ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

যুদ্ধের দামামা বাজতে শুরু করেছে। এবারের যুদ্ধ সংসদ বনাম আদালত। এ লড়াই যে সহজেই থামছে না, সন্দেহ নাই। অতএব বিশাল বিপর্যয়ের আশঙ্কা। তাহলে কী আবার কোনও অশনি সংকেত..? কে বড় আদালত নাকি সংসদ? বিচারপতি নাকি স্পিকার? দেশের প্রত্যেকটি জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়াতে এমনিতেই বেকায়দায় রয়েছে সরকার। তার সাথে সরকারী দলের লোকদের সাথে মুখোমুখি অবস্থানে দেশের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, আইনজীবী, ছাত্র শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবীসহ সবাই। সর্বশেষ আদালতের সাথে। এই অবস্থায় বিরোধীদলও সুযোগ কাজে লাগতে চাইবে, এবং আন্তর্জাতিক কুচক্রীরা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যদি কোনও বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেয়, তাহলে এটাই হতে পারে তাদের জন্য মোক্ষম সময়। ফলাফল চরম অস্থিরতা।

যদি এইরকম কোনও অস্থিতিশীল অবস্থা দেশে তৈরি হয় তবে, হয়ত আবার সেনাবাহিনীকে দেখা যেতে পারে রাজপথে। কিন্তু প্রতিবার যে সেনারা ক্ষমতা দখল করে আবার বুঝিয়ে দিয়ে যাবে তা নাও তো হতে পারে। অথবা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কোনও শত্রু দেশ যদি বাংলাদেশের ভেতরে গৃহ যুদ্ধ লাগাতে চায়, কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে মরনাস্ত্র তুলে দেয় তাতে অবাক হবার কী থাকবে। দেশের শাসন ভার যদি শত্রুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় তাহলে চিরদিনের গোলামি মাথা পেতে নেয়া ছাড়া কী উপায়। অথবা সেনাবাহিনীর বিপদগামী, বিদেশী এজেন্ট, ঊশৃংখল, বিদ্রোহী বা ক্ষমতা লোভী কোনও গ্রুপ যদি ক্ষমতা হাতে তুলে নেয় বা নেয়ার চেষ্টা করে বা করানো হয় তাতেও দেশের সর্বনাশ এবং গৃহ যুদ্ধের আশঙ্কা। হয়ত এসব কথা চিন্তা করেই পরিস্থিতি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবার আগে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ক্ষমতার ছড়ি হাতে তুলে নেয়। ভাগ্য ভাল হলে ফিরিয়ে দেয়।

যাইহোক, জাতীয় সংসদ আর আদালতের মধ্যে কার সম্মান বেশি আর কার কম তা আমি জানি না। বিচারপতি আর স্পিকারের মধ্যে কে বড় আর কে ছোট আমি তাও জানি না। আমরা দেশের সাধারণ জনগণ, আমরা খেয়ে পড়ে সম্মানের সাথে বাচতে চাই। দেশকে নিয়ে খেলার অধিকার আপনাদের কেউ দেয় নি। দেশের রাজনীতিতে শত্রুদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার কোন অধিকারও কারো নাই। আপনারা আমাদেরকে মুক্তি দিন। এ দেশকে মুক্তি দিন।

শাহরিয়ান আহমেদ
06.06.2012