উপ প্রধানমন্ত্রী, হিলারি, প্রণব আর কত কাহিনী..।

রেল কেলেংকারির ঘটনার অগ্রগতি, টাকার পরিমাণ, মালিক, গন্তব্য, গাড়ি চালকের পরিণতি আমাদের জানা হল না। আর ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভারের ঘটনাটির অগ্রগতিও আমাদের জানা হবে না হয়ত …..।

কিছু প্রশ্ন রয়েই গেল, কিছু সন্দেহও তৈরি হল….।

লেখক..
শাহরিয়ান আহমেদ।