ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

জাতিসংঘে বাংলাদেশ পুলিশ। শান্তির দূত, মানবতার সেবক, বিশ্বে দেশের ভাব মূর্তি উজ্জলকারী, কত কত উপাধি….। আর বাংলাদেশে ..? আতঙ্কের অপর নাম। পরিচয়, জাত, ধর্ম, কিছুই সে চেনে না। আওয়ামি লীগ, বিএনপি, কমিউনিস্ট, জামাত, ছোট বড়, ছাত্র শিক্ষক, ব্যবসায়ী পেশাজীবী, নারী শিশু কাউকে মানে না। যার হাতে আলাদীনের চেরাগ থাকে ওরা শুধু তার গোলাম। বাবরের পর চেরাগের মালিক সাহারা।

বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত, অশান্ত এলাকায় আমাদের পুলিশ শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে দীর্ঘদিন যাবত। কুড়িয়েছে সুনাম, খুইয়েছে জান। ১৯৮৯ থেকে এই পর্যন্ত তারা কাজ করে যাচ্ছে নিবেদিত প্রাণ পুলিশ হিসেবে। নামিবিয়া, কম্বোডিয়া, হাইতি, সুদান,পূর্ব তিমুর, রুয়ানদা, সিয়েরা লিওন, আইভরিকোস্ট, আফগানিস্তানসহ আরও কত কত নাম। সুনাম, সুখ্যাতি আর বিদেশী প্রভুদের আনুকূল্য লাভের ভাল উপায় বটে।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত পুলিশ বাংলাদেশের প্রধান আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা। আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত না হলেও পুলিশ বাহিনীর লাঠি সজ্জা বেশ। লাঠি- লাথি, কিল- ঘুষি মারার দক্ষতায় এরা পৃথিবীর যেকোনো বাহিনীকে পিছনে ফেলার যোগ্যতা রাখে। বড় বড় রাজনৈতিক নেতা (যারা কিনা সাবেক মন্ত্রী), গন্য- মান্য বিশিষ্ট জন, বুদ্ধিজীবী, ছাত্র শিক্ষক, নারী শিশু এবং আমজনতা (হাজারও শ্রেণী পেশার মানুষ) পিটিয়ে,কিলিয়ে, ঘুষিয়ে, লাথি মেরে পুলিশ ইতিমধ্যে দক্ষতার প্রমাণ রেখেছে। পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার শুরু হয় মূলত গত বিএনপি সরকারের আমল থেকে। পুলিশ বন্দী হয়ে যায় আলাদীনের জাদুর চেরাগের ভেতর। সররাষ্ট্র মন্ত্রী বাবর পুলিশকে ব্যবহার করেন সরকার এবং রাজনৈতিক স্বার্থে। লাই পেয়ে পুলিশও বেপরোয়া হয়ে যায়। জাতীয় নেতাদের ( মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল, মেনন, নাসিম, আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও অনেকেই) এভাবে পেটানোর দৃশ্য জাতি আগে দেখেনি। পুলিশের এতটা দুঃসাহস আর আগে দেখা যায় নি। আর সাংবাদিক পেটানোর রুটিন কাজটি চালু হয়েছিল তখনই। এসব বিষয়ে বিএনপি নেতারা উদাহরণ টানতেন, তাদেরকে একইভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। তারা পুলিশকে শৃংখলে না এনে আরও বেপরোয়া করে তুলেছিল।

পুলিশের বেপরোয়া সেই আচরণের অনেক সমালোচনা হয়েছে, কোনও লাভ হয় নি। অনেক লেখালেখি হয়েছে, কেউ পাত্তা দেয়নি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন আচরণে আমরা চমকে গিয়েছিলাম, আঁতকে উঠেছিলাম। মানবাধিকারের লংঘন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ছিল দেশী বিদেশী মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তাতে কোনও লাভ হয়নি। কারও টনক নড়েনি। অত্যাচারীর রাজত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় না, পরিণতি যা হবার তাই হয়েছে। বাবর বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হয়ে বছরের পর বছর জেলে বন্দী। আওয়ামি লীগ তাদের প্রতিশোধ নেবে না তা কী করে হয়, এতটা ক্ষমাশীল রাজনৈতিক দল আমরা আওয়ামি লীগকে কী করে মনে করি?

দেশের মানুষকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করে আওয়ামি লীগ আবার ক্ষমতায় এল। পুরোনো এবং অভিজ্ঞ নেতাদের সরিয়ে দিয়ে নতুনের কাধে দায়িত্ব তুলে দিল। কিন্তু কুকুরের পেটে ঘি হজম হল না। সুখ নিদ্রার স্বপ্ন শুরু হবার আগেই দুঃস্বপ্নে রূপ নিল। আওয়ামি লীগ পুলিশকে সংস্কারের পরিবর্তে আরও বেপরোয়া করে তুলল। ভয়াবহতার মাত্রা পূর্বের যেকোনো অবস্থাকে হার মানলো।

অদক্ষ এবং অনভিজ্ঞ এক মহিলার নেতৃত্বে পুলিশের সকল অর্জন ধুলার মত উড়তে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চালানোর জন্য দরকার বিশাল সাংগঠনিক দক্ষতা। সাহারা খাতুন এর আগে কবে সংগঠনিক যোগ্যতার প্রমাণ করেছিল, যে শেখ হাসিনা তাকে এই পদে বসালেন? কারও কথায় শৃঙ্খলা তৈরি হয়, কারও কথায় বিশৃঙ্খলা। সাহারা খাতুন তার বড় কথা অব্যাহত রেখেছেন। কাজের কাজ কিছুই না। হাতেগনা কিছু দুঃস্কৃতি, সন্ত্রাসী লোকের কাছে সবাই জিম্মি হয়ে গেল। বিশাল এই পুলিশ বাহিনী এখন মানুষের আতংকের সবচেয়ে বড় কারণ। অল্প কিছু সন্ত্রাসী পুলিশের এই সর্বনাশ করছে। এরা দলীয় লোক, রাজনৈতিক নিয়োগ, ক্ষমতা পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের ক্ষমতার সমাপ্তি হয়। আওয়ামি লীগ হয়ত ভুলেই যাচ্ছে তাদের ক্ষমতা শেষ হলে আবার অন্য কেউ ক্ষমতা নেবে। হয়ত সেটা বিএনপি। তারপর শুরু হবে এরচেযেও ভয়াবহ নির্যাতন। আমার এক শিক্ষক বলতেন, পাটা- পূতায় ঘষা- ঘষি, মরিচের দশা শেষ। আমরা তো সেই মরিচ, যাদেরকে সবাই পিষে মারছে …

শাহরিয়ান আহমেদ
01.06.2012

কৃতজ্ঞতা:
http://en.wikipedia.org/
http://www.google.com/search