ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

সাগর-রুনি হত্যার বিচার, তদন্তের অগ্রগতি এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সবচাইতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে ব্লগাররা। একের পর এক কর্মসূচী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে অক্লান্ত ব্লগাররাই চাপে রেখেছে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহলকে। এই চাপ শুধুই সরকারের উপর না, ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের উপরও। দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতে অনেক প্রশ্ন এবং সন্দেহ সবসময়ই মাথায় ঘুরপাক খায়। বেশিরভাগ প্রশ্ন এবং সন্দেহের কোনও কুল-কিনারা খুঁজে না পেয়ে দিশাহারা থাকি।

পুলিশ বা র‌্যাব তাদের তদন্তে কী পেয়েছে তা আমি জানিনা। তবে এইটুকু অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে, কোনও সাধারণ হত্যাকান্ড এটি নয়। সাধারণ কোনও উদ্দেশ্যেও ( যেমন চুরি, ডাকাতি, ঝগড়াঝটি বা এইরকম অন্য কিছু ) তাদেরকে হত্যা করা হয়নি। হত্যার উদ্দেশ্য ও জড়িতরা যদি সাধারণ হতো তাহলে তদন্ত, গ্রেফতার এবং বিচার হয়ত এতদিনে শেষ হয়ে যেত।

অতএব, ঘটনার হোতা কোন বিশেষ বাহিনী ( দেশী বা আন্তর্জাতিক) অথবা কোন সংগঠন ( দেশী বা আন্তর্জাতিক ), জনগণের সাথে সম্পৃক্ত কোন দল বা গোষ্ঠী ( রাজনৈতিক বা এনজিও ), শক্তিশালী অপরাধী চক্র অথবা বিশেষ কোন ব্যক্তি হওয়াটাই স্বভাবিক। উপরে উল্লেখিত যেকোন একটি নাম যদি আসলেই এই খুনের পেছনে থেকে থাকে তাহলে, তাদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শক্তিশালী কু-চক্রান্ত ও আন্তর্জাতিক চাপ তদন্তের অকাল মৃত্যু ঘটাতেই পারে। পূর্ব পরিকল্পিত এবং প্রফেশনাল হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করা এমনিতেই কঠিন। সাগর-রুনির ক্ষত-বিক্ষত লাশ এবং ছুরিকাঘাতের নমুনা দেখে বিজ্ঞ জনেরা “অপেশাদার লোকের কাজ” বলে মন্তব্য করেছিল। পেশাদার খুনীর পেশাদারী এখানেই, সে চেয়েছে সবাইকে বিভ্রান্ত করতে। আমরা বিভ্রান্ত হয়ে নানান রকম কাহিনী পাততে শুরু করলাম, পুলিশ বিভ্রান্ত হয়ে এদিক সেদিক ছুটা-ছুটি করে আদালতে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করল। সাহারা খাতুনের হুংকার বাতাসেই মিলিয়ে গেল।

আমরা আশা করি র‌্যাব এই তদন্তের ইতি টানবে খুব শীঘ্রই। যদি তাদের কাজে উপর মহলের হস্তক্ষেপ না থাকে তাহলে তারা খুনের যথাযথ আলামত সংগ্রহ ও সে অনুযায়ী খুনিদের গ্রেফতার করতে পারবে। কিন্তু যদি না হয় তাহলে, না হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। উপরে উল্লেখিত নাম গুলোর যেকেউ যদি জড়িত থাকে তাহলে তারা নানাভাবে তদন্ত কাজ বাধাগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি মাথাব্যথার কারণ ব্লগারদের উপরও পড়তে পারে শকুনের নজর। তৈরি হতে পারে নতুন কোনও লিস্ট। বিষয়টি থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য আবার জন্ম হতে পারে অন্য কোনও ঘটনার, তৈরি হতে পারে নতুন ইস্যু।

আমি ব্লগারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আগে থেকেই জানিয়ে রাখতে চাই, কেউ যদি এমন চিন্তা করার স্বপ্ন দেখতে চায় তাহলে স্বপ্ন শুরু হবার আগেই তার ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়া হবে। ব্লগাররা কারও রক্তচক্ষু ভয় করে না। ব্লগাররা কোন কু-চক্রান্ত গনায় ধরে না।

শাহরিয়ান আহমেদ।
14.05.2012।