ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

একটু খারাপ ভাষা আর কড়া কথা না বলে আজ বোধহয় আর পারব না। এই পৃথিবীর সবচাইতে লোভী, আর অসভ্য রাষ্ট্র আমেরিকার কথাই বলছি। এদিক সেদিক মুখ দিতে দিতে জিহ্বা এতই বড় হইছে যে, ভয়ংকর দানবের মুখের জিহ্বা থেকে সবসময় কুকুরের মত লালা ঝরে। স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে মত প্রকাশের অধিকার আমার আছে, কিন্তু লেখাটি প্রকাশ নাও হতে পারে ভেবেই আমি বেশি কিছু লিখব না। আমি বলছি না সকল আমেরিকানদের কথা, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের এবং তার জনগণের প্রতি অবশ্যই আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু তাদের প্রতি নয় যারা সুন্দর বাসযোগ্য পৃথিবীটাকে নরক বানাতে চায়, নিজ স্বার্থের জন্য অন্যের সর্বস্ব কেড়ে নেয়, নিজের নিরাপত্তার কথা বলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন চিরতরে শেষ করে দেয় । যারা নিজ দেশের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য দেশের পর দেশ, সভ্যতার পর সভ্যতা ধ্বংস করে দেয় তাদেরকে আমি অবশ্যই ঘৃণা করি। সারা দুনিয়ার মানুষ তাদের ঘৃণা করে। মানুষের অভিশাপ কোনদিন তাদের পিছু ছাড়বে না।

১১ মে ২০১২, ‘বিতর্কিত সামরিক কোর্সের নিন্দায় পেন্টাগন’ শিরোনামে বিবিসিতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক প্রশিক্ষণ কলেজে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক লড়াই’ চালানোর যে কোর্স পড়ানো হচ্ছিল, দেশটির সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আজ তার নিন্দা করেছেন।’

‘ভার্জিনিয়ার জয়েন্ট ফোর্সেস স্টাফ কলেজে এই বিতর্কিত কোর্সটি পড়ানো হতো। এতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের পাশাপাশি ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কার ওপর সম্ভাব্য পরমাণু বোমা হামলার কথাও ছিল।’

এই বিতর্কিত কোর্সটির কিছু পাঠ্য সামগ্রী কেউ একটি ওয়েবসাইটে পোস্ট করার পর এটি গণমাধ্যমের নজরে আসে।

‘লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ডোলি তার কোর্সের একটি প্রবন্ধে লিখেছেন, “এখন আমরা বুঝতে পারছি মধ্যপন্থী ইসলাম বলে কিছু নেই। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সময় এসেছে তার আসল উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে জানানোর। এই বর্বর আদর্শকে আর সহ্য করা হবে না। হয় ইসলামকে নিজে থেকে বদলাতে হবে, নয়তো ইসলাম যাতে নিজে থেকই ধ্বংস হয় আমরা তার ব্যবস্থা করবো।”

এতে তিনি আরও বলেছিলেন, সশস্ত্র সংঘাতের সময় বেসামরিক লোকজনকে সুরক্ষা দেয়ার যে কথা জেনেভা কনভেনশনে আছে, তা এখন আর প্রযোজ্য নয়।

এরপর তিনি বলেছেন, জার্মানীর ড্রেসডেন, জাপানের টোকিও, হিরোশিমা বা নাগাসাকিতে যা করতে হয়েছিল, ইসলামের পবিত্রতম নগরী মক্কা বা মদিনা ধ্বংসের জন্য সেই পথই বেছে নিতে হবে। ”

একজন সাধারণ মুসলমান হিসেবে আমি এই রকম জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যদি মুসলমান নাও হতাম তাও নিন্দা জানাতাম। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান বা যে কোনও সুস্থ মানুষই এই ঘটনার নিন্দা জানাবে। আমেরিকার সামরিক কলেজে এমন জঘন্য শিক্ষা দেযা হয়, এই কথা ভেবে আমি কেন কেউই অবাক হয় না! এমন কাজ কেবল ওখানেই হতে পারে। পারমাণবিক বোমা ওরা আগেও মেরেছে, সেই বোমার বিষে জাপান এখনো ধুকছে। আফগান আর ইরাক তো শেষই হয়ে গেল। সারা পৃথিবীর সব দেশেই ওরা বিশৃঙ্খলা করায়।

যাইহোক, আমেরিকার মত দেশে কোনও কাজই সরকারের নজর এড়ায় না। যেখানে ওরা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর খুটিনাটি নাড়াচাড়া করে, সেখানে এতবড় একটা বিষয় তাদের অজান্তে হচ্ছে তা কেউই বিশ্বাস করে না। ইন্টারনেট এ ঘটনাটি ফাঁস হওয়ায় এখন তারা নিন্দা প্রকাশ করার ভণিতা শুরু করেছে। এই জামানার সবচাইতে বড় অপরাধী দেশ তো তারাই, লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যার দায় কোনও ভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না আমেরিকা। ধিক্কার জানাই আমি তাদের প্রতি। ছিঃ ।

শাহরিয়ান আহমেদ।
13.05.2012।