ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

একটা ঘটনা বলি, একটি ছেলের গলার ভেতর কাপড় গুজে দেয়া হয়েছিল, যাতে সে পানি পান না করতে পারি। তৃষ্ণায় ছটফট করে, দম বন্ধ হয়ে মরে যাবে। বার বার ঢোক গিলছিল কিন্তু কাজ হচ্ছে না, মুখের লালা শুকিয়ে গেছে। পানির তৃষ্ণায় শ্বাস নালি শুকিয়ে ছোট হয়ে গিয়েছিল, লম্বা লম্বা শ্বাস টেনে কাজ হচ্ছিল না। অবশেষে অসহ্য যন্ত্রনায় দপিয়ে, হাত পা ছুরা-ছুরি করতে করতে শরীরটা নিস্তেজ হয়ে গেল। চোখ বন্ধ করে একটু উপবধি করুন। যদি আপনি হতেন সেই জায়গায়।

বাংলাদেশের গলায় ভারত কাপড় গুজতে শুরু করেছে, পানির তৃষ্ণায় শুকিয়ে, ছটফট করে মরে যাচ্ছে একেকটি নদী, মাছ, প্রাণ। এক ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে বাংলাদেশ হেলে পড়তে শুরু করেছে। ব্যাপারটা যদি হরতলে গাড়ি পোড়ানোর মত হতো তাহলে হয়তো সারা দেশ দেখতো। ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে আমার দেশের প্রাণ। নদীকেই তো বাংলাদেশের প্রাণ বলা হয়। বিশাল বিশাল নদী শুকিয়ে ধুধু বালুচর হয়ে গেছে। মাকড়সার জালের মত সারা দেশে বিছিয়ে থাকা খাল গুলোতে শুধু বৃষ্টি হলেই পানি জমে। নদীর বিশাল বিশাল আইর মাছ, বওয়াল মাছ এখন আর বাজারে উঠে না। নদী নিয়ে এখন আর গল্প কবিতা হয়। কারণ নদী এখন বেপরোয়া, সে বাংলাদেশ ভারত চেনে না। সে জানে তার গলায় কেউ পারা দিয়েছে। তাইতো পদ্মার হুংকারে বিলীন হয়ে যাচ্ছে মাইলের পর মাইল। ওর কান্না যদি আমরা শুনতে পেতাম। পৃথিবী যদি বুঝতো ওর যন্ত্রনা।

শাহরিয়ান আহমেদ
08.06.2012