ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশ হঠাত্‍ করেই গর্জে উঠছে। নেগেটিভ পজিটিভ পরে দেখা যাবে, আগে আমিও কিছুক্ষণ গর্জে নেই ! ভাবছেন হঠাত্‍ করে কী এমন হল যে আমি বিদ্যুত্‍ চমকিয়ে গর্জন শুরু করছি…? এই মুহুর্তের গরম খবর হল, অনেকেই জানে নোবেল কিভাবে আসে! সাবাস মন্ত্রীজি! এতবড় খুশির সংবাদ দিলেন, ফর্মুলা হাতে পেলে আমি এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া শুরু করতে পারতাম! যাই হোক, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে একটা করে নোবেল থাকবে আমরাতো সেই স্বপ্ন দেখতেই পারি…..

“ওস্তাদ ডাইনে পেলাস্টিক বায়ে আবুল” কমন এই ডায়লগটা তো মনে হয় সবাই জানেন ? যারা জানেন না তাদের জন্য বলি, কদিন আগে বাসের হেলপার কন্ডাক্টর পোলাপান গুলা সারাদিনই এই ডায়লগ দিত “ওস্তাদ ডাইনে পেলাস্টিক বায়ে আবুল”। পেলাস্টিক মানে প্রাইভেট কার আর আবুল মানে হল ভাঙ্গা রাস্তা। আপনাদের নিশ্চয় মনে আছে সাবেক মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেনের কথা। রাস্তা ভেঙে ভেঙে বিশাল বিশাল গর্ত হয়ে গিয়েছিল, সড়ক মহাসড়কে পরিবহন ধর্মঘট মানুষকে কম ভোগায়নি।

যাইহোক, পদ্মা সেতু কেলেংকারির পর মন্ত্রী মহাদয়ের অপসারণ হলে আমাদের অত্যন্ত প্রিয় ওবায়দুল কাদের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নিয়েই কেল্লাফতে! না, তিনিই তো প্রথম যিনি বিশ্ব ব্যংকের বিরুদ্ধাচরণ করার দুঃসাহস দেখলেন। বিশ্ব ব্যংকের ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলে মালয়েশিয়ার সাথে পদ্মা সেতু চুক্তিটা প্রায় করেই ফেলেছেন..। সারা বিশ্ব দেখল বাংলাদেশ পারে ঘাড়তেড়ামি করতে। সাবাস মন্ত্রী মহাদয়! সাবাস বাংলাদেশ..! আরে ভাই লাভ ক্ষতির হিসাব পরে হবে, বাংলাদেশের গর্জনটা তো আগে শুনতে দেন …!

দুই। বিসিবি সভাপতির পাকিস্তান সফর এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তানে খেলা নিয়ে ব্যাপক মাত্রায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্তেও তিনি পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রতি ভারতের অবজ্ঞা এবং বিপিএল এ ভারতীয় কোনও ক্রিকেটারদের খেলতে না দেওয়ার হিংসাত্মক আচরণের যথাযথ প্রতিবাদ ছিল। যদিও হাইকোর্টের রায়ে সফরটি আর হয়নি। কিন্তু সাবাস তো তাকে দিতেই হবে! ঘাড়তেড়ামো না করলেও কী আর মানুষ দাম দেয়….

আর প্রতিদিনের ছোট খাটো গর্জন উল্লেখ করব না, লেখা বড় হয়ে যাবে। এই গর্জন গুলো ছোট খাটো হলেও গলার আওয়াজ অনেক উচু থাকে। এমন গর্জনেই বোধহয় ‘সাগর- রুনি’ মামলার সমস্ত আলামত পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। তাই তো তিন মাসেও অগ্রগতির কোন খোজ আমরা পেলাম না। খুনীরা আড়ালেই রয়ে গেল। যাইহোক, লাভ লোকসানের কথা পরে বলব বলেছিলাম।

শেষমেষ। হিলারি এলেন, বিশ্বের সবচাইতে প্রভাবশালী পররাষ্ট্র মন্ত্রী। সরকার, বিরোধীদল, সাংবাদিক, বাচ্চা সহ সবার সাথেই উনি মত বিনিময় করলেন। বাদ গেল না উনার অন্তরঙ্গ দুই বন্ধু ডাঃ ইউনুস ও ফজলে হাসান সাহেবরা। কিন্তু হিলারির উড়াল দেয়ার পরই শুরু হল গর্জন। এ তো একদিক দুদিক থেকে না, বজ্রপাত আরম্ভ হল চারদিক থেকেই। সবার মুখে খই তো ফুটলই, কথার গরমে খই ভাজার করাই ফুটে যাওয়ার দশা। মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফ বললেন অনেকেই জানে কিভাবে নোবেল আসে, ত্রাণ বা ভিক্ষার চাল আর ক্ষুদ্রঋণে হাজার বছরেও মানুষের উন্নয়ন হবে না। সমালোচনা করেন ‘আড্ডা উইথ ইউথ’ অনুষ্ঠানের। হিলারির বন্ধুদের আর তার আড্ডা অনুষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করে হয়ত হিলারিকেই সতর্কবার্তা দিল বাংলাদেশ। ভবিষ্যতের লাভ ক্ষতি …।

সাবাস মন্ত্রীজি! বিদেশী প্রভুদের তুলু তুলু করার দিন শেষ, অনেক সমস্যার মধ্যে এইটা ভেবেও যদি কিছুটা সুখ পাই তাতেই বা দোষের কী…? এই খুশিতে কয়েকটা দিনতো লাফা লাফি করে নেই, পরে আবার কী না কী হয় কে জানে ! দূর ভবিষ্যতের লাভ ক্ষতি না হয় পরে কোনও একদিন হিসাব নিকাশ করা যাবে …।

শাহরিয়ান আহমেদ।